somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাত্র ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে হত্যা করা হয় সালমান শাহ্কে

১১ ই আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মৃত্যুর অনেক বছর পর অমর নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুরহস্য ধীরে ধীরে আশার আলো দেখছে। ২১ বছরের কিনারা করতে অপারগ প্রশাসন যা পারেনি আসামি রুবির ভিডিও প্রকাশের পর সেটি বেরিয়ে আসছে। দেশীয় গণমাধ্যমের কর্মীদের কর্ম সাফল্যের কারণে নায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে । নতুন এই তথ্যানুযায়ী সালমান শাহকে হত্যা করার জন্য চুক্তি হয়েছিলো মাত্র ১২ লাখ টাকা। এই চুক্তির চূড়ান্ত রুপেই তাকে হত্যা করা হয়।

এই ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেনসালমানের স্ত্রী সামিরার মা লাতিফা হক। এই তথ্য ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি রিজভী জানিয়েছিলেন। রিজভী বলেছিলেন, সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক, ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।

কিভাবে হত্যা করা হয় সেই ঘটনা নিয়ে আসামি রিজভি আরো জানায়, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ এসে সালমানের পা বাধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে। এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলায়।

রিজভী জবানবন্দিতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আসামি রিজভি ছাড়াও ছাত্তার ও সাজু নামে আরো দু’জনের নাম উল্লেখ করেন। তবে প্রত্যক্ষ আসামির এই জবানবন্দির পরও তালিকায় যাদের নাম ছিল সবসময়ই তারা ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এরপর হত্যার এক বছর পারও হলে সিআইডির রিপোর্টে বলা হয়েছিলো, এটি আত্মহত্যা। অবশেষে হত্যার ১২ বছর পরেও জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির রিপোর্টে একই কারণ বর্তানো হয়। কিন্তু কোন আসামি বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কোন অস্তিত্ব নেই রিপোর্টগুলোতে। যা জানতে পেরে দু’বারই নারাজ হয়ে অসম্মতি দেন সালমানের পরিবার। তাদের দাবি সবসময়ই ছিল সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি। নায়ককে হত্যা করা হয়েছে।

অতপর ২০১৫ সালে র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলে আইনী জটিলতায় তাও বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালে মামলাটি নিম্ম আদালতে পাঠানো হলে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ পিবিআইকে।

ডিআইজি সদস্য বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘গাড়িচালক ও গেটকিপারকে খুঁজছি ওখানে খালেক সহ দুইজন ছিল। আমি তো সহকারী আবুলকে খুঁজছি। যেই ডাক্তার সার্টিফিকেট দিয়েছেন তাকে খোঁজা হচ্ছে, আমরা কাছাকাছি চলে এসেছি। ’

এদিকে সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা জানার বিষয়টি যে আগে থেকেই রুবি জানতেন তা বোঝা যায় রিজভির জবানবন্দিতে। হত্যার আগে রুবির বাসায় যান হত্যাকারীরা।

ফারুক আহমেদ, বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ‘এই মামলার তদন্তের সময় রিজভী কিন্তু জেলখানায় ছিলেন। কিন্তু কখনো রিমাণ্ডে নেয়নি। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এমন কোন স্টেটমেন্ট দেখি নাই। ইনভেস্টিগেশনে যেই দায়িত্ব ছিল আমার মনে হয়েছে তারা সঠিকভাবে করতে পারে নাই। ’

অথচ ২১ বছর পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সালমান শাহ হত্যা মামলার অনেক কাগজপত্র। বারবার নারাজি দেয়ার পরও তদন্ত বা মামলা পরিচালনায় গুরুত্ব পায়নি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনা। এমনকি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত রিজভী স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও কোন আসামিকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বরং তদন্তে গাফেলতির কারণে বেশিরভাগ আসামিই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের গাফলতি ও অসহযোগিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়। তারপরও তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। তবে হাল ছাড়ছেন না সালমানের পরিবার ও তার ভক্তরা। বিচারের দাবি জানিয়ে হুংকার দিচ্ছেন সবাই।

সূত্র- সময়টিভি









সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৫৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুপান্তর

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭


কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আসলেই রাজকপাল , এই কথা বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মসনদে টানা ষোলো বছর বসে থাকার এক বিরল কীর্তি তিনি গড়েছেন, যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×