somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অন্যআনন
অন্যকোথাও অন্য কোনোখানে- বিজয়ের গানে!

বৃষ্টি নির্বাচিত কথামালা-৫

০৮ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রী'র নাক বন্ধ। সে তার গায়ে জড়ানোর কাঁথা শুকে কোনো গন্ধ পাচ্ছে না। নিজের কাঁথার গন্ধ তার ভীষণ প্রিয়। গেল শীতে মা বাড়ি থেকে পাঠিয়েছে । মার পুরনো কোনো শাড়ি দিয়ে বানানো। গরম হোক আর শীত হোক শ্রীর শয্যাসঙ্গী এ কাঁথা। মা'র কথা মনে পড়ছে।.........আর মনে পড়ছে নি'র কথা। শ্রী ঠিক বুঝতে পারছেনা, এ দুটো মানুষের কথা এক সাথে মনে পড়ছে কেন? বন্ধু শামস্ কে ফোন দেয়া দরকার। ও এর একটা ব্যাখ্যা দিতে পারবে।

হঠাৎ দরজায় কড়া পড়ে। আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে বসে শ্রী।

- কে?
- আমি!
- আমি কে?
- আলপনা!

শ্রী গিয়ে দরজা খুলে। নিচ তলার মিনি আপা নাস্তা পাঠিয়েছেন। চিতই পিঠা আর গরুর মাংস। শ্রী ওগুলো নিয়ে এসে টেবিলে রাখে। আলপনা চলে যেতে চাইলে, শ্রী তাকে থামায়।

- মিন্টুকে একটু ওপরে পাঠা!
- আমি পারুম না, মিন্টু আমার লগে মশকারি করে। মিনি আপা আমারে মিন্টুর লগে কথা কইতে মানা করছে।
- কেন , কি করেছে মিন্টু?
- ও একটা বদ?
- কেন, কি করেছে?
- খালি ইতরামি করে! আমারে কয় ঘুরতে যাবি? সিনেমা দেখবি? ইংলিশ!!
- মিন্টু কই এখন?
- নিচে, বাড়িওয়ালার গাড়ি ধোয়!
- ওকে শুধু বল, ছাদে শ্রী ভাই ডাকে!

আলপনা চলে যায়। সিঁড়ি দিয়ে এমন ভাবে হেঁটে নেমে যায় যেন ঘরবাড়ি সব ভেঙ্গে যাচ্ছে! উদ্দাম কৈশোর! শ্রী বাথরুমের আয়নায় নিজের মুখ দেখে। নিজের চোখের দিকে চোখ যায় তার। ক্যামন সাদা সাদা। যেন মরা মানুষের চোখ। অবশ্য নির মন্তব্য হলো, দুনিয়ার সবচেয়ে মায়াবী চোখ। অফিসের সালমা আপাও একই কথা বলে। সালামা আপা, বছর খানিক হলো নিজের হাজব্যান্ডকে ডিভোর্স দিয়ে ইস্কাটনে একা একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। বাচ্চা কাচ্চা হয়নি, না নেয়নি কে জানে! একজন লায়ার ও চিটার হাজব্যান্ডের সাথে সারাজীবন থাকা যায়না। হাজব্যান্ড মিথ্যা বলুক কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু চিটিং, একদম মানা যায়না। প্রশ্রয় যে পুরুষ মানুষ কে কোথায় নিয়ে যায় সেটা সালমা আপা নিজের হাজব্যান্ডকে দেখে জেনেছে। এজন্যে অবশ্য নারীরাই দায়ী। যৌনকাতর ও বার্থ মেশিন টাইপের কিছু নারী আছে না! অবশ্য শ্রী জানে সালমা আপা এখন আর একা থাকেন না। নিজের চেয়ে ৫ বছর বয়সী এক ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রের সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রী বেসিনের কল ছাড়ে। গরম পানি। এই সকাল সকাল গরম পানি। কি রহস্যজনক গরম। সুমন কি বুঝে যে এই গরমে বিয়ে করলো! সাধারণত মানুষ বিয়ে করে শীতকালে। ইদানীং বিয়ের আর গরমকাল আর শীতকাল। হঠাৎ দরোজায় টোকা!

- শ্রী ভাই, আমি মিন্টু!
-কি রে!
- ডাকছিলেন!
- হ্যা! যা দশটা বেনসন নিয়ে আয়।
- শ্রী ভাই, ওই মাগীটা আমার নামে কি কয়?
- কে?
- আলনা!
- আলনা কে? আলপনার কথা বলছিস?
- দেখেন ক্যামন খানকি, আলনারে বানাইছে আলপনা!
- তুই ওর সাথে আজে বাজে করিস ক্যান? এগুলো আর করবি না!
- ও খানকিটা আইসাই প্রতিদিন আমারে জিগায়, মিন্টু ভাই বিয়া করেন না ক্যান, সবতো শুকাইয়া যাইতাছে।....
- থাক থাক...............তুই এখন যা...।

শ্রীর মাথা ঘোরে। একেক জনের মুখে একেক কথা। শ্রী বাথরুমে ঢুকে দরোজা লাগিয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৭ সকাল ১০:৩২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×