মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব, সমাজবদ্ধ হয়েই মানুষকে বাঁচতে হয় । সেহেতু মানুষ্য জীবন যাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নামাজের গুরুত্ব সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে । নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষ তার সত্যিকার মানুষ্যত্ব বজায় রাখতে পারে । আর যে নামাজ আদায় করেনা সে হয়ে ওঠে স্বৈরাচার, দুর্নীতি পরায়ন , অত্যাচারী, ও অসচ্চরিত্রের অধিকারী, সর্বোপরি সে হয়ে ওঠে সমাজের শান্তি কামী মানুষ গুলোর জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি । নিঃসন্দেহে এ কথা বলা যায় যে, সমাজে কেবল খোদাভীরু আর সচ্চরিত্রবান নেতৃত্বই শান্তি ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে । প্রকৃত পক্ষে যারা নামাজি তাদের চরিত্র বিশ্লেষন করে এর সত্যতা আমরা অনুসন্ধান করতে পারি । সমাজে ব্যাপক ভাবে মন্দ ও অশ্লীলতার কারনে সমাজ থেকে শান্তি বিদায় নিতে বাধ্য হয়, সে সমাজ হয়ে উঠে অভিশপ্ত আর খোদায়ী গজবের আঁদার। নামাজই পারে সব অসুস্থ বৈষম্য দুর করে মানুষকে সুন্দর ও সাম্যের কাতারে সজাতে। নামাজই কেবল তার চিরন্তন শিক্ষার মাধ্যমে একটি সুন্দর ,সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় সমাজ উপহার দিতে পারে। মুসলমানদের ঐক্যের জন্য নামাজ একটি শক্তি শালী ও বিজ্ঞান সম্মত মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন ন্যূনতম পাঁচবার মুসলমানদের একত্র হতে পারাটা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয় । এর ফলে এক অন্যের সুখ দুঃখের বিষয়ে অবগত হয়ে পারস্পরিক সহানুভুতির মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাজ গড়ে তুলতে পারে। এখানে ধনি গরিব, শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ, উচুঁ নিচুর মধ্যে কোনো তফাৎ নেই । এখানে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ পড়ার পুর্ণ অধিকার রাখে । নামাজের মতো অতুলনীয় ইসলামের এই মহান শিক্ষাই মানব জাতির ঐক্যের সুদৃঢ় বুনিয়াদ হিসেবে স্বীকৃত ।
রোগ মুক্ত সমাজ জীবন নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতা একটি অপরিহার্য পূর্ব শর্ত । নামাজই মুসলমানদেরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বাস্তব প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে। ইসলাম যেহেতু, একটা পুণাঙ্গ জীবন বিধান। সেহেতু সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে নামাজের মতো ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল ও শান্তি সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে সম্ভব হতে পারে ।
একটি দেশ গঠনের ধারনাই এসেছে নামাজ থেকে, একটু চিন্তা করলে আমরা সহজেই অনুধাবন করাতে পারি । নামাজের রীতি পদ্ধতির অনুসরনেই দেশের উপাদান চিহ্নিত হয়ে থাকে । একটা দেশের মৌলিক উপাদান চারটি, যেমন- জনগন , নিদিষ্ট ভূখন্ড,সরকার ও সার্বভৌমত্ব ।
নামাজই এ ধারনার যুগপৎ প্রবর্তক। নামাজের বেলায় ও কিছু সংখ্যক মুসল্লির প্রয়োজন হ্য় । জামাতে নামাজ আদায় করতে নিদিষ্ট স্হান, মসজিদ( মালিকানা অবশ্যই ওয়াকফকৃত হতে হবে) প্রয়োজন । সামরিক শৃঙ্খলা ও নামজ থেকে এসেছে। নামাজ পরিচালনার জন্য দরকার একজন যোগ্য নেতা বা ইমামের । আর ইমামের থাকে মসজিদে তথা মহল্লায় সার্বভৌমত্ব । বংশ বা সম্পদের গুনে মর্যাদাশালী হলেই ইমামের মর্যাদা অর্জন করা যায়না বরং ইমামদের মাপকাঠি হলো জ্ঞানী, সৎ ও তাকওয়া ধারী, সে দিক থেকে গনতান্ত্রিক দেশে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে যাচাই করে নির্বাচিত করার চমৎকার প্রথাটিও যে নামাজ থেকে এসেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
আধুনিক বিশ্বে গনতান্ত্রিক সভ্যতার যে গর্বিত দবী আমরা করি, মুসলমানদের নামাজই তার অনুপম রুপকার । ব্যাপক জনমত গঠনে নামাজ একটি অতীব সুন্দর মিলনায়তন। প্রতিদিন নামাজের পর এলাকাবাসী একত্র হয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে আলোচনা করে জনমত গঠন করতে পারে । আমাদের রাসুল (সঃ) বিভিন্ন বিষয়েও মসজিদে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিতেন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে দেখা যায় কিছু মতলব বাজ মানুষ প্রচার করে থাকেন মসজিদে নামাজ ছাড়া অন্য আলাপ করা যাবেনা । একটা দেশের উন্নতি সধনের জন্য অপরিহার্য শর্ত হলো, শিক্ষা, শৃঙ্খলা, অনুগত্য,সময়ানু বর্তিতা, একতা, একাগ্রতা, সত্যনিষ্ঠা প্রভৃতি। বলা বাহুল্য, এর প্রত্যেকটির বাস্তব শিক্ষাদেয় নামাজ । সময় ও আনুগ্রতা ও শৃঙ্খলা নামাজের জন্য অপরিহার্য হওয়া, নামাজ মানুষের মধ্যে এসব গুরুত্ব পুর্ন গুনাবলি অর্জনের অভ্যাস গড়ে তোলে। আমরা যদি একটি সু্ন্দর সমাজ ও দেশ গড়ে তুলতে অঙ্গিকারাবদ্ধ হই, তাহলে নামাজকে ব্যক্তিজীবন ছাড়াও সমাজ ও রাষ্টিয় জীবনে অবশ্যই প্রতিষ্টা করতে হবে। এবং যে রাজনৈতিক দল সমাজে শান্তি শৃঙ্খলার কথা চিন্তা করে, নামাজকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা তাদেরকেই নির্বাচন করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৭ রাত ১০:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




