বেশ কয়েকদিন ধরে একটি ফুটফুটে ছেলেকে বিভিন্ন পাড়ার রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখে পাড়ার লোক পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ প্রাথমিক পরিচর্যার পর ছেলেটিকে কোর্টে নিয়ে কোনো আবাসিক হোমে রাখার আবেদন করে।
কোর্ট সে আবেদন খারিজ করে সাধারন প্রশাসনকে ছেলেটিকে রাখার নির্দেশ দেয়। কারন ছেলেটির কথাবার্তায় কোর্টের ধারনা হয়েছে ছেলেটি কোনো অভিজাত পরিবারের ।
সাধারন প্রশাসনের নিজস্ব কোনো আবাসন না থাকায় ছেলেটিকে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসীদের হেপাজতে দেয় এবং পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছেলেটিকে তার নিজের পরিবারে ফিরিয়ে দিতে।
- এ পর্যন্ত এটা একটা হারিয়ে যাবার সাধারন ঘটনা - অন্তত প্রশাসনের কাছে।
সাধারন প্রশাসনের এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আমার পরিচিত। তিনি খুব সিরিয়াসলি ব্যাপারটা দেখছিলেন। অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, যদিও ছেলেটি নিজের নাম বলছে সাগর সান্যাল, ছেলেটি ঢাকা শহরের কোনো উচ্চবিত্ত অভিজাত পরিবারের ছেলে। ছেলেটির কথায় ঢাকার কথার টান।আধিকারিকের পূর্বপুরুষেরা ঢাকা শহরেই বাসিন্দা ছিলেন এককালে।
একমাস কেটে গেছে। পুলিশ এবং সাধারন প্রশাসন ছেলেটির পরিবারের কোনো হদিশই করতে পারেনি।
প্রতি সপ্তাহে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসীদের কোর্টে গিয়ে জানাতে হোতো ছেলেটির মানসিক অবস্থা ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও কোর্টে জানাতে হোতো ছেলেটির শারিরীক অবস্থা।
সাধারন প্রশাসনের পক্ষে সেই আধিকারিককে গিয়ে অনুসন্ধানের ফলাফল জানাতে হোতো।
কোর্ট সাধারন প্রশাসনের কাজে সন্তুষ্ট নয়, সেই আধিকারিক প্রতি সপ্তাহে কোর্টে ভৎর্সিত হতেন।
একদিন সেই আধিকারিক কোর্ট থেকে ভৎর্সিত হয়ে মন খারাপ করে ফিরে আসছেন ঠিক সেই সময় আমার সঙ্গে দেখা এবং বিষয়টি জানতে পারলাম। আমার সঙ্গে রাজাদাও ছিলেন।
আমরা তার বাড়ী গেলাম।
রাজাদা মন দিয়ে সব শুনলেন, বললেন - আমার ওপর ছেড়ে দিন। আমি ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি।
সেই আধিকারিক রাজাদার কথা শুনে মিটিমিটি হেসেছিলেন।
আমি রাজাদাকে বললাম, তুমি ওনার কাছে খুব বাহাদুরি নিলেযে, তুমি কিভাবে সমস্যার সমাধান করবে।
কথা বাড়িয়ে লাভ নেই, ভারত সেবাশ্রম সংঘে চল, ছেলেটির সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং এখনই।
প্রশাসনের এবং সন্ন্যাসীদের অনুমতি নিয়ে ছেলেটির সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ধরে কথা বলার পর রাজাদার কেন জানিনা মনে হ'লো ছেলেটিকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে আনা হয়েছে। (তখন অপহরণের কথা শোনাই যেত না)।এবং ছেলেটির কোনো নিকট আত্মীয়ই ছেলেটিকে অপহরণ করেছে এবং আমাদের এখানে ছেড়ে পালিয়ে গেছে। হয়তো আমাদের এখানেরও কেউ জড়িত থকতে পারে।
পুলিশ কিন্তু সেভাবে ব্যাপারটা দেখছে না। তাদের ধারনা এটি একটি হারিয়ে যাওয়া ছাড়া কিছু নয়।
তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এরসাদ সাহেব।
রাজাদা সরাসরি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সমস্ত লিখে জানালেন।
ভারত সরকার নড়েচড়ে বসলেন।
বাংলাদেশ থেকে উচ্চপদস্থ একজন আধিকারিক এলেন।
সাগরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন।
রাষ্ট্রপতি এরসাদ রাজাদাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



