অনেকেই অনেক ভালো লিখেন, অফলাইনে মাঝে মাঝে পড়ি ভালো লাগে। আমারও মাঝে মাঝে লিখতে ইচ্ছে করে কিন্তু সবার মত আমি এত ভালো লিখতেও পারি না খুব মন খারাপ হয় তখন। আজকে আমার সব চেয়ে প্রিয় বান্ধবী মলি আর আমার কিছু মজার স্মৃতি কথা লিখবো । আমার সব চেয়ে কাছের আর প্রিয় বান্ধবী হলো মলি আমরা এক সাথেই পড়ি সেই স্কুল থেকে এখন পর্যন্ত । আমরা দুজন একে বারে হরি হর আত্মা যাকে বলে মানিক জোড় । স্কুলে আমরা এক সাথে বসতাম সব সময়। এক দিন মলির সাথে দেখা না হলে খুব খারাপ লাগতো। আমি স্কুলে না গেলে ও আমাদের বাসায় চলে আসতো আমিও ওদের বাসায় চলে যেতাম । খুব দুশ্চিন্তা হতো মনে হতো অসুখ করলো নাতো আবার । ও সব সময় ছিল খুব সাহসী আর দৃঢ় চিত্তের মেয়ে । আমি অবশ্য কিছুটা নার্ভাস প্রকৃতির। মাঝে মাঝে ও খুব দুঃসাহসী পরিকল্পনা করতো। অনেক মজার ঘটনা আছে আমাদের দুজনের জীবনে। একদিন মলি আমাকে চুপি চুপি বললো চল সিগারেট খাই। শুনে আমিতো একদম হা । ও বললো আরে ছেলেরা সিগারেট খেতে পারলে মেয়েরা কেন খেতে পারবে না ? আরে আমরা তো সব সময় খাবো না এক দিনের জন্য টেস্ট করবো কেমন লাগে খেতে । আমি বললাম না বাবা আমি খেতে পারবো না কিন্তু ও ছিল খুব জেদি যা বলতো তা করতেই হবে । তো ঠিক হলো ও দোকান থেকে সিগারেট কিনবে পরে বাসায় গিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে সিগারেট খাওয়া হবে । কলেজ থেকে ফেরার পথে ও এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিল আমি বললাম কিরে এক প্যাকেট সিগারেট খাবো আমরা ? ও বললো আরে বোকা সিগারেট তো আর দুটো কেনা যায় না তাই এক প্যাকেট কিনেতে হলো । এর পর ওদের বাসায় গিয়ে ওর রুমে ঢুকে সিগারেট জ্বালানো হলো আর গন্ধে বমি আসার অবস্থা । প্রথমে ও একবার খাওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে কাশি শুরু হয়েছিল । এর পর আর আমাদের সিগারেট খাওয়া হয়নি । ভাগ্য ভালো আন্টি , আঙ্কেল তখন অফিসে ছিলেন তা না হলে কি যে হতো ! এরকম অসংখ্য দুষ্ট বুদ্ধি সব সময় ওর মাথায় কিলবিল করতো । আরেক বার বললো চল বাইক চালানো শিখি এর পর দুজন মিলে বাইক নিয়ে লং ড্রাইভে যাবো । আমি বললাম কিভাবে শিখবি ? ও বললো কেন তোর ভাইয়ার বাইক আছে না ? তাকে বললেই শিখিয়ে দেবে। আমি বললাম তোর লজ্জা করবে না ভাইয়ার কাছ থেকে বাইক চালানো শিখতে ? ও বললো এতে লজ্জার কি আছে আমরা তো শুধু চালানো শিখবো আর শেখায় কোন লজ্জা নেই । তোর ভাইয়াকে কালকেই বলবি কিন্তু । আমার তখন কি যে অবস্থা কি আর বলবো । কোন রকমে ভাইয়াকে বলে ছিলাম মলি বাইক চালানো শিখতে চায়। ভাইয়া হাসতে হাসতে গড়া গড়ি খায় আরকি । ভাইয়া বলে ছিল তোদের আর বাইক চালানো শিখে কাজ নেই শেষে হাত পা ভাঙ্গবি পড়ে আর তোদের বিয়ে হবে না আর বাইক চালানো শিখতে হলে মাঠে যেতে হবে ওখানে অনেক মানুষ থাকবে আর আমি কোন মেয়েকে মানুষের মধ্যে বাইক চালানো শিখাতে পারবো না । আমি শুনে খুশিই হয়েছিলাম কিন্তু মলি খুব রাগ করে ছিল ভাইয়ার উপর , বলেছিল তোর ভাইয়াটা আস্ত একটা বলদ দাড়া তোর ভাইয়াকে একটা শিক্ষা দিতে হবে। আমি হেসে বলে ছিলাম কি শিক্ষা দিবি ? ও বলে ছিল সেটা পরেই দেখতে পাবি । এখন বললে তো আবার তোর ভাইয়া কে বলে দিবি । আমি বলে ছিলাম আচ্ছা ঠিক আছে । এর কিছু দিন পরেই ভাইয়া স্কলারশীপ নিয়ে ইংল্যান্ড চলে যান আর মলির শিক্ষা দেওয়াও হয়নি এখনো । তবে মাঝে মাঝেই ও বলে রিয়া তোর বলদ ভাইটা কবে দেশে আসবে রে ? আমিও বলি কেন কি হবে ? ভাইয়াকে শিক্ষা দিবি ? ও কেমন যেন চুপ করে থাকে আর আমার হাসি পেয়ে যায় । আসলে আমার বন্ধুটা খুব ভালো। ওর মনটা অনেক ভাল । আর আমাদের বাসার সবাই ওকে অনেক ভালোবাসে। আমাদের আরো আনেক মজার মজার কান্ড আছে কিন্তু সব গুলো বলা যাবে না । তাহলে আবার মলি আমাকেও শিক্ষা দিয়ে দেবে। ভালো থাকিস আমার প্রিয় বন্ধু মলি তোর মুখের সুন্দর হাসিটা সব সময় থাক অমলিন । আর শোন এই লেখা যদি তুই পড়িস তবে আমার উপর আবার রাগ করিস না কিন্তু ।
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।