
জীবন মানেই সংগ্রাম। তবে মধ্যবিত্তের সংগ্রামটা বোধ হয় একটু বেশিই থাকে। মধ্যবিত্তের একজন বেকার যুবকের চাকরির হাহাকার থাকে, থাকে তাঁর ব্যর্থ প্রেমের করুণ গল্প, আরো থাকে ভালো না থেকেও ভালো থাকার মিথ্যে অভিনয়।
মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রায় থাকা সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়া, প্রেম-ভালবাসা কিংবা স্বপ্ন সব কিছুর মিশ্রনে রচিত অসাধারণ একটি উপন্যাস - 'মেঘ বলেছে যাব যাব'।
বইটির ফ্ল্যাপের লেখাগুলো যে কাউকেই আকৃষ্ট করবে।
"মেঘ বলেছে যাবো।আকাশের মেঘেরা
কি কথা বলে? তারা কি যেতে চায়
কোথাও? তারা কোথায় যেতে চায়?
বর্ষর ঘন কালো আকাশের দিকে
তাকিয়ে চিত্রলেখার হঠাৎ এই কথা
মনে হল। দশ-বার বছরের কিশোরীর মনে
এর রকম একটা চিন্তা আসতে পারে,
চিত্রলেখার বয়স পঁচিশ। এ রকম উদ্ভট
তার জন্যে স্বাভাবিক নয়। তবুও কেন
জানি নিজেকে তার মেঘের মতো মনে
হয়। তার কোথায় জানি যেতে ইচ্ছা
করে।
এ রকম ইচ্ছা তো সব মানুষেরই
করে। সব মানুষের ভেতরই কি তাহলে
এক টুকরা মেঘ ঢুকে আছে, যে কেবলি
কোথাও যেতে চায়?"
আমাদের রোজকার প্রিয়,অপ্রিয়, চাওয়া এবং না চাওয়ার বাস্তব ঘটনাগুলো এই বইটিতে গল্পের মোড়কে রূপায়িত করেছেন হুমায়ূন আহমেদ।
গল্পটা সত্যিই অনেক কষ্টের, অনেক বেদনার। হৃদয়ের গভীর থেকে বেদনাগুলো ফোঁটা ফোঁটা জলকণা হয়ে চোখ থেকে ঝরে পড়েছে বারবার।
শেষের দিকে কষ্টটা একটু কমেছিল। কান্নাটা একটু থেমেছিল। কিন্তু সেটা দীর্ঘ হয়নি।খুব সুখকর না হলেও তখন দুঃখের গাঁয়ে একটু প্রলেপ দেয়া সম্ভব হয়েছিল।
কিন্তু একদম শেষ পাতার লেখাটা দুঃখটাকে আরো আরো তীব্র করে দিয়েছিল। হৃদয়ের গভীর থেকে বেদনাগুলো ফোঁটা ফোঁটা জলকণা হয়ে চোখ থেকে তখন দ্বিগুণ বেগে ঝরে পড়তে শুরু করে।
"বাস্তব কখনো গল্পের মত হয় না। বাস্তবের রীনা ফিরে আসে না। বাস্তবের হাসানদের সঙ্গে কখনো বুড়িগঙ্গার জলের উপর চিত্রলেখার দেখা হয় না। তবে বাস্তবেও সুন্দর সুন্দর কিছু ব্যাপার ঘটে। যেমন - লিটনের ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়। লিটন তার বন্ধু হাসানের পাঠানো দুটি নাম থেকে একটি নাম তার মেয়ের জন্য রাখে। দুটি নামের কোনটাই তার পছন্দ না-তিতলী, চিত্রলেখা । তারপরেও সে মৃত বন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মেয়ের নাম রাখল - "চিত্রলেখা"।
জীবন বয়ে যায়। আবার এক নতুন গল্প শুরু হবে নতুন চিত্রলেখাকে নিয়ে। কোনো এক লেখক লিখবেন নতুন গল্প, আশা ও আনন্দের অপূর্ব কোনো সঙ্গীত।"
.
শুধু হুমায়ূন আহমেদই না, সব মিলিয়ে যে কয়েকটি বই আমার অসম্ভব প্রিয় তার মধ্যে অন্যতম হল 'মেঘ বলেছে যাব যাব'।
'বই পড়ে কি লাভ?' বলা ছেলেপিলেরা যার লেখা পড়ে আস্ত বইপোকা বনে গিয়েছেন, লাখো তরুণ তরুণীর হৃদয় জুড়ে যার অবস্থান, সেই প্রিয়, সেই নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে (১৩-১১-১৯৪৮) তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন।
প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন ওনাকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতের উঁচা মাকাম দান করেন। আমিন।
বইটির প্রকৃত মূল্য জানতে পারিনি। বিভিন্ন রিভিউতে দেখলাম কেউ লিখেছেন ২৫০ মুদ্রিত মূল্য আবার কেউ লিখেছেন ৩২৫ টাকা।
যাইহোক, হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে রকমারিতে ২৫-৩০% ছাড়ে তার বই পাওয়া যাচ্ছে। যারা কিনে পড়তে উৎসাহী রকমারি থেকে বিশাল এই ছাড়টা মিস করবেন না।
আর যারা আমার মতো গরিব তাঁদের জন্য নীচে পিডিএফ লিংক দিলাম।
বই হোক পৃথিবীর, পৃথিবী হোক বইয়ের।
পিডিএফ ডাওনলোড লিংক: http://www.mediafire.com/?8686fma3f3sd5ua
বিঃদ্রঃ রিভিউটি হুমায়ূন আহমেদ এর জন্মদিন উপলক্ষে লিখেছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


