somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছাত্র রাজনীতি নাকি কালসাপ ??

০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এতো লিখালিখির অভ্যাস আমার কখনোই ছিলনা, নাইও। কিন্তু মাঝে মাঝে কেন জানি খুব লিখতে ইচ্ছা করে। যেমন আজ লিখতে বসলাম কুয়েটের আমাদের ছাত্রলীগ ভাইদের মহান কর্ম দেখে। আমার ও আমাদের ভাইয়েরা "একশন একশন, ডাইরেক্ট একশন।।ছাত্রলীগের একশন,ডাইরেক্ট একশন।।"
স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হইছে শেষমেষ ও ফাইনালি তারা খুন করলই।

এবার একটু নিজের পরিচয় দিই। তেমন মহান কেউ নই আমি। নাম তো দেয়াই আছে। চুয়েট-০৬ ব্যাচের EEE Department এর ছাত্র আমি। সদ্যই পাশ করে বের হলাম। চট্টগ্রামের স্থানীয় ছেলে, মাথাও গরম বেশ, ফলে ক্যাম্পাসে গিয়েই নেতা ভাইদের চোখ আমি ও আমাদের ফ্রেন্ডসার্কেল এর উপর পড়ে। তারা রাজনীতি করার জন্য ০৪ ব্যাচের দুই ভাইকে লাগিয়ে দেয় আমাদের পিছনে। তাদের কাজ ছিল কি পরীক্ষা,কি ক্লাস, সারাক্ষন আমাদের রুমে এসে পড়ে থাকা,আড্ডা দেওয়া। নিজেরা তো ক্লাস করতই না,আমাদেরো ক্লাস করতে দিতনা। তারপরেও "আপনি ভালো তো জগত ভালো" নীতিতে আমাদের কিছু বন্ধু ঠিকমতই ক্লাস করতো,রাজনীতিও করতো। আমার মত যারা সাধারণ পরিবারের ছেলে ছিলাম ও কতিপয় আমার কিছু বড় ঘরের বন্ধুরা যথারীতি গেলাম গোল্লায়। রাজনীতি করলাম, তিনবার মারামারি করলাম,অনেককেই মারছি,সিগারেট থেকে শুরু করে প্রায় সব মাদক গ্রহণ করছি। কিন্তু আল্টিমেত রেজ়াল্ট কি তা জানেন?

১। আমি এখনো পড়ালেখা ফুল ক্লিয়ার করে বের হতে পারিনি। সম্ভবত ফেব্রুয়ারী মাসের আগে ক্লিয়ার হবেও না।
২।আমার দুই বন্ধু ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার।(আমরা ক্যাম্পাস ছারার পর)। প্রত্যেকের প্রায় কমপক্ষে ৳৫০০০০/- লাগসে।
৩।আমি ক্যম্পাসে এখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের নগদ টাকা দিয়ে ঢুকছি।

আমার ভাগ্য অনেক ভালো যে আমি চট্টগ্রামের ছেলে ও বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে ওরাও চট্টগ্রামের ছেলে। আমার সাথে ওদের সম্পর্ক ভালো ছিলো বলেই আমি অনেক ফ্যাসিলিটি পাচ্ছি। আর গত রমজান মাসে আল্লাহর কাছে তওবা করে মদ,গাজা ইত্যাদি ছেড়ে দিছি ও সকল প্রকার বাজে কাজের জন্য মাফ চেয়ে নিছি আল্লাহর কাছে। যাদের মারছি(ক্যাম্পাস/বাহিরে) তাদের যাকে যেখানে পাচ্ছি আমার কৃতকর্মের জন্য মাফ চেয়ে নিচ্ছি। আমি এখন অনেক অনেক ভালো আছি। আল্লাহর রহমতে ওনেক শান্তিতে আছি।

এখন আসি আসল কথায়। আমরাও রাজনীতি করছি।কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে কিছুটা হলেও নীতি ছিল।কিন্তু আমি তারপরেও শিক্ষাংগণে রাজনীতির বিরুদ্ধে। আমরা যারা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী আছি,তারা সবাই একটু কেন জানি ভীতু প্রকৃতির হই। এরা মনে করে যারা রাজনীতির সঙ্গে জরিত তাদের খুব স্ট্রং ব্যাকাপ আছে। আরে ভাই সবচেয়ে স্ট্রং ব্যাকাপ তো সরকার। কিন্তু সরকার এর ব্যাকাপ তো সাধারণ জনগণ।তাইনা??

সিএমসি'র যে ছাত্র মারা গেলো সেদিন কয়েকটা ফ্রেন্ডকে বলেছিলাম আন্দোলন দ্বারা করাইতে।কিন্তু তারা তা না কইরা করলো ডিজিটাল আন্দোলন। ফেইসবুক-এ গ্রুপ খুলে সেখানে সবার মনের ক্ষোভ ঝারলো। আরে ভাই,এই ক্ষোভ এর একটু অংশও যদি খোলামাঠে ঝারতে পারতো সেটাকি ভালো হত না?? না তারা সেটা করতে পারেনাই সাহসের অভাবে।

চুয়েটে কয়েকবার আমাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা কয়েকটা আন্দোলন করছিলো।চরম স্ট্রং। আমরা কই কিছুই তো করতে পারিনাই!!

আজ আপনাদের একজন সহপাঠী মারা গেছেন। সে নিশ্চয়ই কারো সন্তান,কারো ভাই,কারো আত্মীয়। চিন্তা করুন একবার তাদের মানসিক অবস্থাটা!!

সে হয়তো কোন গরীব বাবা মার একমাত্র সন্তান,হয়তোবা না। আজ ওই শীক্ষার্থীর বদলে আপনিও মারা যেতে পারতেন। আপনি আজ না হলে যে কাল মারা যাবেন না তারই বা গ্যারান্টি কি??


ক্যাম্পাসে দাংগা পুলিশ থাকবে,সরকার ও তার পোষা বাহিনীও থাকবে, এদের সাথে যুদ্ধ করেই টিকে থাকতে হবে আপনাদের। হয়তো দুই একটা লাঠির বারি খাবেন।সাময়িক জেলেও যেতে পারেন, কিন্তু এই আপনার সাময়িক কষ্ট কিন্তু আপনার পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বাচতে শিখাবে। আজ হয়তো আপনারা কয়েকজন আন্দোলন করবেন। কিন্তু আজ রাত শেষে যে সুর্য উঠবে তার সাথে নতুন প্রভাতে ইনশাআল্লাহ আপনারা আপনাদের পাশে অসংখ্য বাংলাদেশী মানুষকে পাবেন। কারণ আমরা বাঙ্গালী। আমরা জানি কিভাবে কোন অবস্থার মোকাবিলা করতে হয়।

মনে রাখবেন, কোন কিছুই পারফেক্ট না,তাকে পারফেক্ট বানাতে হয় এবং বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধার জন্য কাউকে প্রথমে এগিয়ে আসতেই হয়। আপনারা আপনাদের সেই মরহুম সহপাঠীকেই শক্তি বানিয়ে নতুন ক্যাম্পাস গরে তোলার জন্য এগিয়ে যান ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।

শুভকামনা রইলো আপনাদের (কুয়েট শীক্ষার্থীদের) প্রতি।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×