somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিন্সেস ডায়ানার অসাধারন কিছু কথা!!!

২৪ শে জুলাই, ২০১১ রাত ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিন্সেস ডায়ানার জন্ম ১৯৬১ সালের ১ জুলাই। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। মাত্র ৩৬ বছরের জীবনে সমাজসেবামূলক কাজ করে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সমাজের পুরোনো ধ্যান-ধারণা বদলে দিয়ে সমাজ সংস্কারমূলক কাজে সূচনা করেন এক নতুন অধ্যায়।

মানুষকে সমাজে বাস করতে হলে নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অনেকেই জানেন না কীভাবে একজন কিশোর অপরাধীর সঙ্গে কথা বলতে হয়, কীভাবে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হয় একজন শ্রবণ কিংবা মানসিকপ্রতিবন্ধী মানুষের দিকে। তাঁরা তো সমাজের বাইরের কেউ নন। এমন অসহায় মানুষেরা সমাজে বাস করেও নির্ভয়ে কিছু করার পরিকল্পনা করতে পারেন না। চারপাশের বিরূপ পরিস্থিতিতে তাঁরা ভীত থাকেন সব সময়। আমি তাঁদের বলছি, সবাই মন্দ নয়। আমি যখন মানসিক চাপে পাগলপ্রায় ছিলাম, তখন কেউ আমাকে আঘাত করেনি। খারাপ ব্যবহার করে দূরে ঠেলে দেয়নি। সুতরাং নিশ্চিন্তে থাকুন, আপনাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য প্রচুর মানুষ এখনো আছেন চারপাশে।
আমরা অনেকেই এখন বুঝতে পারি, অসহায় মানুষগুলোকে শুরুতেই নিরাময়কেন্দ্রে পাঠিয়ে সমাজছাড়া না করে বরং ভালোবাসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা যায়। ৩০ বছর আগে মানসিক রোগে আক্রান্ত এক নারীর কথা আমার এখনো মনে পড়ে। নিজের প্রথম সন্তান জন্মের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যদি তাঁকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হতো এবং মানসিক টানাপোড়েন থেকে উতরে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করা হতো, তবে তিনি সুস্থই থাকতেন। আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো জীবনটাকে উপভোগ করতে পারতেন। ক্লান্ত হলে আয়োজন করতেন ঘুমানোর, খেতে পারতেন পছন্দমতো খাবার। যখন কিনা মানসিক সুস্থতার জন্য তাঁর প্রয়োজন একটু নির্জনতা, তখনই তাঁকে নিরাময়কেন্দ্রের ছোট্ট একটু জায়গায় চারজনের সঙ্গে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এখানে না আছে পর্যাপ্ত জায়গা, না আছে নির্জনতা, না আছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশ্বাস।
সমাজ থেকে আলাদা হওয়ার পর এই নারীর জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে। তিনি আবার ফেরত এসেছেন নিজবাড়িতে। আপন মানুষ ও চেনা পরিবেশে থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন কিছুটা। ফিরে পাচ্ছেন হারানো দক্ষতা। তার পরও নিজের পুরোনো জীবনের আনন্দ তিনি তো আর কখনোই ফিরে পাবেন না, কখনো না।
সম্প্রতি জানা গেছে, সুস্থ হয়ে ওঠা মানসিক রোগীদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাঁরা সহজেই সমাজের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম। আজ তাই অনেকেই বুঝতে পারছেন, সঠিকভাবে যত্ন করা হলে রোগীদের এমন বেহালদশা হতো না। অল্প কিছু কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য সবার সঙ্গে একই রকম আচরণ করা হচ্ছে। বঞ্চিত করা হচ্ছে সমাজের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে।
কিছু মানুষের অসচেতনতা, ভয় ও অবহেলার কারণে অসুস্থ মানুষ সব সময়ের জন্যই সমাজ থেকে আলাদা থাকছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। বেঁচে থাকতে হচ্ছে অবহেলা আর মানুষের ঘৃণা নিয়ে।
যাঁরা সাহস নিয়ে আসেন সমাজে বাস করতে, তাঁদের সবাইকে সমানভাবে সাহায্য করা হচ্ছে না। এটা কি খুব কঠিন কাজ? চিকিৎসক, সেবিকা থেকে শুরু করে পুলিশ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ যদি সাহায্য করার মনমানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন, তবেই তো আর কোনো সমস্যা থাকে না। রোগীদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরি করা যায়। এক এক করে সবাই এগিয়ে এলে কাজটাও সহজ হয়ে যাবে। অতি দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলা যাবে চারপাশের পরিবেশ।
এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে তাঁদের সাহায্য করা যায়। আমরা কি শুরুতেই তাঁদের ভেতরকার ভয় দূর করব, নাকি নাগরিক হিসেবে তাঁদের পাওনা অধিকারগুলো আদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করব, যে লিখতে-পড়তে পারেন না, তাঁকে শিখতে সাহায্য করব। আসলে এ সবকিছু করার আগে প্রয়োজন রোগীদের প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ দেওয়া। নিয়মিত যত্ন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁদের উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
এটা সহজেই উপলব্ধি করা গেছে, তাঁদের খুব সহজেই ভালোবাসা এবং স্নেহ দিয়ে বদলে দেওয়া যায়। অনেক সময় সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সাহস দিয়ে কাছের আপন মানুষটি যা করতে পারেন, চিকিৎসকও তা পারেন না। ব্যস্ততার কারণে একজন চিকিৎসকের সব রোগীর প্রতি সমানভাবে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। কাছের মানুষের উচিত, রোগীদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। তাঁরা যাতে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখা। তাঁদের সফলতায় আনন্দিত হওয়া এবং ব্যর্থতায় কষ্ট পাওয়া। ধীরে ধীরে সবকিছু নিয়ে সহজভাবে কথা বলতে পারলেই সমাজে ফিরে আসার ক্ষেত্রে তাঁদের পথ আরও সুগম হবে।
আমি যেখানেই যাই, চেষ্টা করি সেসব মানুষের সঙ্গে মিশতে, কথা বলতে, যাঁরা নানা উপায়ে মানুষের জীবনকে সুন্দর করার চেষ্টা করেন। জীবনযাপনের পদ্ধতিকে উন্নত করে তোলেন। স্বেচ্ছাসেবক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যদি সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন, তবে জাতি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বয়সের ব্যবধান এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজকের সমাজে একটি জিনিসের কমতি অনুভব করা যায়। আর এটা হলো বিশ্বাস। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস না থাকলে কোনো কাজেই সফলতা আসবে না।
মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। আধুনিক সমাজের জটিলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন সবাই। সব সময় তাঁরা মনে
করেন, কিছু না কিছু একটা সমস্যা লেগে আছে তাঁদের সঙ্গে।
আমাদের সবারই যত্ন প্রয়োজন। এটা আমাদের অধিকার। শুধু নিজের জীবনের কথা ভেবে অনেকেই স্বার্থপর হয়ে ওঠেন। তাঁরা ভুলে যান সমাজের প্রতি তাঁদের কী কী দায়িত্ব রয়েছে। একটি সমাজের সবাই যদি আলাদাভাবে নিজেদের দায়িত্বগুলো নিয়ে সচেতন হয়ে উঠত, তবে কোনো সমস্যাই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে একই জায়গায় বসবাস করা প্রতিবেশীরাও আজকাল আমাদের কাছে অচেনা থাকে। পথে কখনো দেখা হলে কুশল বিনিময়ের প্রয়োজনবোধও আমরা করি না।
একজন একজন করেই গড়ে ওঠে পুরো সমাজ। এ সমাজ আমাদের। তাই সবারই কম-বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়। নিজেদের কাজগুলো করলে শুধু সমাজই নয়, আমাদের জীবনটাও সুন্দর হয়ে উঠবে। সমাজের সুস্থতার জন্যই সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা উচিত। পানি ছাড়া যেমন গাছ বেড়ে উঠতে পারে না, সবার সহযোগিতা ছাড়াও তেমনি সমাজকে জঞ্জালমুক্ত করা যাবে না।
একসঙ্গে কাজ করলেই অসহায় লোকদের সাহায্য করার নতুন নতুন উপায় বের হবে। আমরা বুঝতে পারব চারপাশের মানুষের মধ্যে বেড়ে ওঠা সমস্যাগুলোকে। নিজেদের পরিবারকে পরিপূর্ণ সমর্থন দিয়ে এবং প্রয়োজনীয় সব জিনিস সরবরাহ করে সব অসন্তোষ দূর করা যায়। এভাবেই ধীরে ধীরে নিজের পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের মানুষের জন্যও কাজ করে যেতে হবে।
সবারই উচিত নিজেদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সুখ-দুঃখগুলো ভাগাভাগি করা। সমাজের জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু করে দেখানোর আছে। এটা কখনোই অস্বীকার করার উপায় নেই।
পরিবর্তন আমরা পছন্দ করি না। কোনো কিছু বদলে দিতে আমরা ভয় পাই। ঝুঁকি না নিলে কোনো কাজেই সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই শুরু করতে হবে এখনই। কোনো বিপদ কিংবা পুরস্কৃত হওয়ার কথা না ভেবে সবার জন্য বিলিয়ে দিতে হবে নিজেকে। আজ যদি আপনি অন্যের বিপদে এগিয়ে আসেন, তবে দেখবেন ঠিক ঠিক কেউ একজন আপনার বিপদেও পাশে এসে দাঁড়াবেন। বাড়িয়ে দেবেন সাহায্যের হাত। তাই আর দেরি কেন। সমাজটাকে সুন্দর করে তোলার জন্য কাজে নেমে পড়ুন এখনই। (১৭ নভেম্বর ১৯৯৩)
ইন্টারনেট থেকে পাওয়া, সংক্ষেপিত ভাষান্তর: কিঙ্কর আহ্সান

প্রিন্সেস ডায়ানার জন্ম ১৯৬১ সালের ১ জুলাই। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। মাত্র ৩৬ বছরের জীবনে সমাজসেবামূলক কাজ করে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সমাজের পুরোনো ধ্যান-ধারণা বদলে দিয়ে সমাজ সংস্কারমূলক কাজে সূচনা করেন এক নতুন অধ্যায়।

মানুষকে সমাজে বাস করতে হলে নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অনেকেই জানেন না কীভাবে একজন কিশোর অপরাধীর সঙ্গে কথা বলতে হয়, কীভাবে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হয় একজন শ্রবণ কিংবা মানসিকপ্রতিবন্ধী মানুষের দিকে। তাঁরা তো সমাজের বাইরের কেউ নন। এমন অসহায় মানুষেরা সমাজে বাস করেও নির্ভয়ে কিছু করার পরিকল্পনা করতে পারেন না। চারপাশের বিরূপ পরিস্থিতিতে তাঁরা ভীত থাকেন সব সময়। আমি তাঁদের বলছি, সবাই মন্দ নয়। আমি যখন মানসিক চাপে পাগলপ্রায় ছিলাম, তখন কেউ আমাকে আঘাত করেনি। খারাপ ব্যবহার করে দূরে ঠেলে দেয়নি। সুতরাং নিশ্চিন্তে থাকুন, আপনাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য প্রচুর মানুষ এখনো আছেন চারপাশে।
আমরা অনেকেই এখন বুঝতে পারি, অসহায় মানুষগুলোকে শুরুতেই নিরাময়কেন্দ্রে পাঠিয়ে সমাজছাড়া না করে বরং ভালোবাসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা যায়। ৩০ বছর আগে মানসিক রোগে আক্রান্ত এক নারীর কথা আমার এখনো মনে পড়ে। নিজের প্রথম সন্তান জন্মের পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যদি তাঁকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হতো এবং মানসিক টানাপোড়েন থেকে উতরে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করা হতো, তবে তিনি সুস্থই থাকতেন। আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো জীবনটাকে উপভোগ করতে পারতেন। ক্লান্ত হলে আয়োজন করতেন ঘুমানোর, খেতে পারতেন পছন্দমতো খাবার। যখন কিনা মানসিক সুস্থতার জন্য তাঁর প্রয়োজন একটু নির্জনতা, তখনই তাঁকে নিরাময়কেন্দ্রের ছোট্ট একটু জায়গায় চারজনের সঙ্গে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এখানে না আছে পর্যাপ্ত জায়গা, না আছে নির্জনতা, না আছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশ্বাস।
সমাজ থেকে আলাদা হওয়ার পর এই নারীর জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে। তিনি আবার ফেরত এসেছেন নিজবাড়িতে। আপন মানুষ ও চেনা পরিবেশে থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন কিছুটা। ফিরে পাচ্ছেন হারানো দক্ষতা। তার পরও নিজের পুরোনো জীবনের আনন্দ তিনি তো আর কখনোই ফিরে পাবেন না, কখনো না।
সম্প্রতি জানা গেছে, সুস্থ হয়ে ওঠা মানসিক রোগীদের মধ্যে অল্পসংখ্যকই সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাঁরা সহজেই সমাজের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম। আজ তাই অনেকেই বুঝতে পারছেন, সঠিকভাবে যত্ন করা হলে রোগীদের এমন বেহালদশা হতো না। অল্প কিছু কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য সবার সঙ্গে একই রকম আচরণ করা হচ্ছে। বঞ্চিত করা হচ্ছে সমাজের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে।
কিছু মানুষের অসচেতনতা, ভয় ও অবহেলার কারণে অসুস্থ মানুষ সব সময়ের জন্যই সমাজ থেকে আলাদা থাকছেন। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। বেঁচে থাকতে হচ্ছে অবহেলা আর মানুষের ঘৃণা নিয়ে।
যাঁরা সাহস নিয়ে আসেন সমাজে বাস করতে, তাঁদের সবাইকে সমানভাবে সাহায্য করা হচ্ছে না। এটা কি খুব কঠিন কাজ? চিকিৎসক, সেবিকা থেকে শুরু করে পুলিশ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ যদি সাহায্য করার মনমানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন, তবেই তো আর কোনো সমস্যা থাকে না। রোগীদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরি করা যায়। এক এক করে সবাই এগিয়ে এলে কাজটাও সহজ হয়ে যাবে। অতি দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলা যাবে চারপাশের পরিবেশ।
এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে তাঁদের সাহায্য করা যায়। আমরা কি শুরুতেই তাঁদের ভেতরকার ভয় দূর করব, নাকি নাগরিক হিসেবে তাঁদের পাওনা অধিকারগুলো আদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করব, যে লিখতে-পড়তে পারেন না, তাঁকে শিখতে সাহায্য করব। আসলে এ সবকিছু করার আগে প্রয়োজন রোগীদের প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ দেওয়া। নিয়মিত যত্ন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁদের উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
এটা সহজেই উপলব্ধি করা গেছে, তাঁদের খুব সহজেই ভালোবাসা এবং স্নেহ দিয়ে বদলে দেওয়া যায়। অনেক সময় সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সাহস দিয়ে কাছের আপন মানুষটি যা করতে পারেন, চিকিৎসকও তা পারেন না। ব্যস্ততার কারণে একজন চিকিৎসকের সব রোগীর প্রতি সমানভাবে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। কাছের মানুষের উচিত, রোগীদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। তাঁরা যাতে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখা। তাঁদের সফলতায় আনন্দিত হওয়া এবং ব্যর্থতায় কষ্ট পাওয়া। ধীরে ধীরে সবকিছু নিয়ে সহজভাবে কথা বলতে পারলেই সমাজে ফিরে আসার ক্ষেত্রে তাঁদের পথ আরও সুগম হবে।
আমি যেখানেই যাই, চেষ্টা করি সেসব মানুষের সঙ্গে মিশতে, কথা বলতে, যাঁরা নানা উপায়ে মানুষের জীবনকে সুন্দর করার চেষ্টা করেন। জীবনযাপনের পদ্ধতিকে উন্নত করে তোলেন। স্বেচ্ছাসেবক থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যদি সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন, তবে জাতি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বয়সের ব্যবধান এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজকের সমাজে একটি জিনিসের কমতি অনুভব করা যায়। আর এটা হলো বিশ্বাস। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস না থাকলে কোনো কাজেই সফলতা আসবে না।
মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। আধুনিক সমাজের জটিলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন সবাই। সব সময় তাঁরা মনে
করেন, কিছু না কিছু একটা সমস্যা লেগে আছে তাঁদের সঙ্গে।
আমাদের সবারই যত্ন প্রয়োজন। এটা আমাদের অধিকার। শুধু নিজের জীবনের কথা ভেবে অনেকেই স্বার্থপর হয়ে ওঠেন। তাঁরা ভুলে যান সমাজের প্রতি তাঁদের কী কী দায়িত্ব রয়েছে। একটি সমাজের সবাই যদি আলাদাভাবে নিজেদের দায়িত্বগুলো নিয়ে সচেতন হয়ে উঠত, তবে কোনো সমস্যাই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে একই জায়গায় বসবাস করা প্রতিবেশীরাও আজকাল আমাদের কাছে অচেনা থাকে। পথে কখনো দেখা হলে কুশল বিনিময়ের প্রয়োজনবোধও আমরা করি না।
একজন একজন করেই গড়ে ওঠে পুরো সমাজ। এ সমাজ আমাদের। তাই সবারই কম-বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়। নিজেদের কাজগুলো করলে শুধু সমাজই নয়, আমাদের জীবনটাও সুন্দর হয়ে উঠবে। সমাজের সুস্থতার জন্যই সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা উচিত। পানি ছাড়া যেমন গাছ বেড়ে উঠতে পারে না, সবার সহযোগিতা ছাড়াও তেমনি সমাজকে জঞ্জালমুক্ত করা যাবে না।
একসঙ্গে কাজ করলেই অসহায় লোকদের সাহায্য করার নতুন নতুন উপায় বের হবে। আমরা বুঝতে পারব চারপাশের মানুষের মধ্যে বেড়ে ওঠা সমস্যাগুলোকে। নিজেদের পরিবারকে পরিপূর্ণ সমর্থন দিয়ে এবং প্রয়োজনীয় সব জিনিস সরবরাহ করে সব অসন্তোষ দূর করা যায়। এভাবেই ধীরে ধীরে নিজের পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের মানুষের জন্যও কাজ করে যেতে হবে।
সবারই উচিত নিজেদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সুখ-দুঃখগুলো ভাগাভাগি করা। সমাজের জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু করে দেখানোর আছে। এটা কখনোই অস্বীকার করার উপায় নেই।
পরিবর্তন আমরা পছন্দ করি না। কোনো কিছু বদলে দিতে আমরা ভয় পাই। ঝুঁকি না নিলে কোনো কাজেই সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই শুরু করতে হবে এখনই। কোনো বিপদ কিংবা পুরস্কৃত হওয়ার কথা না ভেবে সবার জন্য বিলিয়ে দিতে হবে নিজেকে। আজ যদি আপনি অন্যের বিপদে এগিয়ে আসেন, তবে দেখবেন ঠিক ঠিক কেউ একজন আপনার বিপদেও পাশে এসে দাঁড়াবেন। বাড়িয়ে দেবেন সাহায্যের হাত। তাই আর দেরি কেন। সমাজটাকে সুন্দর করে তোলার জন্য কাজে নেমে পড়ুন এখনই। (১৭ নভেম্বর ১৯৯৩)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×