somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বয়স কি স্বপ্নপূরণে কোনো বাধা সৃষ্টি করে???

২৫ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নোলা ওকস্ ৯৮ বছরে লাভ করলেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি




বয়স কি স্বপ্নপূরণে কোনো বাধা সৃষ্টি করে? না, সেটাই প্রমাণ করে দেখালেন ক্যানসাসের নোলা ওকস্ নামের এক বৃদ্ধা। গিনেজ রেকর্ড বুকে আরেকবার লেখালেন নিজের নাম। ‘আরেকবার’ মানে, এর আগে তিনি ২০০৭ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে নাম লিখিয়েছিলেন গিনেজ রেকর্ড বুকে!
২০১০ সালের ১৫ মে। ক্যানসাসের ফোর্ট হেইস স্টেট ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীদের বড়সড় সমাবেশ। মাস্টার ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে তাঁদের মধ্যে। সবাই ২০-২১ বছর বয়সের উচ্ছল তরুণ-তরুণী। যেমন ২১ বছরের আলেকজান্দ্রা ওকস্। আলেকজান্দ্রার পাশে তাঁর নানু নোলা ওকস্। ভাবতেই পারেন, নোলা ওকস্ বুঝি এসেছেন নাতনির আনন্দের সাথি হতে। আসলে কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে সেদিন ওই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ নোলা ওকস্ নিজেই। কারণ ওই দিন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মাথার সব চুল সাদা। তবু চুলে তাঁর বেণি বাঁধা। তার ওপর মাথায় গোল ঘেরটুপি। মাস্টার ডিগ্রি নেওয়ার দিন নোলা ওকসেক দেখে মনেই হয়নি তাঁর মনে বয়সের তেমন ছাপ পড়েছে। যদিও বয়স তাঁর ৯৮! মাটি থেকে মাত্র পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি উঁচু তাঁর মাথা। অবশ্য মানসিক উচ্চতা তাঁর আকাশ সমান। যেন, আকাশই তাঁর একমাত্র সীমানা!
জন্ম ১৯১১ সালের নভেম্বরে, আমেরিকায়। ব্রাউন সিটিতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে আয়েন্সওয়ার্থে দুই বছরের জন্য স্কুলে ভর্তি হন। তখন ‘ঘোড়ায় করে স্কুলে যাওয়ার মজাটা’ই অন্য রকম ছিল। ১৯২৭ সালে তাঁরা চলে যান ক্যানসাসে। সেখানে ১৯২৯ সালে ডজ সিটি কলেজ থেকে স্কুল ফাইনাল শেষ করেন নোলা। সংসারে তাঁদের টানাপোড়েন লেগেই থাকত। এ জন্য একটি স্কুলে পড়ানোর দায়িত্ব নেন নোলা ওকস্। কিন্তু যে স্কুলে যোগ দিয়েছেন, সেখানে শিক্ষকতার শর্তে লেখা ছিল, তিনি তত দিন শিক্ষকতা করতে পারবেন যত দিন একা থাকবেন, বিয়ে করলেই শিক্ষকতায় ইস্তফা। কারণ? নোলা বলেছেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা একজন নারী ক্লাস করালে কি তা দৃষ্টিকটু হবে না?’ তাই ১৯৩৩ সালে যখন ভারনন ওকসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, তখনই শিক্ষকতা ছেড়ে দিতে হলো নোলাকে। ‘বিয়ের পর কম বিপদের মধ্যে যায়নি আমাদের জীবন,’ নোলা তাঁর স্মৃতি থেকে বলছিলেন, ‘বিশেষ সমস্যা ছিল অর্থনৈতিক। দিনগুলো কাটত নানা দুর্বিপাকের মধ্যে।’ চার সন্তানের মা নোলা ওকস্ আর্থিক সচ্ছলতার জন্য মাঠে কৃষকের ভূমিকায় গম চাষ করেছেন। কষ্ট আরও বেড়ে যায় যখন স্বামী ভারনন ১৯৭২ সালে নোলাকে ছেড়ে ওপারে চলে গেলেন চিরতরে। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। শেষে, বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। এর কি কোনো গোপন রহস্য আছে? নোলা ওকসের কাছ থেকেই শুনুন:
‘আমি পড়াশোনা ভালোবাসি। আমার পরিবার আর বন্ধুরা খুবই ভালো। তারা আমার স্বপ্নকে শ্রদ্ধা করেছে বলেই হয়তো আমি মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে থেকেছি। কখনোই মনে করিনি যে হেরে যাব। আত্মবিশ্বাস ছিল আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। জানতাম, এ জন্য অনেক কাজ করতে হবে। আমি তা করেছি। এমনকি, বয়সের অজুহাতে কখনো ক্লাস ফাঁকি দিইনি। বিশেষ কোনো সুবিধাও নিইনি স্যারদের কাছ থেকে। ভালোবেসেই পড়াশোনাটা করেছি। আমার স্বপ্নের সঙ্গে আমি কখনো লুকোচুরি করিনি। নিজ ইচ্ছাশক্তিই আমার আসল প্রেরণা। বয়সের ভারে বসে পড়া কিংবা আক্ষেপে আঙুল মোচড়ানো আমি পছন্দ করি না। কারণ, বয়সকে মাথায় নিলে সেটা হতো আমার পথের সবচেয়ে বড় বাধা। আমার কাছে বয়স আর কিছুই নয়, বরং বয়স একটা সংখ্যা মাত্র।’
যাঁরা স্বপ্ন দেখেন নিজেকে, দেশকে বা বিশ্বকে বদলে দেওয়ার, তাদের উদ্দেশে নোলা ওকস্ বলেন, ‘প্রত্যেকের ভেতরে আরেকটা মানুষ থাকে। সেখানে থাকে তাঁর গোপন চাওয়া। সে যা হতে চায় বা করতে চায় সেই বাসনাটা ওখানেই বাস করে। কারও কাছে মনে হতে পারে স্বপ্নটা সে ছুঁতে পারবে না। কিন্তু এটা ঠিক নয়। ইচ্ছে আর একাগ্রতা থাকলেই সাফল্য পাওয়া ভার নয়। কিন্তু ইচ্ছেটা হতে হবে ভেতর থেকে। আমি সবাইকে বলি, তোমার বুকের ভেতর অনেক চাওয়া থাকতে পারে। সবচেয়ে পছন্দের স্বপ্নটা স্থির করো। আর সেই অনুসারে পরিশ্রম করো। শেষ পর্যন্ত লেগে থাকো। স্বপ্ন সত্যি হবেই। আমি তো আমার নাতি-নাতনিদের বলি, তোমাদের নানু পেরেছে। তোমরা কেন পারবে না?’





সংগৃহীত
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×