
অচেনা একটা গ্রাম। যে গ্রামে আমরা একটা সাকো দেখতে গিয়েছিলাম, সে গ্রামটার নাম ‘দীর্ঘগ্রাম’।
ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী ইউনিয়ন সদরে যেতে পথে পড়ে সোহেল রানার চায়ের দোকান। এখানে চা বানানো হয় বৃষ্টির পানি দিয়ে। স্থানীয় ভাষায় মেঘের পানির চা। অনেক দুর থেকে নাকি লোকে এখানে চা থেতে আসে। সোহেল রানার চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে মাটির রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে জলা আর বিস্তিৃত ধান ক্ষেত। কোথাও আবার কুমড়ো ফুলের মাচা। শেষ বর্ষায় ছোট ছোট ডিঙি নৌকা এঁদো বিলে বাধা থাকে। সেই দীর্ঘ রাস্তা হেটে দীর্ঘগ্রামে পৌছাতে হয়। আমরা পৌছুই একটা নিঝুম দুপুর বেলা। পথে পথে দ্যাখা হয় সরল কিছু মুখ। কিছু সহজ সহজ কথা বলি। হাই ইশকুলের ছেলেমেয়েরা ইউনিয়ন সদর থেকে এই পথ দিয়েই বাড়ি ফিরে তখন।
আগেই বলেছি, আমরা একটা সাকো দেখতে গিয়েছিলাম। খালের উপর জরাজীর্ন একটা কাঠের সাকো।
গ্রামের বড় অংশটা খালের ওপাড়ে। ওপাড়ে আরো দশ বরোটা গ্রামের প্রায় হাজার মানুষকে রোজ এই খাল পেরুতে হয়। গ্রামের মানুষ হাট বাজারে যায়, কেউ কাজে যায়, স্কুলে মাদ্রাসায় ... যেতে হয় প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে। অথচ মাত্র আশি ফুট প্রশস্ত খালের উপর কাঠের সাকোটা জরাজীর্ন হয়ে পড়ে থাকে বছরের পর বছর।
দীর্ঘগ্রাম প্রাইমারী স্কুলের হেডমাস্টার নূরুল ইসলাম স্বপ্ন দ্যাখেন, স্থায়ী একটা সাকো এখানে তৈরী হবে। সাকো পেরুলেই বাচ্চাদের স্কুল। তিনি ভাবেন তার বাচ্চারা এক ছুটে ইশকুলে চলে আসবে। বছরের পর বছর গ্রামের মানুষ তাকিয়ে থাকে প্রশাসনের দিকে। নুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ভাবি ছোট ছোট সব দায় শুধুই কি সরকারের? এই ছোট্ট স্বপ্নটাতো আমরাই পূরণ করতে পারি। মাষ্টার সাহেবের গ্রাম আমাদেরও গ্রাম। আমার গ্রাম আমার স্বপ্ন, তো গ্রামকে নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরনেরই প্লাটফর্ম।
দীর্ঘগ্রামের অনেকই নাকি ইতালি প্রবাসী। দীর্ঘগ্রামের অনেক স্বচ্ছল মানুষ ঢাকায় ব্যবসা করেন। আর আমরা বিশ্বাস করি, হাত বাড়ালে বন্ধু পাবোই। আমাদের আর্কিটেক্ট বন্ধু সাকোর একটা ডিজাইন তৈরী করছে। এগিয়ে চলছে আমাদের প্রস্তাবনা পরিকলপনা আর বাস্তবায়নের কাজ। আমরা ছুটতে শুরু করছি ছোট্ট একটা স্বপ্নের পেছনে। যে কেউ হতে পারেন এই স্বপ্নের সারথী। আর...
আর, নিজের গ্রামকে নিয়ে আপনার স্বপ্নের কথা আমাদের জানান। আমাদের স্বপ্ন আমরাই পূরণ করবো।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



