somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাদীস বনাম জালিয়াতি

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুকে এক ভাই ’ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া’ নামক একটি ওয়েবসাইট থেকে ”বহুল প্রচলিত কিছু জাল হাদীছ”(!) নামক একটি লিংক নিজের ফেসবুক পাতায় শেয়ার করে আরো লিখেছেন ’জানার আছে অনেক কিছু!’ যাদের জ্ঞান কিংবা জানার সীমা মিডিয়া, অনলাইন আর বই পর্যন্ত তাদের জানার আরো অ-নে-ক কিছু থাকতে পারে বৈকি!
কথা হল হাদীস হাদীসই সেটা আবার জাল, দুর্বল (যঈফ) কিংবা মাওযূ হতে যাবে কেন? মহানবী (সা.) তো কোন জাল, দুর্বল (যঈফ) কিংবা মাওযূ’ কথা বলেননি (যে বিশ্বাস করবে, বলেছেন, সে ইসলাম থেকে ছিন্ন) তবে কেন বলা হবে ’জাল হাদীস’ ’দুর্বল হাদীস’ কিংবা ’মাওযূ হাদীস’? জাল জালই। নিজের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যে বা যারা মহানবীর (সা.) নামে মিথ্যা কিছু রচনা করবে তারা প্রবঞ্চক বা জালিয়াত এবং তাদের রচিত সেসব মিথ্যা রচনা জালিয়াতি বৈ অন্য কিছু নয়।
ইমাম বুখারী (রহ.) হতে শুরু করে সিহাহ সিত্তাহ’র সংগ্রাহকগণ প্রায় ছয় লক্ষ হাদীস সংগ্রহ করেছেন কিন্তু কেউ বলেননি তাঁদের সংগ্রহের বাইরে আর কোন হাদীস নেই। কত লক্ষ হাদীস আছে তা আমরা কেউ জানি না। এখন ছয় লক্ষের বাইরের হাদীসগুলো আমরা কোথায় পাবো, সব হাদীসই তো আমাদের জন্য প্রয়োজন। সিহাহ সিত্তাহ’র হাদীসগ্রন্থ ছাড়াও আরো অনেক হাদীসগ্রন্থ আছে এবং সেগুলোতেও অনেক হাদীস লিপিবদ্ধ আছে। এখন সিহাহ সিত্তাহ’ এবং অন্যান্য হাদীসগ্রন্থের সব হাদীস-ই যে হাদীস তা বুঝতে হলে আমারও কিছু জ্ঞানের প্রয়োজন আছে যে জ্ঞান আমাকে বলে দেবে কোনটি হাদীস এবং কোনটি হাদীস নয়। আর সে জ্ঞান যদি আমার না থাকে তবে আমার উচিত হবে চুপ করে থাকা এবং জ্ঞান অর্জন করা। কারো কথায় কিংবা কোন মিডিয়ার প্ররোচনায় আমি যদি নিজেকে গড্ডলিকা প্রবাহে ভাসিয়ে দিই তবে কীভাবে আমি তাকে জ্ঞানী বলতে পারি?
এবার আসুন ”বহুল প্রচলিত কিছু জাল হাদীছ”-এর উদ্ভাবক সাহেবের প্রথম হাদীসটি নিয়ে একটু আলোচনা করি। হাদীসটি হল, ”জ্ঞানার্জনের জন্য সুদূর চীনে হলেও যাও”। অথর্ব উদ্ভাবক আরো মন্তব্য করেছেন, ”বহুল ব্যবহৃত ও বহুল প্রচারিত একটি জাল হাদিস। একটু খতিয়ে দেখলে সাধরণ চোখেই এই হাদিসটির জালিয়াতি চোখে পড়ে। রাসুলুল্লাহ সাঃ যদি সত্যিই এ কথা বলতেন তাহলে অত্যন্ত কষ্টকর হলেও চীনে অগণিত সাহাবাদের যাতায়াত থাকতো। তাছাড়া সে সময় চীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্য এমন কোন জায়গা ছিলোনা যে জ্ঞানার্জনের জন্য কাছাকাছি অনেক জায়গা ছেড়ে সেখানে যেতে রাসুলুল্লাহ সাঃ বলবেন।”
অথর্ব উদ্ভাবকের হাদীস সম্বন্ধে যে কোন জ্ঞান নেই তা তার মন্তব্য পড়েই বুঝা যাচ্ছে। মহানবী (সা.) কোন জ্ঞানটি অর্জনের জন্য চীনে যেতে বলেছেন তা আগে আমাকে বুঝতে হবে। এটি কি জাগতিক জ্ঞান না ঐশী জ্ঞান? জাগতিক জ্ঞান হলে সেটা অর্জনের জন্য চীনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আরবে কিংবা আমার দেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বাকি রইল ঐশী জ্ঞান অর্থাৎ আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং ধর্ম চেনার জ্ঞান। এ জ্ঞান কোথায় আছে? সবাই আল্লাহর কথা বলে কিন্তু পরিচয় দেবার কথা বললে আপনি আর কাউকে পাবেন না। যদি আমি জানতে পারি যে চীন নয় এর চেয়ে অনেক দূরে এমন একজন ব্যক্তি আছেন যিনি আল্লাহর পরিচয়, তাঁর রসূল এবং ধর্ম চেনার জ্ঞান জানেন, আমার কি উচিত হবে না সেখানে যাওয়া নিজেকে চেনার জন্য এবং যাবতীয় কলুষ থেকে আত্মরক্ষার জন্য? নশ্বর শরীরের সুস্থতার জন্য আমরা প্রয়োজনে অর্থ খরচ করে অনেক দূর দেশে চলে যাচ্ছি অথচ অবিনশ্বর আত্মাকে চেনার জন্য অন্য দেশে যাওয়া দূরে থাক কোন চেষ্টাও নেই আত্মার রহস্য জানার জন্য। আরবে এখন কোন জ্ঞানীরা এবং কোন সরকারেরা আছে তা আমরা খোলা চোখেই দেখতে পাচ্ছি। আসল বিষয়ের কোন খবর নেই আছে শুধু নতুন নতুন উদ্ভাবন, জায়েজ-নাজায়েজ আর জান্নাত-জাহান্নাম নিয়ে। মেয়েদের মতো বুকে হাত দিয়ে যারা নামায পড়ে তাদের আর যাই থাক কাণ্ডজ্ঞান যে নেই এটা নিশ্চিত। তাদের যে এ অবস্থা হবে তা মহানবী (সা.) জানতেন বলেই আমাদের ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন যে আরবে না থাক যদি চীনেও এ রকম কোন ব্যক্তির সন্ধান পাও যিনি আল্লাহ, তাঁর রসূল এবং ধর্ম চেনার জ্ঞান জানেন তবে সেখানে হলেও চলে যেও। নচেৎ তুমিও অন্ধদের পাল্লায় পড়ে অন্ধত্ব বরণ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×