একজন পরিদর্শকের দায়িত্বে ৬ জেলা। তারপরও নেই কোন সরকারি যানবাহন। এ পরিদর্শক যেখানে কাজ করেন তার নাম পরিবেশ অধিদপ্তর। পিরোজপুরসহ ৬ জেলার বিভাগীয় দপ্তর বরিশালে। ২০০৪ সালে একটি ভাড়া বাড়িতে এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিমাসে ভাড়া গুনতে হয় ১২ হাজার টাকা। পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, একজন উপ-পরিচালকের অধীনে একজন করে সহকারি পরিচালক, সিনিয়র কেমিষ্ট, পরিদর্শক, নকশাকার, গবেষণা সহকারি, নমুনা সংগ্রহকারি, ল্যাব এ্যাটেনডেন্ট, প্রধান সহকারি, ক্যাশিয়ার এবং এম.এল.এস.এস রয়েছে এ দপ্তরে।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে ইটভাটার বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে উপ-পরিচালক কায়ছার আহম্মেদ আক্ষেপ করে বলেন, আমার জন্য তো কোন সরকারি যানবাহন নেই। কোন ইটভাটায় অভিযান চালাতে গেলে পরিদর্শককে বাসে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। উপ-পরিচালক জানান, বরিশাল জেলায় ১০৮টি, ভোলায় ১৫টি, ঝালকাঠিতে ৩১টি, পিরোজপুরে ২৯টি, পটুয়াখালীতে ৪৮টি ও বরগুনায় ৩০টি অনুমোদিত ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার চিমনির উচ্চতা ১২০ ফুট। এছাড়া বরিশালে ৫২টি, ভোলায় ৪০টি, ঝালকাঠিতে ৪টি, পিরোজপুরে ৪টি, পটুয়াখালীতে ১২টি, বরগুনায় ১৩টি অনুমোদনহীন (ড্রাম চিমনির উচ্চতা সর্বোচ্চ ৫০ ফুট)ইটভাটা রয়েছে। যার পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই। এদিকে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, ড্রাম চিমনির সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়া পিরোজপুর সহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে স্থানীয় প্রযুক্তির অসংখ্য ইটের পাজা। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আবার এরকম অনেক ইটের পাজা খাস জমিতে গড়ে উঠেছে যার উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট।
পিরোজপুরের কাউখালী, স্বরূপকাঠি ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লোকালয়ে সারি-সারি ইটের পাজা। কাউখালীর বাসুরী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে রাস্তার দু’ধারে ইটের ভাটা। বন্দরে আসার একমাত্র রাস্তা থাকার কারণে এখান থেকে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ সহ সবাইকে চলাচল করতে হয়। বাসুরী এলাকার মোসলেম জানান, প্রত্যেক বৎসর এখানে লোকজন ইঢের ভাটা বানায়। আগুন দেওনের পর এহান দিয়া চলার সময় ভাটা দিয়া বাইর অওয়া খারাপ গোন্ধে (উৎকট গন্ধে) প্যাডের নাড়ি-ভুরি বাইরাইয়া যাইতে চায়, নাহে (নাকে) কাফুড় (কাপুড়) চাইপ্পা ধরলেও কাম অয় না। আমাগো কষ্ট দেহার কেউ নাই।
উপ-পরিচালক কায়ছার আহম্মেদ জানান, ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো অব্যাহত থাকলে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড সহ অন্যান্য গ্যাসীয় দূষণীয় পদার্থ বৃদ্ধি পাবে। এতে অক্সিজেনের অভাব দেখা দিবে, জীববৈচিত্রের ক্ষতি হবে। এসময় তিনি বলেন, ইটভাটা করার ছাড়পত্র আছে এমন ভাটার মালিক যদি কাঠ পোড়ায় তা ধরা পড়লে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। এছাড়া যারা অনুমোদন না নিয়ে ইটভাটার ব্যবসা চালাচ্ছে আর কাঠ পোড়াচ্ছে তাদের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ৫লাখ টাকা জরিমানা ও ৫ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
অনুমোদন না নিয়ে ইট ভাটা করেছেন এরকম কোন ভাটার মালিককে জরিমানা বা আটক করেছেন কি না জানতে চাইলে উপ-পরিচালক সন তারিখ উল্লেখ না করে জানান, এক বছর অভিযান চালিয়ে এক ভাটা মালিককে আটক করা হয়েছিল। ঐ ব্যাক্তির নাম এবং কতদিন দণ্ড ভোগ করেছেন জানতে চাইলে তিনি (উপ-পরিচালক) ভাটা মালিকের নাম জানাননি। তবে ১দিন হাজত বাস করেছে এ কথা নিশ্চিত করেছেন। অনুমোদনহীন ইটভাটা ও ইটের পাজায় অভিযান চালাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, লোকবল সংকটের পরও ইচ্ছা আছে যেসব ইটের ভাটা পরিবেশের ক্ষতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ নেয়ার। পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ে কর্মরত পরিদর্শক মোঃ তোতা মিয়ার সাথে গতকাল ১৪.০১.১০ তারিখ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিভাগের ৬ জেলার ইটভাটার পরিবেশ দূষণ দেখার দায়িত্বে একমাত্র আমি। যানবাহন না থাকার কারণে অভিযান চালাতে গিয়ে সমস্যা হয়, এছাড়া কোন ভাটায় কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এরকম অভিযোগ পাওয়া পরে যেতে যেতে দেখা যায় সে কাঠ শেষ।
পিরোজপুরের একটি বে-সরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. বিজয় কৃষ্ণ জানান, ইটভাটা থেকে নির্গত ধোয়া মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে এ ক্ষতি শিশুদের ও বৃদ্ধদের আরও বেশি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জগৎপ্রিয় দাস আলাপকালে বলেন, ভাটার নির্গত কার্বন সূর্যের তাপ ধরে রাখায় পরিবেশের জন্যও তা সমান ক্ষতিকর। পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা অফিসে কর্মরত উপ-পরিচালক (প্রচার) ফরিদ আহমেদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা নিউজ 24 ডট কমকে জানান, বর্তমানে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরে চলছে উপ-পরিচালক দিয়ে। কিন্তু এ কার্যালয়ে একজন পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া একজন নিজস্ব ম্যাজিষ্ট্রেট ৩জন নতুন পরিদর্শকসহ আরও ৩২ জনের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই মন্ত্রণালয় থেকে সৃষ্ট পদে লোক পদস্ত করার পর পরিবশে দূষণ বিরোধী অভিযান জোরদার ভাবে পরিচালিত হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



