somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মবিশ্বাস ও ডারউইনের বিবর্তনবাদ ।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্মবিশ্বাস ও ডারউইনের বিবর্তনবাদ ।
পৃথিবীর বড় ধর্মগুলির তিনটিই মধ্যপ্রাচ্যের সেমিটিক ধারা থেকে উদ্ভুত। এদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হচ্ছে ইহুদী ধর্ম । এই ধর্ম থেকে বেরিয়ে যীশু প্রথমে তাকে কিছুটা সংস্কার করেন ,পরে রোমান সম্রাট কনসটেন্টাইন এর সাথে তাদের প্যাগান ধর্ম মিশিয়ে এক নতুন খৃষ্টিয় ধর্মের পত্তন করেন। আর এই দুই ধর্মের থেকেই উপজাত তৃতীয় ধর্ম ইসলাম, -খৃষ্টধর্মের প্রায় পাঁচশত বছর পরে যার আবির্ভাব । তবে একেশ্বরবাদের ধারণা চীনের যরথ্রুষ্ট থেকে অ্যব্রাহাম হয়ে ইহুদী ও খৃষ্টবাদের ধারায় ইসলামও এসেছে , তার ফলে এই তিন ধর্মের creed বা মূল ধর্মভাবনায় যথেষ্ট মিলও আছে।*
যেমন -এই রকম একটা মিথ যে , ঈশ্বর সমস্ত জগৎকে সৃষ্টি করেন একবারেই । তারপর ধাপে ধাপে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎকে একবারে আস্ত আস্ত এখনকার রূপে বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠান । ডারউইনের আগে পর্যন্ত এইরকমই ভাবা হতো যে উদ্ভিদ এবং প্রাণী প্রত্যেককে আলাদা আলাদা করে একবারেই সম্পূর্ণ করে চূড়ান্তরূপে পাঠান হয় পৃথিবীতে- সমস্ত প্রাণী প্রজাতি অপরিবর্তনীয়, কারণ সেগুলো তৈরি হয়েছে স্বর্গীয় শাশ্বত ভাব ও আকার অনুযায়ী একেবারে প্রথম থেকেই ।
কিন্তু ডারউইনই প্রথম প্রমান করলেন যে সব ধরণের উদ্ভিদ ও প্রাণী উদ্ভুদ হয়েছে পুর্বতন কোন আদিম নমুনা থেকে , বায়োলজিক্যাল বিবর্তনের মধ্য দিয়ে । বিবর্তনটি আবার প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফসল । বিভিন্নপ্রকার ফসিল সংগ্রহ করে তিনি দেখালেন যে মানবজাতীও একটি ধীর,জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত বিবর্তনের ফল।
বহুদিন ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই বিবর্তনবাদকে মেনে নেয়নি,বরং সেটা নিয়ে বিদ্রুপ হাসাহাসি করেছিল ।অনেক দেশ নিষিদ্ধও করেছিল । কিন্তু শেষ পর্যন্ত‍ মেনে নিয়েছে, অনেকে আবার তাদের নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থে এখন বিবর্তনবাদ খুঁজেও পাচ্ছে । সেটাই স্বাভাবিক ,মানুষের জীবনে টিকে থাকার জন্য সবাই এখন ধর্মগ্রন্থেও সব বিজ্ঞান পেয়ে যাচ্ছে । মরিস বুকাইলি থেকে বিজ্ঞানী শমসের আলি, জোকার নায়েক সবাই কোরান থেকে বিজ্ঞান পেয়ে যান ।প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহাকে তার এক গ্রামবাসী বলেছিলেন,-‘ তুমি কি যে সব লেখাপড়া করে আবিষ্কার কর, সবই তো বেদ’এই আছে । বেদ হইলো হিন্দুদেঈ আকর গ্রন্থ,তাতে সব আছে ।সব ধার্মিকদেরই একই বিশ্বাস ।
তবে এখন অনেকটাই মত বদলেছে ।অনেকেই মেনে নিয়েছে কিছু বদলিয়ে নিয়ে,সংস্কার করে। ১৯৯৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল ঘোষণা করেন- বিবর্তনবাদ আজ সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে। প্রকৃতির সত্যকে আমরা স্বাগত জানাই। ক্যাথলিক চার্চ জেনেসিস এর ব্যখ্যায় বলেছে- বিবর্তনের ধারায় প্রাণীর আবির্ভাব ঘটেছে ঠিকই,তবে ঈশ্বরই তার ভেতরে আত্মা ঢুকিয়ে মানুষের সৃষ্টি করেছেন । তারা এভাবে ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয় করতে চাইলেন ।
ইসলামের এপোলজিস্টরাও এখন মেনে নিচ্ছেন । মরিস বুকাইলি, তার নতুন বই ‘What is the origin of men’ গ্রন্থে বলেন যে, - কোরান বাইবেল ও বিজ্ঞান গ্রন্থে কোরানে মায়ের গর্ভে শিশুর বেড়ে ওঠার যে stages বা phases এর বিবরণ তিনি দিয়েছিলেন তার মধ্যে বিবর্তনবাদের ইঙ্গিত থাকতে পারে, তবে তা নিশ্চয়ই আল্লাহর নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে। তার মতে আদম হচ্ছে বিবর্তিত মানুষের সর্বশেষ অবস্থা ।
তবে হারুন ইয়াহিয়া ও জাকির নায়েক [বলেন- theory, not fact] ইমরান খানের [বলেন -half baked theory] মত লোকেরা অবশ্য এখনও স্বর্গ থেকে আস্ত মানুষরূপে বানিয়ে পৃথিবীতে আদম পাঠানোর পুরাণকাহিনীতেই আস্থা রাখছেন । সেটা রাখতেই হবে ,নইলে বিশ্বাসটাই তো আলগা হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তাতে পিছিয়ে পড়তে হয় । মুসলমানরা যে অন্ধকারে পথে আবার সপ্তম শতকে ফিরতে চাইছে-‘আইএস’দের মত খিলাফত ফিরে পেতে চায় -এত ইতিহাসের চাকা পেছনে ফেরান-অসম্ভবের পথে চলা ।
[* crone. P - new historian ]


৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×