একটি সহজ সুন্নত ।। আশরাফ আল দীন
একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত আমরা অত্যন্ত সহজেই প্রতিপালন করতে পারি। তা হলোঃ মসজিদে জামাতে সালাত আদায় করার পর অল্প কিছু সময় আরাম করে বসা এবং কিছু তসবিহ তাহলীল করা। যদি মসজিদেই আরো কিছু সালাত (সুন্নাত বা নফল) পড়তে চাই, যদিও এর সওয়াব একই সালাত বাড়ীতে বা অন্যত্র পড়ার সওয়াবের চাইতে অনেক কম, তাহলে যেই স্থানে ফরজ আদায় করেছি সেই স্থান থেকে সরে গিয়ে, ডানে-বামে বা সামনে-পেছনে, বাকি সালাত পড়া।
কোন কোন ওয়াক্তের সালাতে ফরজ আদায়ের পর পরই আশপাশের মুসল্লীরা দাঁড়িয়ে যান এবং বাকি সালাত আদায় করেন। এই সময় আমি নিজেও দাঁড়িয়ে গিয়ে পাশের মুসল্লির সাথে জায়গা বদল করে নিই। তারপর ওই স্থানে বসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী কিছু তসবিহ তাহলীল করি, অথবা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করি। এতে যার সাথে আমি স্থান পরিবর্তন করলাম তাঁরও, তাঁর অজান্তেই, একটি সুন্নত আদায় করা হয়ে গেলো। এখানে দু'টি সুন্নত আদায় করা হলো। একটি হলো, জামায়াতে সালাতের পর পর নতুন সালাত শুরু না করে কিছুক্ষণ বসে তসবি তাহলীল করা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই সালাত আদায়ের পর কিছুক্ষণ সুস্থির হয়ে বসতেন এবং তসবিহ পাঠ করতেন ও নিজে নিজে দোয়া (মোনাজাত অর্থে) করতেন, সকলকে নিয়ে একসাথে হাত তুলে নয়। আরেকটি সুন্নত হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন যেখানে জামায়াতে ফরজ সালাত আদায় করা হলো সেখানেই অন্য সালাত আদায় না করে ডানে বামে সামনে পিছনে সরে গিয়ে আদায় করতে। তবে তিনি আরো উৎসাহিত করেছেন, ফরজ ছাড়া বাকী সালাতগুলো মসজিদে না পড়ে নিজের বাড়িতে অথবা কর্মস্থলে গিয়ে আদায় করতে। তিনি বলেছেন, (জামায়াতে ফরজ সালাত ছাড়া অন্য সালাতগুলো) মসজিদে আদায় না করে অন্যত্র (বাড়ীতে বা কর্মক্ষেত্রে) আদায় করা মসজিদে নববীতে (তিনি বলেছেন ‘আমার মসজিদে’) আদায় করার চেয়ে সওয়াব বেশী। আর আমরা জানি যে, পবিত্র কাবার মসজিদ, মসজিদুল আকসা এবং মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করলে পৃথিবীর অন্য যে কোন মসজিদে একই পরিমাণ সালাত আদায়ের তুলনায় বহু বেশী গুণ সওয়াব হয়। অবশ্য একথাটা কেবল জামায়াতে ফরজ সালাত আদায়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
ইদানিং অনেককে দেখা যায় মসজিদে ফরজ সালাতের জামায়াত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই উঠে দাঁড়িয়ে চলাচল করা শুরু করে দেন। এটা সুন্নাহ-বিরোধী কাজ। এই কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত। নিতান্ত জরুরি না হলে কোন মুসলমানের জন্য উচিত নয় সালাম ফেরানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ধীরে-সুস্থে সালাত শেষ না করে চট করে উঠে দাঁড়িয়ে চলাচল শুরু করা। গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, এটা আদবেরও খেলাফ। কারণ আমরা যদি মনে করি যে, সালাত হলো আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ এবং আল্লাহর সাথে কথোপকথন, তাহলে ভাবতে হবেঃ মহামহিম আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সাথে সাথেই এতটা তাড়াহুড়ো করবো কিনা! এধরণের তাড়াহুড়ো তো সমাজের কোন গণ্যমান্য লোকের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রেও আমরা করি না এবং তা করাটাকে আমরা অভদ্রতা বলে গণ্য করি। অথচ এই ক্ষুদ্র মানুষটার তুলনায় আল্লাহর শান ও মর্যাদা কত সীমাহীন বার বেশী! এছাড়া ফরজ সালাতের পর অন্য সালাতগুলো বাড়িতে এসে অথবা কর্মস্থলে গিয়ে আদায় করার চেষ্টা করা উচিত। তবে, কারো জরুরত থাকলে সেটা ভিন্ন কথা।
এধরণের দৃষ্টি-আকর্ষণী বিষয় যখোন পেশ করা হয় তখোন অযথা নানা যুক্তি দিয়ে, 'এতদিনের অভ্যাসে'র বাহানা দিয়ে অথবা 'এভাবে করলে অসুবিধা কি' ধরনের কথা না বলে আমাদের উচিত বিষয়গুলোকে আপন মনের গভীরে ভেবে দেখা। কারণ, আমার এবং আপনার সকলেরই প্রতি ওয়াক্ত সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের উচিত প্রতি ওয়াক্ত সালাতের গুণগত মান বা ওজন কিভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া, অযথা বিতর্কে জিতে যাওয়া নয়।
আসুন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের দেখানো উপায়ে নামাজ পড়ি, অন্য কারো দেখানো বা শেখানো পদ্ধতিতে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



