পর্ব ১ এখানে
তিন রুটে তিনটা বাস ছিলো তখন ছাত্র ছাত্রীদের জন্য। রূপসা, খালিশপুর আর ফুলবাড়িগেট। তখন কোন ভাড়া করা দোতলা বাস ছিলোনা, নিজস্ব পরিবহন দিয়েই কাজ চলতো। মুজিব ভাই ছিলেন সবথেকে মুরুব্বী ড্রাইভার, খুব চুপচাপ, আর একটা ছিলো চরম ত্যান্দর নামটা মনে নেই। সবথেকে প্রিয় ছিলেন কিশোরদা। উনি কুষ্টিয়া রুটে আগে পরিবহন চালাতেন, বয়সও কম, আমাদের সাথে জমতো খুব। প্রায়সময় অনেকে বিকালের বাসে বের হতো, তারপর সারা শহর ঘুরে আবার ক্যম্পাসে ফেরত আসতো।
অনেক দিন আমরা ঘুরতে বের হতাম, কোনদিন হল ট্রিপে যেতাম ডাকবাংলা অথবা নিউমার্কেট। কিশোরদার সুবিধা ছিলো উনাকে যেকোন যায়গায় থামিয়ে ছেলেরা সিগারেট কিনতো, ভাজাভুজি খেতো অথবা এক কাপ চা। উনি কখনোই বিরক্ত হতেন না। কিন্তু ত্যান্দর যার কথা বললাম, ওর একটা ত্যান্দর হেলপারও ছিলো। ওদের কাজ ছিলো আমাদেরকে যেকোন যায়গায় গাড়ী মেরামতের অজুহাতে নামিয়ে দেয়া। কথা নেই বার্তা নেই হুট করে গাড়ী পেট্রোল পাম্পে, কি ব্যাপার? গিয়ারে সমস্যা, সারাইতে হবে। আমাদের মজা ওদের সহ্যই হতোনা।
কিশোর দার দুটো জমজ ছেলে হলো, ক্যাম্পাসেই থাকতেন পুরো পরিবার, সেই ছেলে দুটো চোখের সামনে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে বড় হয়ে গেলো। উনার একটা কথা খুব মনে পড়ে। যখন ওরকম ঘুরে বেড়াতাম, একদিন কথায় কথায় উনি বললেন, ভার্সিটিতে কারো সাথে প্রেম করবেন না। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক টেকেনা। কথাটাকে যে একদম ফেলে দিলাম তা না, কিছুটা মনেও ধরলো বটে। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই প্রেমের ডায়বেটিক পেসেন্ট হয়ে গেলাম। প্রেমিকাকে না দেখলেই গ্লুকোজ কমে যায়। মজার ব্যাপার হলো, এরপর থেকে আমি লজ্জা পেতে লাগলাম কিশোর দার সামনে। আমার মনে হতে লাগলো, উনি আমাকে বারন করলেন আর আমি শুনলাম না। এভাবে প্রেম গড়িয়ে বিয়ে হলো বিয়ে গড়িয়ে সংসারের কৈশোর পেরুলো। মাঝে মাঝে দেখা হয়, কথা হয়, উনি মিস্টি করে হাসেন, কিন্তু আমার লজ্জাটা থেকেই যায় চায়ের কাপের তলানিটুকুর মতো।
চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


