somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঁচতে চান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৯৫ কেজির মাখন মিয়া, প্রতিনিয়তই বাড়ছে ওজন

২৯ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘যহন প্রেসারটা একটু লো অইয়া যায় তখন খালি খিদা লাগে বেশি। সামনে যা পাই তাই খাইতাম ইচ্ছা করে। খাওয়ন শেষ অয় কিন্তু আমার পেডে খিদা থাহে। অত খাওয়ন আমি পামু কই। পেডে খিদা থাকলে আবার শরীর খারাপ লাগে। ’

কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে উঠলেন, মাখন মিয়া। সামনে থাকা অনেকের চোখেই তখন পানি। মাখন মিয়া চুপ রইলেন অনেকক্ষন। চোখ মুছে বাঁচার আকুতি জানালেন। নিজের চিকিৎসা ও খাবার খরচ জুগানোর জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দক্ষিণ মৌড়াইলের বাসিন্দা মাখন মিয়া। বয়স ৩৮ বছর। ওজন এখন প্রায় ২৯৫ কেজি। প্রতিনিয়তই তাঁর ওজন বাড়ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে চিকিৎসা করিয়েও কোনো ফল হয়নি। এখন হাঁটা চলাও দায় হয়ে পড়েছে তাঁর জন্য।

ছোট বেলাতে এমন ছিলেন না মাখন মিয়া। ২০-২২ বছর বয়স থেকে তাঁর ওজন বাড়তে থাকে। ওজন কমানের জন্য মাটি কাটার মতো পরিশ্রমের কাজে লাগানো হয়। কিন্তু তাতেও ফল আসেনি। এমন তথ্যই দিলেন মাখন মিয়ার বাবা মিলন মিয়া।

গত সোমবার রাতে মাখন মিয়ার বাড়িতে বসে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত লেখা তিনি সযত্নে রেখেছেন। ওই লেখায় উঠে এসেছে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে মিশরের এক নারীর ১০৮ কেজি ওজন কমানোর কথা। ভারতের মুম্বাইয়ে ওই নারীর চিকিৎসা হয়। মাখন মিয়াও চান তাঁর ওজন কমাতে। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যয় বহন তাঁর কিংবা পরিবারের পক্ষে সম্ভব না।

মাখন মিয়া জানান, ২০০১ সাল থেকে তিনি মোটা হতে শুরু করেন। তখন ওজন কমানোর জন্য তিনি ভারী কাজ বেছে নেন ও প্রতিনিয়ত ব্যয়াম করতেন। কিন্তু এতে কাজ হচ্ছিল না। ২০১০ সালের দিকে ওজন ১৫০ কেজি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। ঢাকায় গিয়ে বেশ কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ওষুধ খেয়েছেন। কিন্তু এখনো ওজন বেড়েই চলছে।

রুটি খেলে পেটে সমস্যা দেখা দেয়। যে কারণে তিন বেলা ভাত খেতে হয় মাখন মিয়াকে। তাও আবার নরম করে। এছাড়া অন্যান্য স্বাভাবিক খাবারও খান সাধারণ মানুষের চেয়ে একটু বেশি। ভারী শরীরের কারণে এখন তিনি কোনো কাজই করতে পারেন না। এমনকি প্রাকৃতিক কাজ সারা, বিছানায় শুয়ে থাকাটাও তাঁর জন্য অনেক কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। আত্মীয়-স্বজনরা মাখন মিয়ার খাবার খরচ জুগানোসহ সংসারের অন্যান্য খরচ বহন করছেন।

মাখন মিয়া বিয়ে করেন ২০০৩ সালে। তাঁর বড় ছেলে মো. রাব্বি নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ও মেয়ে নাভা সাহেরা গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। চার ভাই, তিন বোনের সংসারে তিনিই সবার বড়।

মাখন মিয়ার স্ত্রী লুৎফা বেগম জানান, শরীর অনুযায়ী খুব বেশি খাবার খান না তাঁর স্বামী। খাবারের চাহিদাও খুব বেশি নেই। কিন্তু খাবার কম খেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিনকে দিন তিনি মোটা হয়েই চলছেন। এখন তিনি স্বামীকে বাঁচাতে চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা চান।

কথা হয়, দক্ষিণ মৌড়াইলের বাসিন্দা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকন, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. জামাল খান ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফারুক মিয়া, আইনজীবী মো. রুবেল খানের সঙ্গে। তাঁরা জানান, সাম্প্রতিক সে মাখন মিয়া অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেছেন। এখন তাঁর বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে পড়েছে। এলাকার সবাই মিলে তাঁর চিকিৎসা করানোর একটা উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে কোনো সুহৃদয়বান বিত্তশালী ব্যক্তি যদি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তাহলে বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে।

এদিকে মাখন মিয়ার চিকিৎসা সাহাযার্থে অর্থ সংগ্রহের জন্য গত সোমবার তাঁর স্ত্রী লুৎফা বেগমের নামে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখায় নতুন একাউন্ড নম্বর খোলা হয়েছে। যার নং ০২০০০০৯৬৪২৮২০। মাখন মিয়ার মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭৬০৩১১৯৬১।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. আবু সাঈদ বলেন, ২৯৫ কেজি ওজন একজন মানুষের জন্য অস্বাভাবিক। গ্রোথ হরমোন অতিরিক্ত কাজ করলে এমন হতে পারে। নিউরোলজিস্ট ও হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাঁর ওজন বৃদ্ধির বিষয়ে জরুরি চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। ওজন বৃদ্ধির বিষয়টি রোধ করা গেলে পরবর্তীতে হয়তো ওজন কমানোর বিষয়টি চিন্তা করা যেতে পারে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া২৪ডটকম

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×