ব্রিকলেনে একটা জব সেন্টারে পার্টটাইম কাজ করার সুবাদে আব্বাস আলী সাহেবের সাথে পরিচয়। এই জব সেন্টারটিতে অনেক ধরনের কাজ আসে। আর কাজের খোঁজেও আসে হরেক রকমের মানুষ। হরেক রকমের প্রোফাইল তাদের। আমাদেরকে বেছে নিতে হয় তাদের মধ্যে থেকে কে কোন কাজের জন্য উপযুক্ত। মাস দুয়েক আগের ঘটনা। ভীষণ ব্যস্ত মূহুর্ত। আমি লক্ষ্য করিনি কখন আব্বাস আলী সাহেব এসে আমার অফিস কক্ষে ঢুকলেন। এককোনে পাতা চেয়ারে চুপচাপ বসে আছেন। হঠাৎ খেয়াল হলো। বয়স পঞ্চাশ-পন্চান্ন হবে। বেশ লম্বা, হাল্কা পাতলা গড়নের মানুষ। প্রথম দৃষ্টিতেই মনে হবে অনেক ঝড়-ঝঞাট পেরিয়ে আসা এক মানুষ তিনি। তামাটে বর্ণ, খোঁচাখোঁচা দাড়ি-গোঁফ। ভারি কাপড়-চোপড় পরনে। মাথায় খয়েরী রংয়ের মাংকি ক্যাপ। গায়ে দুতিনটা সোয়েটার তো আছেই, তার উপর একটা উলের কোট চাপিয়েছেন। ইউরোপে এখন গ্রীষ্মকাল। যদিও তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। ইংলিশরাতো কোনোরকম লজ্জা নিবারনের জন্যে দুচার টুকরো কাপড় গায়ে রাখছে।
আমি যথারীতি তাকে তার পূর্ণ বায়োডাটা জিজ্ঞেস করলাম। আব্বাস আলী সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। জানালেন তিনি এখানকার একজন অবৈধ অভিবাসী। আমিও নিরাশ করলাম তাকে,
অবৈধ অভিবাসীদের তো কাজ পাওয়া এখন রীতিমত অসম্ভব ব্যাপার।
কি ধরনের কাজ করতেন আপনি?
চোখেমুখে বিরক্তি ফোটিয়ে খাটি সিলেটি ভাষায় জানালেন, কি আর...আজ চৌদ্দপনের বছর তো কাটিয়ে দিলাম রেষ্টুরেন্টের কাজ করতে করতে। এই রেষ্টুরেন্টগুলো আছে বলেই তো আজও আবুলুদ্দিন-কাবুলুদ্দিনরা এদেশে আসতেছে পঙ্গপালের মত। যারা দেশে থাকলে কি কাজ করে দুবেলা অন্ন জুটাতো তারাই জানে।
আমি প্রতিবাদ করলাম, এখনকার প্রজন্ম তো এ থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে চারদিকে। বারক্লে-হেইচএসবির মত বড় বড় প্রতিষ্টানে তারা আজ কাজ করে। আমাকে ব্যঙ্গাত্বক একটা হাসি উপহার দিলেন আব্বাস আলী সাহেব।কথা আর বাড়ালাম না। ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম।
তারপরও আমি আব্বাস আলী সাহেবের বায়োডাটা রাখলাম। যদি কখনো এধরনের লোকের কোনো কাজ আসে তবে তাকে জানাবো বলে আশ্বস্ত করলাম। তাকেও অনুরোধ করলাম মাঝেমধ্যে এখানে এসে খোঁজ নেয়ার জন্য।
...চলবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

