আবুল বরাবরই একটু আবুল টাইপের। আবুলের প্রকৃত সংজ্ঞা না জানার দরুণ সে কখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি আবুলদের জগৎ থেকে। অনেক পড়ালেখা করলেও প্রথম শ্রেনী এখনো বাকি থেকে গেছে আবুলের। প্রথম শ্রেনীর প্রথম ক্লাসে যাবার দিন আবুলের দাদী ঘোষণা করে বসলেন আমার আবুলরে ইস্কুলে দিমু না, ইস্কুলে সব বিচ্ছু পুলাপান, আমার আবুলরে যদি কেউ মাইরা বসে। সেই ঘোষণায় আবুলের সুখ আরো একবছর দীর্ঘায়িত হলো।
প্রথম শ্রেনীর বার্ষিক পরীক্ষার দিন দশেক আগ থেকে ইস্কুলে পা বাড়ায় আবুল। সেই থেকে শুরু। দশম শ্রেনী পর্যন্ত কখনো একা ঘর থেকে বের হতে হয়নি আবুলকে। বাবা, চাচা, মামা কেউ একজন সবসময় থাকতেন তার সাথে। কলেজে যাবার সময় ও পারতঃপক্ষে একা যেতে চাইত না আবুল। আনইজি ফিল করত।
বিলিভ ইট অর নট, সেই আবুলের জীবনে ও একদিন প্রেম এসেছিলো।
মেডিকেল প্রথম বর্ষের প্রথম ক্লাস। সবাই ভীষণ এক্সাইটেড। এনাটমি টিউটরিয়াল ক্লাসে ঝুলানো কংকাল ছুয়ে দেখছে অনেকে, অতি উৎসাহী দুয়েকজন ডু মেরে এসেছে ডিসেকশন রুম থেকে। আর আবুল তখন অন্য জগতে। তার মনে তখন ঘূর্ণিঝড়, হারিকেন, আইলা, নার্গীসের তান্ডব চলছে। কলেজে ঢোকার সময় করিডোরে দেখা সেই মেয়েটি ভর করেছে আবুলের মাথায়। আবুল পাগলের মত দিন কাটায়। কিন্তু মেয়েটিকে বলার সাহস তার হয়না, কারন সে তো আবুল। সে আবুলদের মত অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু প্রেমে পড়া আর তার হয়ে উঠে না।
ইত্যবসরে কিছু ভয়ংকর বিপত্তি দেখা দেয় আবুলের জীবনে। কিছু দজ্জাল টাইপের মেয়ে ছিল ক্লাসে, যারা প্রায়শঃ আবুলকে রেগ দিত। তাতেও সমস্যা ছিল না। সমস্যা হলো যখন অলরেডি প্রেমে পড়া আবুল বুঝতে পারলো এই মেয়েদের দুএকজন তারে নিয়া স্বপ্ন দেখতেছে ( পরে আবুল বুঝতে পেরেছিল দজ্জাল মেয়েদের এক নম্বর পছন্দের বস্তু আবুল টহইপের ছেলে)।
হায় বিপদ! এদের প্রেম ট্যাকল দিতে দিতে আবুলের প্রান প্রায় যায় যায়। এদের প্রেম থেকে বাছার সংগ্রাম করতে করতে আবুল ভুলে যায় তার প্রেমের কথা। আবুলের আর প্রেমে পড়া হয়না। বরঞ্চ তার উপর পড়া প্রেম থেকে বাছার চেষ্টা করতে করতে ক্রমে মেডিকেলের পাঁচটি বছর শেষ হয়ে যায়।
(আবুল সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র হইলেও অনেকের সাথে মিল থাকিতে পারে, ইহার জন্য আমি দায়ী নই।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

