somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তমনাদের ক্ষুদ্রতা, কূপমণ্ডূক মোসলমান

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অভিজিত রায়ের হত্যাকাণ্ডে মুক্তমনা দাবিদার যে অংশটি অতিরিক্ত বিমর্ষ হয়ে পড়েছে তাদের বড় একটা ব্যর্থতা হচ্ছে এরা কোনভাবেই স্বীকার করে নিচ্ছে না যে অভিজিত রায় এবং মুক্তমনা ব্লগটি ধর্ম- বিশেষ করে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষপ্রবণ ছিল। একজন মানুষ যিনি ১৪০০ বছর আগে গত হয়েছেন অথচ এখনও তিনি প্রায় দেড়শো কোটি মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করছেন, তার সম্মানার্থে এখনও মানুষ নির্দ্বিধায় প্রাণ উতসর্গ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না, পৃথিবীর বহু অমুসলিম পণ্ডিতগণ তার কর্মযঞ্জের বিশালতা, নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমে পারস্পরিক কলহে লিপ্ত উষর মরুর পশ্চাদপদ একটি জাতিকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শিক্ষায়, সভ্যতায়, চিকিতসায় পৃথিবীর প্রভু জাতিতে পরিণত করা, রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য যাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখতো তাদেরকে দিয়ে ততকালীন ঐ দুই দুইটি সুপার পাওয়ারকে একই সংগে গুড়িয়ে দেওয়ার মত সংগ্রামী বাহিনী তৈরি করা, ৫ লাখের মত জনসংখ্যার একটি জাতিকে পৃথিবী অভিমুখে বের করার জন্য তৈরি করা, তাদেরকে একটি জীবন বিধান দিয়ে যাওয়া এবং সেই জীবন বিধানটাকে নিজে ধারণ করার মত যে বিশাল ব্যক্তিত্ব, তাকে তারা তার ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ে ঢুকিয়ে ফেলা, গৃহাভ্যন্তদের স্ত্রীদের সাথে তার আচার-আচরণ ইত্যাদি বিষয়গুলোকে হাইলাইট করা, নিয়ত সেগুলো নিয়ে দিনের পর দিন ক্রমাগত লিখে যাওয়া, তার প্রতি অরুচিকর ভাষা প্রয়োগ করে ছোট করার চেষ্টা করা যে কত ক্ষুদ্রতা, কত নীচতা তা এরা উপলব্ধি করতে পারছে না।

এ্ই না পারার একটি কারণ হচ্ছে এরা নিজেরা নিজেরা রোমান্টিক একটি চিন্তা-ধারা সৃষ্টি করে নিয়েছে। শ্লীলতা-অশ্লীলতার কোন মানদণ্ড এরা জানে না, মানে না। বাধাহীন ভোগ-বিলাস, যৌনতা এদের চাহিদা। এরা হাজার হাজার বছর থেকে চলে আসা মূল্যবোধ, সামাজিক মানদণ্ডকে এক লহমায় ভেংগে ফেলতে চায়। এরা জানেনা অথবা জানলেও পাত্তা দিতে চায় না যে কত সংগ্রাম-সংঘর্ষ ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সমাজ আজকের অবস্থানে এসে পৌছেছে। এর পেছনের সমস্ত কৃতিত্বকে এরা অস্বীকার করতে চায়। এদের এসব চিন্তাধারা কনস্ট্রাকটিভ নয়, ডেসট্রাকটিভ। তাদের এসব চিন্তাধারা রোমান্টিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের এই হঠকারী কর্মকাণ্ড, রোমান্টিকতা দিনে দিনে পৃথিবীকে আরো অশান্তিপূর্ণ করতে তুলছে। তাদের এই পাগলামীতে সমর্থন দেওয়া কোন যৌক্তিক কাজ হতে পারে না।

নবী জীবনের ক্ষেত্রে একটা আয়রনি হচ্ছে, এই বিশাল ব্যক্তিত্বকে তার পরবর্তী প্রজন্ম অনেকটাই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। এই যে যে গোষ্ঠীটি তার জন্য প্রাণ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না তারাও কি তার সঠিক মুল্যায়ন করতে পেরেছে? এরাও কি এই বিশাল ব্যক্তিত্বের বিশাল কর্মযজ্ঞকে অস্বীকার কিংবা গোপন করে তার ব্যক্তিগত জীবনের খুটিনাটি পোশাক-আশাক, হাটাচলা, ডান কাতে ঘুমানো, খাওয়ার আগে মিঠাই খাওয়ার মত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পড়ে রয়নি? তারা যেমন নবীর ব্যক্তিগত আচরণ, চলাফেরা ইত্যাদিকে প্রাধান্য দিয়েছে তেমনি কথিত মুক্তমনারাও তার জীবনের খুটিনাটি, অন্দরমহলের গোপন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই স্থানটিতে এই দুটি পক্ষই নবী জীবনের মূল দিকটি ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ তার জীবনের মূল দিকটি ধরতে পারলে এবং সেটাকে অনুসরণ করতে পারলে মুক্তমনারা যেমন পেত তাদের কাংখিত অবিচারহীন দুনিয়া, তেমনি আখেরাতে বিশ্বাসীরা পেত পার্থিব কল্যাণের পাশাপাশি পারলৌকিক মুক্তি। সেটা না করে এখন এরা অর্থহীন বিষয় নিয়ে একজন আরেকজনকে খুন করছে, যা মানব সভ্যতার জন্য বিরাট হুমকি। এখন এই দুয়ের লড়াই থেকে নিজেদের বাচিয়ে রাখতে পারাই হবে অন্যদের প্রধান কর্তব্য।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×