somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুম, খুন এবং রাষ্ট্র বিষয়ক

০৩ রা জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিভ্রান্ত সব শব্দের ভিতরে প্রতিদিন একা একা
খেলা করি, নিজের ভিতরে নিজের যুদ্ধ হয়…

নিজেকে নিজে দণ্ডিত করি, ক্রসফায়ার দিই,
নিজেকেই নিজে দিয়ে দিই দুইশ বছর জেল।
সশ্রম কারাদন্ড! তুই শালা দুইশ বছর কবিতার
ভিতরে পঁচে-গলে মর। নিজের বিরুদ্ধে নিজে
ঘোষনা করি, তোকে কবিতা লেখার সকবিতা
কারাদন্ড দেওয়া হলো। তুই শালা কবিতা লেখ।

কি কি যে সব আমি লিখি, আবার মাঝে মাঝে
কোনো কিছুই লিখি না। একটা ডিস্টোপিয়ান
রাষ্ট্রের চারিত্রিক অধঃপতনের বোঝা মাথায়
নিয়ে আমাদেরকে পথ চলতে হয়। পথ চলতে
চলতে দেখি, আমার শ্রমিক আমরণ অনশনে
মারা যাচ্ছে। আমরা কয়জন উহ আহ করি…

হাঁটতে হাঁটতে আমি দেখতে পাই, আমাকে
গ্রাস করছে পৃথিবীর দূষিততম শহর, আমার
নাকে এসে লাগছে গুম, খুন আর ধর্ষণ শেষে
মেরে ফেলা মৃত সব বেঁচে যাওয়া মানুষের ঘ্রাণ!

একটা পঁয়ত্রিশ টাকা দামের মাক্স কিনে নিজের
ভিতরে নিজে ঢুকে পড়ি। আমার গন্ধ লাগে না!

আমি ভাবি, আমি কবি। আমি ফুল-পাখি, লতা-
পাতা নিয়ে কবিতা লিখবো। প্রেমিকার চুলের
বিন্যাস নিয়ে আমি কবিতা লিখবো। কিন্তু
আমি জানতাম না, একটা ডিস্টোপিয়ান রাষ্ট্রে
কবিদের প্রেম লিখবারও অধিকার থাকে না!

রাষ্ট্র আমাকে জানিয়ে দিলো, আমার পাটকল
শ্রমিক বুড়া চাচা এই রকম আমরণ অনশনে
মারা যাবে। আমার প্রেমিকা কোনো এক রাতে
চিরদিনের জন্য আর বাসায় ফিরে আসবে না।
লতা-পাতা, ফুল-পাখির কবিতাও আমি লিখতে
পারবো না, কারণ; আমরা কয়লা বিদ্যুৎ, চুল্লি
আর উন্নয়ন দিয়ে সমস্ত এলাকা ভরে ফেলবো!

আমি তখন আমার সব খোলস ছেড়ে বের হয়ে
আসি। এক হাতে আমার প্রেমিকার হাত আর
অন্য হাতে আমার কবিতার প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাঁটা
ধরলাম উন্নয়নকামী রাষ্ট্রের মাথামুণ্ডের দিকে…

আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, রাষ্ট্রের কোনো
মাথামুণ্ড নাই! আমি তখন দাবি জানালাম, যেই
রাষ্ট্র আমি পাবার আগেই বেহাত হয়ে গেছিলো,
যেই রাষ্ট্রের কলাটা মুলাটা অন্যরা খায়, সেই
রাষ্ট্র আমার না। গণমানুষের মুক্তির কথা ভাবা
আমার বেহাতি রাষ্ট্রটা আমাকে ফিরিয়ে দিন।

আপনারা তখন হা হা হা করে হেসে উঠলেন--
আমি তখন আরো বেশি নিজের ভিতরে ঢুকে
পড়ি। নিজেকে নিজে ক্রসফায়ার দিই, দুইশ
বছর কারাদণ্ড। আমি ভাবি, আমাকেই এখন
লিখতে হবে, আমাদের বেহাত হয়ে যাওয়া সেই
রাষ্ট্র, যেইটা আসলে আমাদের চরমতম কবিতা।

আমি লিখলাম, আমার রাষ্ট্র আমাকে ফিরিয়ে
দিন। আপনারা আমাকে গুম করে ফেললেন…

বিভ্রান্ত সব শব্দের ভিতরে আমি প্রতিদিন একা
একা খেলা করি। আমাকে আমি খুঁজে পাই না!

০৩ জানুয়ারি, ’২০। পৌষের রাত।
মিরপুর, ঢাকা।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০৩
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×