somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি প্রেসক্রিপশন

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যযুগে আবু আলী ইবনে সিনা ওরফে আবিসেনা ছিলেন একজন নামকরা দার্শনিক ও চিকিৎসক। তিনি যখন গজনীর সুলতান মাহমুদ কর্তৃক তদীয় রাজদরবারকে অলংকৃত করার নির্দেশকে প্রত্যাহার করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তখন একদা তিনি মধ্যপ্রাচ্যের গুরগান নামক স্থানে উপনীত হলেন, যেখানকার শাসনকর্তার নাম ছিল কাবুস। তো একদিন কাবুসের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসক হিসেবে রাজপ্রাসাদে তাঁর ডাক পড়ল। তিনি দেখলেন, রোগী হচ্ছে মনমরা এক যুবক, যার নাড়ি ও পেশাব পরীক্ষা করে কিছুই পাওয়া গেল না। অতঃপর তিনি বললেন, ‘আমি এমন একজন লোক চাই, যে এই ছোট্ট শহরের সব এলাকা, সব রাস্তা, সব বাড়ি ও সব বাড়ির বাসিন্দাদের চেনে।’ তেমন একজন লোক জোগাড় করে আনা হলো।
ইবনে সিনা যুবকটির নাড়িতে হাত রাখলেন এবং আগন্তুক সরবে সব এলাকার নাম বলে যেতে লাগলেন। হঠাৎ একটি এলাকার নাম বলতেই যুবকের নাড়ি একটা ঝাঁকি দিল। ইবনে সিনার নির্দেশে আগন্তুক তখন এলাকার রাস্তাগুলোর নাম ক্রমান্বয়ে বলে যেতে থাকলে একটি রাস্তার নাম উচ্চারণেই নাড়ি পুনরায় ঝাঁকি খেল। ইবনে সিনা সেই রাস্তার সব বাড়ির নাম বলতে বললেন। এবারও একই ঘটনা ঘটল, একটি বাড়ির নাম উচ্চারণেই নাড়ি পুনরায় ঝাঁকি দিল। তখন ইবনে সিনা বললেন, ‘এই বাড়ির সব বাসিন্দার নাম এক এক করে বলে যান।’ এটা করা হলো এবং এবার একটি যুবতী মেয়ের নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে যুবকটির নাড়ি ভীষণভাবে ঝাঁকি খেল। ইবনে সিনা তখন বললেন, এই যুবকটির লাইন ওই যুবতীর সঙ্গে। ওরা দুজনে প্রেমে পড়েছে, কিন্তু অভিভাবকদের বিশেষত শাসনকর্তা কাবুসের ভয়ে সেটা প্রকাশ করতে পারছে না। এদের দুজনের হাত এক করে দিলেই রোগী সেরে উঠবে। তদন্তে সেটা প্রমাণিত হলো এবং চিকিৎসকের স্বরূপও উন্মোচিত হলো।
সুধী পাঠক, ইবনে সিনার মতো এ স্থলে আকিঞ্চন আমিও একটা ব্যবস্থাপত্র দিতে চাই। সরকার বঙ্গবন্ধুর নামে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ নিয়ে যে পেরেশানিতে আছে, তার একমাত্র প্রতিষেধক হলো—সবাই মিলে আমরা ঢাকার বর্তমান বিমানবন্দরটির নাম পুনরায় পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর নামে করে দিই। আপনারা ব্যবস্থাপত্রটা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন আশা করি।
Source: Click This Link

৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×