somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেটা (২)

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ছোট ছেলে ছিল। সে নিজের মত করে চলত। অল্পতেই খুশি থাকত সে।বেশি চাওয়া-পাওয়া তার ছিল না। ঘরের মধ্যেই সে এদিকে ওদিকে হেঁটে বেড়াত। জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখত। ভাবত, দুনিয়াটা অনেক সুন্দর। কিন্তু একদিন তার মা তাকে আগুনের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দিলে তার খুব খারাপ লাগে। নিজের চেষ্টাতেই সে আগুন থেকে উঠে আসে। তার মা তার সাথে কেন এমন করল সে বুঝতে পারে না। তারপরেও সে তার মাকে আপন করে নেয়। মাঝে মধ্যে তার আগুনে পোড়া অংশগুলো জ্বালা করত। কখনও কখনও তার মা তাকে আদর করত। আবার কখনও খারাপ ব্যবহার করত।
জীবনে চলার পথে আরও অনেকের সাথে তার পরিচয় হয়। সবাইকে সে আপন করে নেয়। একদিন তার জন্মদিনে একজন বয়স্ক লোক তাকে একটি সুন্দর নকশা করা ছুরি উপহার দেয়। বলে, ছুরিটা নাকি একদিন ছেলেটার প্রয়োজন হবে। ছেলেটি কিছুই বুঝতে পারে না। সে নিজের মত চলতে থাকে।
একটা সময় ছেলেটা বুঝতে পারে আশেপাশের সবাই তাকে ব্যবহার করছে। ছেলেটার তখন বুঝে যে তার মা জীবন যুদ্ধে তৈরি হওয়ার জন্য তাকে আগুনে ফেলেছিল। এরপর থেকে কারও কাছে থেকে কষ্ট পেলেই ছেলেটা তার ছুরি দিয়ে নিজের হাতের কোন অংশে কেটে দাগ দিত। কারন, ছোটবেলায় আগুনে পরে যেয়েও সে শক্ত হতে পারেনি।
যত দিন যায় তার দুই হাতে কাটা দাগের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একটা সময় সে ভেঙ্গে পড়ে। সব সময় সে কাঁদতে শুরু করে। কিন্তু সে জানে সমাজে এইভাবে সে চলতে পারবে না। তাই সে একটি কাগজের মুখোশ বানায়। মুখোশটির মুখে ছিল হাসি আঁকান। ছেলেটা মুখোশ পরে সব জায়গায় হেঁটে বেড়াত। আর ভাবত সব মানুষই একই রকম। কিন্তু সে কেন আলাদা। তাহলে কি সে মানুষ না। নাকি তুচ্ছ অন্য কোন প্রানী।
একদিন বৃষ্টিতে তার মুখোশটা নষ্ট হয়ে যায়। পুকুরের পানিতে তাকিয়ে দেখে সে আর আগের মত নেই। তার বয়স অনেক বেড়ে গিয়েছে। সবাই আগের মত থাকলেও তাকে দেখাচ্ছে আশি-নব্বই বছরের বুড়ার মত। ছেলেটা তখন দৌড়ে ঘরে গিয়ে দরজা আটকিয়ে দেয়। কারও সাথে আর দেখাও করে না আর কথাও বলে না।
একদিন সূর্য উঠলে সে ভাবে নতুন দিন হয়ত এসেছে। কিন্তু ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সে দেখে সে হাটা ভুলে গিয়েছে। অনেক চেষ্টার পর সে এক সময় দৌড়াতে শুরু করে। কিন্তু পথে প্রায় সময়ই তার হাতের কাটা দাগগুলো জ্বালা করে উঠে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×