somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

_____বৃষ্টির একাল সেকাল_____

০৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজকে সকাল থেকেই টুপটুপ করে বৃষ্টিপড়ছে। অন্যান্য দিনের চেয়ে আজকের আবহাওয়া অন্যরকম। তারচেয়ে আজকের বৃষ্টিটাও অন্যরকম।
"
"
....................ঝিরি ঝিরি করে বৃষ্টি
পড়ছে। অন্যদিন বৃষ্টির সাথে ধমকা
বাতাস বয়ে বেড়ায় আজ সেটা হচ্ছেনা। কেন যেন আজকে ইচ্ছে হলো বৃষ্টিতে ভিজতে তাই ভিজতেছি । রিমঝিম বৃষ্টি আমাকে যখন ছুয়ে যাই তখন আমি আর আমি থাকিনা আমি হয়ে যাই ছোট এক অবুজ শিশু। আমাকে মনে করিয়ে দেয় সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা যেখানে আমি ছোট ছেলে সিহাব।
"
ছোটতে যখন বৃষ্টি হত আমি তখন বৃষ্টিতে পিচ্চি ছেলেদের সাথে ভিজতাম, ফুটবল খেলতাম, দৌড় দিয়ে মাটিতে পিচ্ছিল দিতাম এবং তাদের সাথে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করতাম কতই না মজা হত। পিচ্ছিল দিবার সময় মাটিতে বসে যেতাম বলে প্যাণ্ট ছিড়ে যেতো।
"
তখন লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়িতে ঢুকতাম কিন্তু মা আমাকে দেখে নিলে অনেক বকাবকি করত, মারতো কিন্তু বাবা থাকলে আমাকে মার সামনে থেকে আড়ালে নিয়ে চলে যেত এবং কাছে নিয়ে বলত বাবা বৃষ্টিতে ভিজতে নেই জ্বর হবে। মা আমাদের কাছে চলে আসত এবং মা বাবাকে বলত তোমার কারনে ছেলেটা দিন দিন একটা বাদর তৈরি হচ্ছে, আমাকে কেন্দ্র করে তারা ঝগড়া করতে থাকত। আমি তখন বলতাম আর বৃষ্টি ভিজবোনা প্রমিশ।এই কথা শুনে তখন তারা শান্ত হত।
"
অবুঝ মন,
আবার যখন বৃষ্টি হত তখন মা বাবার চোখে ফাকি দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতাম, খেলা করতাম। যখন স্কুলে পড়তাম তখন বৃষ্টি হলে ক্লাশ বাদ দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতাম, স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে ফুটবল খেলতাম এবং আর কত কি করতাম। তার পড়াদিন স্কুলে হেডমাষ্টার আমাদেরকে সবার সামনে ডেকে বকা দিত, মারতো, কান ধরাতো ইত্যাদি নানা ভাবে শাস্তি দিত। তখন অনেক রাগ/ক্ষোব হত। আবার যখন বৃষ্টি হত ফের চলে যেতাম। সে সময় মনকে ধড়ে রাখতে পারতামনা।
"
"
মা আমাকে বৃষ্টিতে ভিজা শরিরে দেখলে বকাদিত & তাড়াতাড়ি মাথা মুছে দিত। আমের সময় ঝড় বৃিষ্ট হলে মা আমাকে বাগানে যেতে দিতনা বলত বিজলী পরবে গাছের ডাল ভেঙ্গে পরবে, তাও জোর করে যাওয়ার চেষ্টা করতাম কোন দিন যেতে পারতাম আর কোন দিন যেতে পারতাম না। বৃষ্টির দিনে আমি যতখন বাইরে থাকতাম ততখন মা আমাকে নিয়ে চিন্তা করত কে জানে কথায় আছে কি করতেছে । বৃষ্টিতে ভিজে যখন আমার জ্বর হত তখন মা আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করত যেন আমি তারাতারি সুস্থ হয়ে যাই, মা সারা রাত আমার পাশে জেগে থাকতো, মা মাঝে মাঝে আমার কপালে জল পট্টি দিত এবং মাথাই পানি ঢেলে দিত আর কত কি করত। বৃষ্টিতে যখন সবাই ভিজতাম তখন একসাথে একটা ছড়া বলতাম;
"আই বৃষ্টি ঝেপ্পে
ধান দিব মেপ্পে
লেবুর পাতা করমচা
যা বৃষ্টি ঝড়ে যা"
"
"
বর্তমান সময় এখনও বৃষ্টি হয়, ঝড় হয়। বৃষ্টিতে ভিজি, ফুটবল খেলি, বন্ধুদের সাথে কত দুষ্টামি করি। যখন বৃষ্টিতে ভিজি তখন ছোট কালের স্মৃতি মনে পরে, তখন নিজেকে প্রশ্ন করি: কই এখন কেউ তো বলেনা বাবা সিহাব বৃষ্টিতে ভিজোনা অসুখ হবে,কেউ তো আমাকে বকাবকি করেনা, কেউ তো আমার মাথা মুছে দেয় না। আমি কলেজে ঠিকমত ক্লাশ করিনা বিষেশ করে বৃষ্টির দিনে, কই তখন তো আমাই কেউ কিছু বলে না, কেন বলে না? আমার জ্বর হলে আমার পাশে তো আর মাকে পাইনা। কেন পাশে পাইনা????আমি কি বড় হয়ে ভুল করেছি?
"
"
আমি আর দেখতে /শুনতে পাইনা আমার জন্য মা বাবা মধ্যে ঝগড়া,পাইনা আমি মা- আর বকানি, পাইনা বাবা আদর।
"I miss you Mother & Father"
"
"
"মা- বাবা আমি চাইনা বড় হত আমি তোমাদের কাছে ছোট শিশু সিহাব হয়ে থাকতে চাই"
★বয়স যত বাড়ছে,
দুরত্বও তত বাড়ছে★
Writer:- Azizur Rahman
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ৯:৫৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×