somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

®হায়রে ভ্রমন®

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি মাহিম। আমি ছোট বেলা থেকে ঘুরাঘুরি করতে বেশি ভালবাসি। এই ঘুরাঘুরি বেশি করতাম বলে বাবার কাছে কত যে বকা খেয়েছি তার কোন হিসাব নাই। এখন আমি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি পড়ি। রাজশাহীতে মেসে থাকি। সিমান & অনু আমার রুমমেট । কিছু দিন পর সিমান আমাকে বলল, তোমার এলাকাই দেখার মত কোন জায়গা আসে????
- হুম আছে। আমি সিমানকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কি ভ্রমন করতে ভালোবাসো?
-সিমান : হুম
-(যাই হোক আমি একজন ভ্রমন সঙ্গি পেলাম)চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাবু ডাং ও সোনা মসজিদ ইত্যাদি।
-®অকে, রেডি থাকিও।
,
এভাবে অনেক দিন পার হয়ে গেল।
হঠাৎ একদিন রাতে আমি টিউশনি করিয়ে মেসে আসি, ঠিক তখনিই সিমান এবং অনু আমাকে বললএখন বাবু ডাং যেতে হবে আমরা রেডি। ঘড়িতে তখন ৮ টা বাজে। ( আমি অবশ্যই ব্যস্ত ছিলাম কিন্তু আমি না গেলেও উনারা চলে যাবে (এমন অবস্থা)। আমার এলাকা যাবে আমি না গেলে হয়। তখন বললাম আচ্ছা ঠিক আছে রেডি হয়ে আসছি। আমি চিন্তা করলাম বাসে না গিয়ে ট্রেন যাই কারন আমি ট্রেন ভ্রমন করতে ভালোবাসি।
.
আমরা মেস থেকে বেরিয়ে একটা রিক্সা নিয়ে রেলওয়ে ষ্টেশন আসলাম। ট্রেন ছাড়ার সঠিক সময় রাত ৮.৪৫মি: কিন্তু ট্রেন এলো ১১.৩০মি:। ট্রেনে যাত্রা শুরু করলাম ।আমনুরা পৌছালাম রাত ২টাই। আমাদের প্ল্যান ছিল রাতে ট্রেনে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌছাবো এবং সকালে বাবু ডাং চলে যাব কিন্তু আশাই গুড়েবালি, আমানুরা এসে জানতে পারলাম ট্রেন চাঁপাই যাবে না, সরাসরি রহনপুর চলে যাবে। আমরা তখন সিধান্ত নিলাম আমনুরা থেকে বাবু ডাং হেটে চলে যাব। যেই কথা সে কাজ ট্রেন থেকে নেমে পরলাম। প্লাটফরমে নেমে ১টা পানির বোতল ও কিছু খাবার কিনলাম। হঠাৎ একটা মানুষ এসে বলল পানি খাব। বোতল দিলাম কিন্তু পানি না খেয়ে বোতলের মুখে নিজের হাতের ময়লা উঠাচ্ছে( দেখতে ভাল কিন্তু পাগল) এই কান্ড দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে পানির বোতলটা বাইরে ফেলে দিলাম।
.
আমরা রেললাইন ধরে হাটা শুরু করলাম। রাতে আমাদের কাছে নিজের ঘাড়ব্যাগ এবং মোবাইল ছাড়া আর কিছুই নাই। তিন জন মিলে গল্প করতেছি আর হাটতেছি। রেললাইনের আশে পাশে কোন বাড়ি ঘর নাই, কিছু সময় দেখি ফাকা মাঠ আবার কিছু সময় অন্ধকার কিছুই দেখা যাই না। মাঝে মধ্যে বড় বড় গাছ, আর এসব গাছ থেকে কত ভয়ংকর ভয়ংকর শব্দ আসতেছে। সবার ভিতর ভয় ভয় কাজ করছে। হঠাৎ দেখি রেললাইনের পাশে সাদা কাপড় পড়ে কে যেন শুয়ে আছে। যেখানে শুয়ে আছে তার পাশে ভুট্টার চাষ। আমরা কিছু না দেখার ভান করে পাড় হয়ে গেলাম। তারপর আমরা বলতে লাগলাম কে ছিল ওখানে , ট্রেনে কি কাটা পরেছে, / শুয়ে আছে,না অন্য কিছু হবে? সিমান বলল চল দেখে আসি,কোন খারাপ কিছু হলে কেটে পরব।
- অনু: ওকে ,ঘুরে দেখি সেখানে কিছুই নাই, আমরাতো পুরায় অবাক, কোথায় গেল মানুষটা?
আমরা আসে পাশে খুজলাম কিন্তু কোন কিছুই পেলাম না। তখন আমাদের মাঝে ভয় কাজ করতে লাগল। মনে হচ্ছে আমাদের সাথে খারাপ কোন কিছু হতে চলেছে। আমরা সবাই আল্লাহর নাম নিয়ে হাটতে শুরু করলাম।
.
রেললাইন ছেড়ে রাস্তাই হাটতেছি। ফজরের আযান দিবে এমন সময় একটা মানুষ সাইকেলে আসতেছিল। তিনি আমাদের দেখে ১৫ /২০ হাত দুরেই দাড়িয়ে গেলেন। তিনি আমাদের সাথে ভিত কাপা কাপা কন্ঠে প্রশ্ন করলো : আপনারা কথা থেকে এলেন, কোথায় যাবেন??
-অনু বলল;আমার রাজশাহী থেকে এসেছি, বাবু ডাং যাব, আপনি কোথায় যাবেন?
-আমাদের গ্রামে ডাকাত পড়েছে।
-সিমান: কি বলেন ডাকাত!
-ডাকাতরা একজনকে ছুড়ি মেড়ে টাকা পয়সা, মোবাইল নিয়ে গেছে, আমি ডাক্তার আনতে যাইতেছি।
-সিমান:ওমা আমাদের আর রক্ষা নাই গ্রামের জনগন দেখলে মার একটাও মাটিতে পরবেনা। আমাদের ডাকাত মনে করে পিটাবে। (কারন আমাদের যদি প্রশ্ন করে, তোমরা এতো রাতে কথা থেকে এলে & কথায় যাবে? আমরা যদি বলি এভাবে, এই জন্য এসেছি, তা জনগণ বিশ্বাস করবেনা)।
মনে হয় আজ রাতটাই শেষ রাত। (চাঁপাইনবাবগঞ্জ কয়েক মাস আগে ডাকাত সন্দেহ ২ জনকে পিটায়ে মাড়িয়া ফ্যালাইছে জনগন)
কি জন্য যে এই ভ্রমনে এলাম আল্লাহ তুমি আমাদের রক্ষা কর। আমাদের সবার ভিতর ভয় কাজ করছে। কি যে আছে কপালে আল্লাহ জানে। আমি বললাম চল আমরা সকাল পর্যন্ত কোথাও লুকিয়ে থাকি। সবাই একমত হয়ে পাশের ক্ষেতে আশ্রয় নিলাম। সকালে বের হয়ে, মসজিদে নামায পড়লাম। আবার হাটাশুরু করলাম। রাতে যে ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছিল উনার সাথে দেখা হল, কথা বললাম। হাটতে হাটতে বাবু ডাং পৌছালাম। মনের ভিতরে ভয় নিয়ে কমবেশি সব জায়গা ঘুরে দেখলাম, কিছু ছবিও তুললাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসে ট্রেন ধরলাম এবং রাতে রাজশাহী পৌছলাম। এভাবে সখের ভ্রমন শেষ করলাম।
®এই ভ্রমন জীবনে কোনদিন ভুলবো না®
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×