নতুন বাড়িতে মার্ক টোয়েনের প্রথম দিনটা আনন্দেই কেটেছে বলা যায় ।
খুব শিগগিরই স্টর্মফিল্ডের মায়ায় পড়ে গেলেন টোয়েন, আর নিউ ইয়র্কের পাট চুকিয়ে এখানেই স্থায়ীভআবে আড্ডা গাড়লেন । বিশেষ অনুরোধ করলেই তবে নিউ ইয়র্কের কোনো ফাংশনে যেতেন তিনি । শেষ পর্যন্ত আর অনুরোধেও ঢেঁকি গেলাতে আজি করা গেল না তাঁকে । বাড়িতেই যথেষ্ট বন্ধুবান্ধবের সমাগম ঘটত ।
বিলিয়ার্ড রুমটাকে তিনি বলতেন 'অ্যাকুরিয়াম,' । দেয়াল জুড়ে নানান মাছের মোটিফ ছিল । সমস্ত অল্পবয়সী মেয়েরা একটা মাছকে 'নিজের' বলে বেছে সেখানে তাদের নাম লিখতে পারত । ফলে তারা 'অ্যাকুরিয়াম ক্লাবের' সদস্য হয়েছে বলে ধরে নেয়া হতো ।
তবে বাড়িটার আসল মালিক ছিল বিড়ালরা । এমন কী বিলিয়ার্ড খেলার সময়েও এক আধটা বিড়ালের বাচ্চা টেবিলের উপর বলের পিছনে ছুটত! কিন্তু সেগুলোকে না সরিয়ে অন্য অ্যাঙ্গলে শট নিতে হত খেলোয়ারদের ।
মার্ক টোয়েনের সচিব মি. আলবার্ট পেইন তখন মাইল খানেক দুরের একটা বাড়িতে থাকতেন । কাজ ছাড়াও বিলিয়ার্ড খেলা ও গল্প গুজবের জন্য তিনি আসতেন । এলাকায় একজন স্টেনোগ্রাফারও ছিল ডিক্টেশন নেয়ার জন্য, যদিও খুব বেশি ডিক্টেশন দিতেন না তিনি । অল্প-স্বল্প লেখালেখিও করছিলেন তিনি । 'ইজ শেক্সপিয়ার ডেড?' এসময়ই লেখা ।
তারপরে শীতকালে মি. পেইন ইউরোপ ও ভুমধ্যসাগর অঞ্চলে গেলেন । ফিরে এসে দেখলেন মার্ক টোয়েনের মেয়ে জিন উঠেছে বাবার বাসায় । এবং টোয়েনের স্বাস্থ্যেও সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন তিনি ।
ডাক্তাররা ধুমপান কমাতে বা একদম না করতে পরামর্শ দিচ্ছিলেন । খুব তাড়াহুড়ো করে সিঁড়িভাঙ্গার অভ্যাসটাও তাঁরা ছাড়তে বলছিলেন । বুকের ব্যাথা বা অ্যানজাইনা পেক্টোরিসে ভুগছিলেন টোয়েন । যেটা বুকের পেশীতে অক্সিজেনের অভাব হলে হয়ে থাকে ।
মার্ক টোয়েনের জমির একটা নির্জন সেডার গাছে ঘেরা অংশে আলবার্ট পেইন একটা পড়ার ঘর বানালেন, যার নাম দেয়া হলো 'মার্কল্যান্ড' । সেখানে আরেকটা বিলিয়ার্ড টেবিল (এটা হেনরি রজার্সের দেয়া, নিউ ইয়র্কে পড়েছিল এতদিন) নিয়ে আসা হলো । সেখানে দুজনে জন্ম-মৃত্যু-সৃষ্টি সমস্ত ব্যাপারে আলাপ করতেন ।
জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলতে ভাল বাসতেন তিনি । সুর্যের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র পঁচিশ ট্রিলিয়ন মাইল দূরে আছে এই তথ্যটা শুনে ভীষণ অবাক হয়েছিলেন । পাতার পর পাতা নানান জ্যোতিরবৈজ্ঞানিক তথ্যে ভরিয়ে ফেলতেন তিনি ।
ধুমকেতু আকর্ষণ করত তাঁকে এবং একদিন বলে ফেললেন । 'আমি হ্যালির ধুমকেতুর সাথে এসেছি, এবং হ্যালির ধুমকেতুর সাথেই যেতে পারলে খুব ভাল হয় (!)'
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



