প্রথমেই এই সিরিজকে ব্লগের সমস্ত 'উস্কানীদাতা' লোকদের উৎসর্গ করছি, যাদের 'চলুক! চলুক!' 'পড়ছি' 'ভাল লাগছে' রব এই লেখাকে একেবারে শেষ অর্থাৎ অন্তিম মুহুর্ত পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে ।
যতদূর মনে পড়ে সেই কমেন্ট করেছেন বা মেইল দিয়েছেন সেই (অবশ্যই নন অ্যালফাবেটিক, নন ক্রনোলজিক্যাল) ক্রম অনুসারে বলছি, কেউ বাদ পড়লে আওয়াজ দিয়েন,
১) কালপুরুষ
২)কৌশিক
৩) আরশাদ রহমান
৪) মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান
৫) মাহবুব সুমন
৬)জেবতিক আরিফ
৭) অঃরঃপি
৮) জ্বীনের বাদশা
৯) জামাল ভাস্কর
১০) এসএম মাহবুব মুর্শেদ
১১) দ্রোহী
১২)বাকীবিল্লাহ
১৩) ফারহান দাউদ
১৪) হযবরল
বাকিদের মনে করতে পারছি না ।
১৫)....
১৬)...
****
অনেকদিন আগে গ্যোটে ইনস্টিটিউটে দেখা হয়েছিল একজন 'প্রৌঢ়' তরুনের সাথে । ছোটখাটো মানুষ, অফুরন্ত প্রাণশক্তি, আমুদে এবং যাকে বলে সবজান্তা ও বহুদর্শী পাবলিক ।
মাঝে মাঝেই লাইব্রেরিয়ান মতিউর রহমান খানের (হের খান!) সাথে আলাপচারিতা জুড়ে দিতেন । ক্ষুদে গ্রন্থাগারটির সব কোণা থেকে শোনা যেত সেই আলাপ । (খান সাহেবেরও ভয়ানক কথা বলার বাতিক ছিল, সম্ভবত সেই সুত্রেই চাকরিটি খোয়ান তিনি, কোন অবুঝদার নিশ্চয়ই রিপোর্ট করেছিল, হের খান কাজের চেয়ে কথা বলেন বেশি)
সে যাহোক, হের খান পরিচয় করিয়ে দিলেন, অন্য ভদ্রলোকটি সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাইপো সৈয়দ মাহবুব আলী । এবারে খানকে ফেলে আমার উপর বাক্যবাণ বর্ষণ করতে লাগলেন সৈয়দ সাহেব । যেহেতু বিষয়বস্তু মুজতবা আলী বলে গোগ্রাসে গিলেছি তাঁর কথা ।
কিন্তু একবার একটা কথা বিশেষ দাগ কেটেছিল ।
'ইয়াংম্যান, (নিজেকে তিনি বলতেন "ইয়াংগিশ ওল্ডম্যান" বলে) কখনো যদি কোনো বায়োগ্রাফি লেখো তো সাবজেক্টের মৃত্যুটা প্রথম চ্যাপ্টারে এনে, বাকিটা ফ্ল্যাশব্যাকে দিও । নইলে শেষে তোমার লেখার টেম্পো নষ্ট হয়ে যাবে ।'
যদিও তখন কোনো লেখালেখিই করিনি আমি, জীবনী লেখার (এমন পকেট-সাইজ জীবনী লেখার ও স্বপ্ন দেখিনি তখন) তো প্রশ্নই ওঠে না । মাহবুব আলীর উজ্জল কিন্তু ছানি পড়ে নিষ্প্রভ হয়ে আসা চোখজোড়ার দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়েছিলাম আমি । নিশ্চয়ই, এ আবার বলে দিতে হয় !
হ্যাঁ, অনেক দিন পরে মনে পড়ল কথাটা । জরা, ক্ষয় ও মৃত্যু নিয়েই নশ্বর মানুষের জীবন । এবং শেষ অবধি তাতেই আত্ম-সমর্পণ ও নির্বাণ তার শেষ পরিনতি । কিন্তু দীর্ঘ আখ্যান তো তার লেখক ও পাঠককেও আচ্ছ্ন্ন করে ।
*******
আগেই বলেছি এই লেখাটা অনেক জায়গা থেকে টোকা । স্টার্লিং নর্থের 'মার্ক টোয়েন অ্যান্ড রিভার' বইটা না পড়লে আমি টোয়েনের রচনায় আত্ম-জৈবনিক প্রভাব সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না । কিন্তু পরে দেখলাম মার্ক টোয়েনের সচিব আলবার্ট বিগেলো পেইনের (নর্থ স্বীকার করেছেন সেটা অকপটে) 'এ বয়েজ লাইফ' থেকে অত্যন্ত উদার হাতে টুকেছেন স্টার্লিং নর্থ । মোটামুটি ভাবে সুত্র গুলো হচ্ছে ।
Mark Twain and River (Sterling North, 1962)
The Boy's Life of Mark Twain ( Albert Bigellow Paine, 1924),
Roughing It (Mark Twain)
A Burlesque Autobiography (Mark Twain)
এবং বিস্তর ওয়েবসাইট !
ধন্যবাদ সবাইকে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


