somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিউটি টেনিস, টেনিস খেলার একটি নতুন সংস্করন

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। টেনিস খেলার সর্বশেষ সংস্করণের নাম বিউটি টেনিস। ভলিবলের নতুন সংস্করণ যেমন বিচ (কুত্তি নয়, সৈকত) ভলিবল তেমনি বিউটি টেনিস। এই খেলার অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট হচ্ছে যে এটি শুধু শারিরীক খেলা নয়, শরীর ও বুদ্ধিবৃত্তির চমৎকার একটি সমন্বয় ঘটেছে এখানে।
সাধারণ টেনিসের সাথে এ খেলার প্রথম পার্থক্যের জায়গা হচ্ছে যে এই খেলায় কমপক্ষে এগারোজন মূল খেলোয়াড় লাগে। তাছাড়া ও লাগে অন্যান্য সহযোগী। অন্যান্য খেলার মতো 11 জনের একজন ক্যাপ্টেন বা প্রধান খেলোয়াড় থাকেন। তবে তাকে ব্যাংকার হতে হবে এমন কোন পূর্বশর্ত নেই।
এই খেলায় মূল 11 জন খেলোয়াড় 1 টি ভেনু্য নির্বাচন করেন। যেহেতুখেলাটি ব্যয়বহুল এ কারনে খেলার মাঠে অবশ্যই কয়েকজন বিদেশী অতিথিকে দাওয়াত দিতে হবে। তার সাজগোজ করে খেলার মাঠের সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গাটিতে আসন নেবেন। তবে তারা সুন্দর ও হতে পারেন আবার অসুন্দর ও হতে পারেন ( উদাহরণ হিসেবে কি বলা যায়... কি বলা যায়... এই যেমন বর্তমান মার্কিন রাস্ট্রদুত প্যাট্রিসিয়া বিউটিনেসের মতো সুন্দরী হতে পারেন আবার আগের মার্কিন রাস্ট্রদুতের মতো বেঢপ, কদর্য ও হতে পারেন, এটি নিছকই উদাহরণ, দয়া করে অন্য কোন উদ্দেশ্য আবিস্কার করবেন না)।
এই খেলায় টেনিস র্যাকেটের বদলে মুগুর সাইজের একটি ব্যাটের ব্যবহার হয়, একারনে মুগুর ভাজতে পারে এরকম কিছু সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক দরকার হয়। ( যারা নিয়মিত পিটি বা কুচকাওয়াজে অংশ গ্রহণ করে এরকম লোক হলে ভালো হয়)। দর্শক হিসেবে আশেপাশের পাবলিক খবর দিতে হয় যারা এ খেলার প্রতিটি মুহুর্ত উপভোগ করবে। এলাকার প্রভাবশালী বা নেতাগোছের যারা তারা দর্শকের আসনে থাকবেন না, তারা থাকবেন মাঠের মধ্যে। প্রসঙ্গত বলা দরকার এ খেলায় মূল খেলার চেয়ে খেলার প্রস্তুতি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগেই বলা হয়েছে ব্যয় নির্বাহ সহ যাবতীয় আয়োজনে মূল ভূমিকা পালন করেন বিদেশী অতিথিরা। খেলার প্রাক প্রস্তুতিকে কোন নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে রাখা হয়নি। এটি খেলোয়াড়দের জন্য মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে খেলায় অংশগ্রহণে এলাকার মোড়লদের বিবাদ কাজে লাগিয়ে খেলার সবচেয়ে আকর্ষনীয় অংশের প্রস্তুতি নেয়া হয়। যে কারনে এ খেলায় বুদ্ধিবৃত্তির একটি বিশেষ ভুমিকা রয়েছে।
খেলার শুরুতে মুগুরধারীরা মাঠের মধ্যে মুগুর ঘুরিয়ে এলোপাথাড়ি দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন। কিছুক্ষণ পরেই তারা মাঠের মধ্যে উপস্থিত মোড়লদের ধাওয়া করেন। মোড়লদের হাতে নির্যাতিত উপস্থিত দর্শক মজা পেয়ে হাততালি দিয়ে ফাটিয়ে ফেলেন। খেলা শুরু হয়ে যায়।
খেলার এক পর্যায়ে উপস্থিত হন আরো কিছু স্বেচ্ছাসেবক যারা মাইক্রোফোন হাতে খেলার ধারাবিবরণী দেয়া শুরু করেন। তাদের সবার পকেটে থাকে বড়োসড়ো সাইজের একটি ধুলোর প্যাকেট। তারা কৌশলে দর্শকদের মধ্যে প্রবেশ করে ধুলা উড়াতে থাকেন। ধুলোয় ধোয়াশা হয়ে যায় চারিদিক। এই ফাকে বিদেশী অতিথিরা মুগুরধারী ও দৌড়ের ওপর থাকা মাতবরদের কাছে ডাকেন। তখন এ খেলার ফরমেট বদলে অনেকটা লুকোচুরি খেলার রুপ নেয়। কি যেন ফিসফিস চলতে থাকে। দর্শকরা ব্যস্ত থাকে চোখের ধুলা অপসারণে। ধুলো যতক্ষণে অপসারিত ততক্ষণে খেলা প্রায় শেষ। তাদের মনে তারপরেও আনন্দ। কারন অত্যাচারি মোড়ল যে ধাবড়ানি খেয়েছে তা তার মনে মহা সুখানুভুতি এ েন দেয়। আয়োজকদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তারা মনের সুখে বাড়ী যায়।
খেলা এখনো শেষ হয়নি। বাড়ী ফিরে দর্শকরা দেখতে পায় তাদের ঘটি বাটি কিছুই নেই। তারা অবাক হয়ে আয়োজকদের কাছে জানতে চায় , ঘটনা কি? তারা উত্তর পায় এ খেলার নাকি এরকমই নিয়ম। বিদেশী অতিথিদের উপটৌকন হিসেবে দেয়ার মতো আর কিছু তো নেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপালিশ গাছের ফল চাম কাঠাল এর উপকারিতা

লিখেছেন রবিন.হুড, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৮


চাপালিশ, চামল, চাম্বল, চাম্বুল, টোপোনি (মগ), বলস্রাম (গারো), কাঁঠালি চাম বা চাম কাঁঠাল (বৈজ্ঞানিক নাম: Artocarpus chama; আর্টোকার্পাস চামা) হচ্ছে মোরাসি পরিবারের কাঁঠাল-জাতীয় একটি বন্য প্রজাতির ফল। বিপন্ন এই বৃক্ষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×