somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানব মস্তিস্কে ছিট, সিট আর shit-এর কথকতা

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই শোনো, তোমার মাথায় না shit আছে। একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। ইংলিশ উচ্চারণে বলাতেই কিনা জানি না, ঠিক বুঝতে পারলাম না উনি আমাকে শিট বললেন না ছিট বুঝালেন!

শিট বলার তো কোন কারণ-ই নেই। ডাক্তারী অভিধানগুলোর কোন বইগুলো'র কোন পেজে মানুষের মাথায় পায়খানা থাকার কথা বলা হয়েছে জিজ্ঞাসা করতে গিয়েও করতে পারলাম না।

ভদ্রলোক মুরুব্বী মানুষ। তার উপর সম্পর্কে আবার আমার অতি নিকটাত্মীয়। ছোটবেলা থেকে খুব কাছের লোক বলেই জানি। বেজায় নামকরা ডাক্তার। একদম রয়াল মেডিক্যাল কলেজের মেন্টাল হেল্থ স্পেশিয়ালিস্ট। হতে পারে উনাদের কোন এক বইতে মানুষের মাথায় ঐ '...' জিনিসটা থাকার কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি ডাক্তারীবিদ্যা'র কি জানি?

কিন্তু, তারপরও মন মানে না। মাথায় ঐ বিশেষ পদার্থটা নিয়ে চলা-ফেরা করছি মনে হতেই গা গুলিয়ে উঠলো। মুখ অমাবস্যার রাতের চেয়েও বেশি কালো হয়ে গেলো। ধ্যাৎ! জীবনটা একদম কেরোসিন হবার জোগাড়।

আবার মনে হলো, উনি তো আমার কাজিনের ফুফুর চাচাতো বোনের জামাই-এর জ্যেটালি'র চাচা। এতো কাছের মানুষ কিভাবে এই কথা বলতে পারেন আমাকে!

তাহলে হয়তো, সিট বলেছেন। চিন্তায় পড়ে গেলাম এইবার। মাথায় হাত দিয়ে বুঝার চেষ্টা করলাম মাথায় কেউ ঘুমের মধ্যে সিট বসিয়ে দিলো না তো!

হবে হয়তো। লন্ডন শহরে কত কিই-না ঘটে! রাত-দুপুরে মানুষ হাপিশ হয়ে যায়, গ্যাস ছড়িয়ে মানুষ মেরে ফেলে যেখানে, ঘুমের মাঝে সিট বসিয়ে দেওয়া তো দুই আঙুলের ব্যাপার।

তাহলে তো এ মহা মুশকিলের ব্যাপার! উনারা আমার মাথায় সওয়ার কথা চিন্তা করলে তো সত্যিই চিন্তার কথা।

আচ্ছা, সিট যদি থেকেই থাকে, তাহলে কয় সিট- দুই-চার না ছয়?

সিট কম থাকলে তো আবার সমস্যা। আত্মীয়দের মানা করবো কিভাবে!

এবারে গাণিতিক ভাবে সমস্যাটা সমাধানের দিকে এগুতে চেষ্টা করলাম। কি ধরণের সিটের কথা উনারা বলছেন- রিক্সা, গাড়ি, প্লেইন নাকি জাহাজ? লন্ডন শহরের কিনারায় পড়া ছিমছাম একটি এলাকার রাজপ্রাসাদের মতো ঐ বাড়ি'র কিচেনে বসে ভাবতে ভাবতেই মাথাটা ঘুরপাক দিয়ে উঠলো। পুরো বাড়িতে পায়চারী দিয়ে ঘুরে আসার কথাও চিন্তা করে ফেললাম একবার।

জিনিসটা নিয়ে ভাবতে হবে। বিস্তর ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন আছে। রিক্সায় আছে ২-টি সিট। যদিও প্রায়শ্ঃ-ই মেয়ে-ছেলে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা নির্বিশেষে একে চারটি বানিয়ে নিজেদের চাপিয়ে-চুপিয়ে সওয়ার হয়ে পড়েন বেচারা রিক্সাওয়ালার কাঁধে। বেজায় চোখ-রাঙানী, ধমক কিংবা রমনীয় কোমল গলার আদুরী অনুরোধে রিক্সা মালিকদের পেটে লাথি দিয়ে হলেও বেশি টাকা পাওয়ার ঢেঁকি গিলে ফেলেন রিক্সাওয়ালা ভাইজানরা।

মাঝে শুনেছিলাম বাংলাদেশে কেয়ারটকার সরকারের সময় আর্মি-রা রাস্তায় এমন কয়েকজন রিক্সা-সওয়ারীদের পেয়ে কানে-ধরে উঠ-বস করিয়েছিলেন। সেকথা মনে করে ফিক করে হেসে ফেললাম। সিট যদি থেকেই থাকে, তাহলে ঐ কথা মনে করিয়ে দিলেই উনারা আর সহ্যের সীমানার বাইরে সওয়ার হতে দুইবার ভাববেন।

সেই কথা ভেবেই মাথায় হাত চালালাম সিটের খোঁজে। আতি-পাতি করে খুঁজেও সিটের নাম-গন্ধ পেলাম না। বোকার মত ফেলেফেল করে উনাদের দিকে চেয়ে থাকলাম। তাহলে কি বললেন আমাকে?!

তবে কি ছিট-ই বুঝালেন। এটা হলে কিন্তু বেশ সমস্যার কথা হবে। কারণ এতে বিস্তর টাকা-পয়সার ঝামেলা। এমনিতেই বাসাতে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা, তার উপর আবার মাথায় সমস্যার ঔষুধ কিনতে গেলে তো গরীবের মাথায় লাথি দেওয়ার বন্দোবস্তই বলা চলে। এই কথা তো আমার আত্মীয়দের অজানা থাকার কথা থাকা না!

নেহাত নিরুপায় হয়ে উনাকেই তাই প্রশ্নটা করে ফেললাম- ''জ্বী, ঠিক বুঝি নাই। একটু ব্যাখ্যা করে বলবেন কি?''

বাবা ছিলেন সরকারী চাকুরে। সৎ বলে সারা জীবনই খুব কষ্টে জীবন কাটাতে হয়েছে। মা অনেক বড় ঘর থেকে এলেও বাবা'র জীবনটাই মেনে চলেছিলেন সব-সময়ই। আমিও কয়েকদিন আগে বিদেশ ফেরত। ঐখানে বিয়ে করলেও ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইনের কারণে বিদেশ থেকে ফেরত আসতে হয়েছে বৌ-বাচ্চা ফেলে রেখে।

দেশে এসেও শুনি আমার উনারা পিছু ছাড়েননি। ভাই-এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী উদরপিন্ডি বুধোর কাধে চড়ানোর মতো উনাদের কার সাইকেল বুঝি আমাকে দিয়ে শেষ করানোর জন্যেই এই আয়োজন।

কিন্তু, সাইকেলের আমি কি বুঝি!!! কোনটা শুক্লপক্ষ আর কোন কৃষ্ণ....সেটা নিয়েই তালগোল পাকিয়ে যায়, আর আরেকজনের সাইকেল চালানো!

কোন তিথিতে কি করতে হবে। কোন দিনে উল্টো করে মুরগী খেতে হবে আর কোন দিন সামনে দিয়ে....তা-ই বুঝি না, কোন সময় ভেজিটেবল আর কোনদিন শুটকি সাবার করার ব্যবস্থা করতে হবে সেইটা বোঝা তো দূরে থাক। এরজন্যে বৌ-এর কাছে কি ধরাটাই না খেয়েছি কয়েকদিন!

উফ! মনে হলে এখনও গায়ে শিহরণ জেগে উঠে। কি যে করি!

আর সাইকেল চালানোর খরচটা কে দিবে শুনি? লন্ডন ফেরত এই আমি'র পকেট চলবে কি করে এইটা কি কেউ ভেবে দেখেছে! আর বাবা-মাকে যারা সারা জীবন কষ্টের মাঝে ফেলে নিজেদের সাইকেলে বেঁধে রেখে যারা সারা-জীবন আমোদ-ফুর্তি করে বেরিয়েছেন, সেই উনারাই আবার আমার বাবা-মা'র বুড়ো বয়সে বোঝা চাপানো'র ব্যবস্থা করে নতুন এক গেইম-এর সন্ধান করছেন!

হায় আল্লাহ! তুমি কি আছো?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:২৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×