somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবহমান বাংলা

১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিরন্তর শব্দটি আমার প্রিয়। ভাবছিলাম শব্দটি খাঁটি বাংলা শব্দ কি না। নাকি শব্দটি সংস্কৃত শব্দভান্ডার থেকে এসেছে। সেই রকমের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তা হলে কত পুরনো শব্দ নিরন্তর? কী ভাবে এমন কাব্যিক শব্দের সৃষ্টি হল?
তো, এই রকম ভাবতে ভাবতে চর্যার একটি পদে নিরন্তর শব্দটি পেয়ে অবাক হয়ে যাই।
চর্যার পদ আমরা জানি, সেই সপ্তম/অস্টম শতকের বাঙালি কবিদের দ্বারা রচিত কবিতা। সেই কবিদের অবশ্য একটি জীবনদর্শন ছিল। সহজিয়া বৌদ্ধমত। সহজিয়া বৌদ্ধমত হল বৌদ্ধদর্শনেরই একটি শাখা। জানেনই তো কালে কালে মূল বিশ্বাসটা কেমন বদলে যায়। তো সেই কবিরা কবিতা লিখে তাদের বিশ্বাসের কথা লোকসমাজে প্রচার করত।
আমি যে পদে নিরন্তর শব্দটি পাই সেই চর্যার পদটি এই রকম-

তো বিনু তরুণি নিরন্তর ণেহে
বোধি কি লব্ ভই প্রণ বি দেহেঁ।

বাংলা অর্থ: তোর নিরন্তর স্নেহ বিনা, হে তরুণি, এই দেহে কি বোধিলাভ হয়?

তার মানে বাঙালি যুবক তার প্রেমিকার কাছে নিরন্তর স্নেহ চাইছে। যে নিরন্তর স্নেহ
বিনা বোধি বা enlightenment সম্ভব না। কেবলি কাম চাইছে না পশুদের মত? কী আশ্চর্য! কী পবিত্র চিন্তা। আর নারীর কি মর্যাদা! স্নেহ, কাম নয়। আর কেবলি নিছক দৈহিক আনন্দ নয়, বোধি মানে enlightenment ...মানে আলো চাইছে আলো ... কী আশ্চর্য! কী সুন্দর ...
যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করে -তোমাদের দেশের তরুণদের প্রেমদর্শন কি?
তা হলে আমি বলব, আমাদের দেশের তরুণেরা মেয়েদের আলোর উৎস ভাবে, স্নেহ চায় ...কেবলি নিছক কাম নয়... স্নেহ পেয়ে আলোকিত হয়ে উঠতে চায়।
এখন যেন মুক্তিযুদ্ধের মানে বুঝতে পারছি।
ভাবলে অবাক হতে হয়, সপ্তম/অস্টম শতকের বাঙালি কবির কবিতা।
অথচ আজও কী সত্য। আজও অধিকাংশ বাঙালি তরুণ (কতিপয় পাষন্ড বাদে) এই স্নেহই চায় তার প্রেমিকার কাছে ।
প্রায় দুহাজার বছর আগেও তাই চাইত।
এই আবহমান বাংলা

তথ্যসূত্র:
নীহাররঞ্জন রায়। বাঙালির ইতিহাস। পৃষ্ঠা: ৫২৮
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:১২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কালকেউটে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



তুমি ও অতিথি পাখি কী সুন্দর মিলেমিশে একাকার!
আম ও দুধের অপূর্ব সংমিশ্র!
অতিথি পাখির কিছু কিছু বিসর্জন থাকলেও-
তুমি যা কিছু অর্জন করেছো তাতে নেই একরত্তি বিসর্জন!

অর্বাচীনের মতো ভেবেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×