কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান অবস্থা থেকে উত্তরণে পুরো জাতি যখন হতাশ.....
এই নিউজটা কিছূটা আশার নিভু নিভু প্রদীপের মতোই মনে হল। তাই শেয়ার করা! অনেকে হয়তো পড়েন না বা মিস করেছেন বা চোখে পড়েনি।
বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনেতিক সংকট নিরসনে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার ক্রমাগত আহ্বান উপেক্ষা করে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অনড় ভূমিকা ও একরোখা মনোভাবে শঙ্কিত জাতিসংঘ।
এমতাবস্থায় দেশটিতে একটি স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোন ভূমিকা রাখতে পারে কিনা সে বিষয়ে জানতে আগ্রহী জাতিসংঘ।
আফ্রিকা সফররত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স জেফরি ফেল্টমান আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ফিরে আসার পর এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগ।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অফ পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক এই প্রতিনিধির সাথে টেলিফোন আলাপচারিতায় বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যাখ্যায় আর ভরসা পাচ্ছে না জাতিসংঘ। কারণ আমরা ফিল্ড অফিস থেকে যে রিপোর্ট পাচ্ছি তার সাথে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের ভাষ্যের বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।
তাই বাংলাদেশ নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবতে হচ্ছে জাতিসংঘকে। পূর্বএশীয় বংশোদ্ভূত এই নারী কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখলে বর্তমান সরকারের কিছু সিদ্ধান্তকে সঠিক বলা যায় না। সরকারের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বিরাজ করছে।’
------
জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগের সূত্রগুলো এই প্রতিনিধিকে বলেছেন, বিগত এক বছরে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আহ্বান উপেক্ষা করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অনুশীলনের পথ ক্রমবর্ধমান হারে সংকুচিত করা, যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের নিশ্চয়তা না করেই জাতিসংঘের আপত্তি স্বত্ত্বেও ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের সিদ্ধান্তে অটল থাকা, সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গঠনমূলক সংলাপের উদ্যোগ না নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে ভূমিকা রাখার অধিকার দেয়া, বিচার বহির্ভূত গুম ও হত্যা, বিরোধী মত দমনে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, বিশেষ করে সংসদের বাইরের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সুযোগ না দেয়া ইত্যাদি সব বিষয়ে সরকারের ভূমিকা এবং জাতিসংঘের উপর্যুপরি সতর্কতার পরও বাংলাদেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের ভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রবণতায় জাতিসংঘ বিরক্ত এবং বিব্রত।
এমতাবস্থায় বিরোধী দলের চলমান একটানা কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা বাংলাদেশকে ক্রমশ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য কি ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে জানতে চায় জাতিসংঘ।
ডিপার্টমেন্ট অফ পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও বলেন, গত বছরের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূত এই আশ্বাসে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক ফিরেছিলেন যে আপাতত সাংবিধানিক সংকট উত্তরণের জন্য একটি নির্বাচন হবে, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ খুলে দেবে। কিন্তু নির্বাচনের পর জাতিসংঘের উদ্যোগের শর্ত মোতাবেক বিগত এক বছর সময়ের মধ্যে সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলোসহ সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও পদক্ষেপ গ্রহণে ক্ষমতাসীন সরকারের অনীহার বিষয়টি জাতিসংঘকে বিস্মিত করেছে। এক পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের কোনো আপত্তি নেই বলেও প্রচারণা চালাতে শুরু করে ক্ষমতাসীন সরকার। শেষ পর্যন্ত বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান খোলাসা করে জাতিসংঘ। এরপর থেকে ঢাকাস্থ জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধির অফিস, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অফিস, এমনকি জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অফ পিস কিপিং অপারেশনস ও ডিপার্টমেন্ট অফ ফিল্ড সাপোর্ট-এর সাথে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সকল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ও তারবার্তায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। ওই সব আহ্বানে প্রতিবারই সংসদের ভেতর ও বাইরের সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সংলাপ ও সমঝোতার তাগাদা দিয়েছে জাতিসংঘ।
কিন্তু এই সকল আহ্বানে যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে সরকার যে নীতি গ্রহণ করেছে তা জাতিসংঘের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ক্রমাবনতিশীল ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ভিন্নমত পোষনকারী জনগণের একটি অংশের বিরুদ্ধে সরকারের এ ধরনের মারমুখী নীতির মাধ্যমে সরকার কিভাবে লাভবান হবে সে অংকের হিসেবও মেলাতে পারছেন না জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিভাগ।
এদিকে, জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অফ পলিটিকাল অ্যাফেয়ার্সের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন বিষয়ক কর্মকর্তা এই প্রতিনিধির সাথে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বলেন, বাংলাদেশ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়ে জাতিসংঘের আরও কঠোর ভূমিকা নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স জেফরি ফিল্টম্যান বর্তমানে ফিল্ড ভিজিটে রয়েছেন। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি অফিসে ফিরবেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তখন বাংলাদেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই কর্মকর্তাটি আরও বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন মূল্যায়ন বিষয়ে মহাসচিবের হাই লেভেল ইন্ডিপেনডেন্ট প্যানেলের এশীয় অঞ্চলের যে আঞ্চলিক কনফারেন্সটি ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জাতিসংঘের যথেষ্ঠ রিজার্ভেশন ছিল। কেননা আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে একটি ভুল বার্তা দেওয়া হবে যে বর্তমান সরকারের সকল কর্মকা-ে জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের পক্ষে অনেক দেরি হয়ে যায়।’ চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বিপরীতে অবস্থিত মিলেনিয়াম প্লাজা হোটেলে এই প্রতিনিধির সাথে অনুষ্ঠিত এক মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে উক্ত কর্মকর্তা এই মন্তব্য করেন।
এদিকে বিরোধী মত দমনে সরকারের ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অফ পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের বাংলাদেশ ডেস্কের একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা জাতিসংঘের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জাতিসংঘের শান্তি বাহিনীতে বাংলাদেশের মতো ভূমিকা রাখতে পারে এমন দেশের সংখ্যা খুবই কম। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জাতিসংঘের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, বাংলাদেশ উল্টোপথে হাঁটছে, যার কোনো গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যাখ্যা আমাদের কাছে নেই।’
সূত্র : Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





