somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ ইরাক : টনি ব্লেয়ার ১২ বছর পর মাফ চাইলেন !!!!! সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাতকারে ব্লেয়ার বার বার বলেছেন, ওই যুদ্ধে জড়িত হওয়ার জন্য তিনি দুঃখিত!

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সরি কি ফিরিয়ে দিতে পারবে ইরাকের আগের সেই সমৃদ্ধ অবস্থা!

স্বাধিনতা সার্বভোমত্ব বিপন্নের যে জঘণ্য ইতিহাস রচিত হল তা কি মুছে যাবে?

যে লক্ষ লক্ষ যুবক, নারী, শিশু জীবন দিল বিনা দোষে সবার জীবনের মূল্য কি এক সরিতেই শোধ হবে?

সমৃদ্ধ ইরাকের ঐতিহ্য, ইতিহাস, অমূল্য সব সম্পদ লুট করা হলো পুরো দস্তুর- পারলে যাদুঘর সহ!

সভ্যতার সূতিকাগার ধ্বংসের নব্য হালাকু চেঙ্গিস বুশ ব্লেয়ারের দেশে এমন হলে কি তারাও সরিতেই তুষ্ঠ হবেন?

মিথ্যাচার, প্রতারণা আর শঠতার যে সভ্য! চর্চা হল আমেরিকা আর যুক্তরাজ্যের যৌথ স্বেচচ্ছাচারে তা কি মুছে ফেলা যাবে চাইলেই?

কূটনীতি যে আসলে সিস্টেমের আড়ালে মিথ্যা, প্রতারণা আর জালিয়াতির এক আড়ম্বর পূর্ণ গালভরা নাম তাই প্রমাণ রেখে যাচ্ছেন চলমান বিশ্ব শাসক-শোষকরা!

আর বিশ্ব মিডিয়াও যে ব্যাতিক্রম দু-একটা ছাড়া সকলেই দাসানুদাস! অথবা নিরেট লোভী মুর্খ তাই প্রমাণ হচ্ছে নিত্যই !

বলছিলাম বৃটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের কথা। তিনি ১২ বছর পর ইরাক যুদ্ধের জন্য মাফ চাইলেন টনি ব্লেয়ার।
বললেন- ‘আই অ্যাম সরি’।
একই সঙ্গে তিনি বললেন, এই যুদ্ধের কারণেই জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিসের উত্থান ঘটেছে। ইরাককে এখন এক ‘নরক’ আখ্যায়িত করলেন তিনি। স্বীকার করলেন জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের উত্থানের জন্য তিনিও আংশিক দায়ী। !!!!

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে আগ্রাসী হামলা শুরু করেন। তখন সারা বিশ্ব থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠলেও তারা থোড়াই কেয়ার করেন। সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাতকারে ব্লেয়ার বার বার বলেছেন, ওই যুদ্ধে জড়িত হওয়ার জন্য তিনি দুঃখিত। সিএনএন সরাসরি তার কাছে জানতে চায়, ইরাক যুদ্ধ কি একটি ভুল ছিল? সংবাদ সূত্র

জাতিসংঘ কি এখন বিচারের কাঠ গড়ায় দাড় করাবে টনি ব্লেয়ারকে?

যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্তির জন্য কি যথেষ্ট নয় এই অপরাধ?

"যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আগ্রাসন শেষ। কিন্তু সেই ইরাকে শান্তি নেই। প্রতিদিন সেখানে অস্থিরতা। কেউ কারো কথা শুনছে না। পুরো অঞ্চল জুড়ে বিরাজ করছে রক্তাক্ত বিশৃংখল অবস্থা। ওদিকে আলাদা এক খবরে জানা গেছে,
ইরাক যুদ্ধের বিষয়ে টনি ব্লেয়ারকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বৃটেনের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ব্লাঙ্কেট। তিনি নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন যে, সাদ্দাম হোসেনের পতনের পরে সেখানে বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। কিন্তু ব্লাঙ্কেটকে ওই নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ব্লেয়ার। পরিবর্তে তিনি মার্কিন প্রশাসনের দু’কর্মকর্তা ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের ওপর অন্ধ আস্থা প্রকাশ করেন।"

বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি বলে মুসলমানদের যারা কালারড করছেন- তারা এই মিথ্যাবাদী প্রতারক তথাকথিত সভ্য! জালিম শাসকদের কি বলবেন?

আবার বার বছর পর হয়তো স্বীকৃতি আসবে টুইন টাওয়ার ধ্বংসেও মুসলমানদের কোনই হাত ছিল না। ফরাসি সাংবাদিকের দাবীই হয়তো সত্য বলে স্বীকার করা হবে! কিংবা অন্যান্য বিশ্ব ব্যাপি মুসলিম দেশগুলোতে চালানো আগ্রাসন সবাই যে স্রেফ তেল, সম্পদ আর ভু-রাজনৈতিক কারণেই চালিয়েছে তাও স্বীকার করবে!!

এভাবেই চলছে বিশ্ব! সাম্রাজ্যবাদের পুরানো কাঠামো বদলে নতুন ধারায় চলছে সামা্রাজ্যবাদ। মানচিত্র, পতাকা আর পুতুল সরকার বসিয়ে শোষনের সেই পুরানো ধারাই। বিপ্লবী, দেশপ্রেমিকেরা আজো ঝুলছে ফাসি কাষ্ঠে! বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়ালে সিদ্ধান্ত হয়ে যাচ্ছে!

বিশ্বের এই জালিম, দাম্ভিক লোভী, মিথ্যুক শাসকদের থেকে মুক্তি না হলে বিশ্বে শান্তি আসবে না। প্রত্যেক দেশের জনগণকেই সেই সত্য বুঝতে হবে। একজন ভাল ণ্যায়পরায়ন নির্লোভ নেতাই পারে একটা দেশকে শান্তিতে রাখতে..দেশে দেশে জনতার এই বিজয় অর্জিত হলে ধারাবাহিকতায় বিশ্বেও শান্তি চলে আসবে অবলিলায়।

জাতিপুঞ্জের মতো জাতি সংঘও অর্থব প্রতিষ্ঠানেই পরিণত হয়েছে। যে শুধু লাঠিয়াল মাত্র!

বদলে যাক এ চিত্র। জাতিসংঘ হয়ে উঠুক তার আর্দশের পরিপূরক সংস্থা। কারো লাঠিয়াল না হয়ে বিশ্ব শান্তির জণ্য ন্যায় নীতি আর সত্যের ভিত্তিতে কাজ করে ফিরিয়ে আনুক তার প্রতি হারানো আস্থা।




লেখাটির উৎসClick




সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৩৮
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×