somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমন : রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (১ম পর্ব)

১১ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাতারগুল, বাংলাদেশের একমাত্র মিঠা পানির বন বা বনাঞ্চল । অর্থাৎ জলের বন বা সোয়াম্প ফরেস্ট । যে বনের গাছ পালা পানিতে ডুবে থাকে । সারা পৃথিবীতে এরকম বন দেখা যায়, যেমন : আমাজান, মিসিসিপি, বাংলাদেশের সুন্দরবন। তবে সুন্দরবন হল লোনা পানির বন বা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। বাংলাদেশে এই রকম এক বন আছে সিলেট জেলার গোয়াইন ঘাট উপজেলায়, এই বনের নামই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট । রাতারগুলে বর্ষায় ৪/৫ মাস পানি থাকে । বনের সমস্ত গাছ পানিতে ডুবে থাকে, দেখতে খুবই ভাল লাগে। এ যেন বনের মধ্যে বন্যা ।



রাতারগুলের খবর পাই গত বছর, যখন কিছু অ্যাডভেঞ্ছার প্রিয় মানুষ রাতারগুল ঘুরে আসে এবং তারা সেই ছবি ফেসবুক এ শেয়ার করে । আমিও সময় পেলে বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্ছার করতে চলে যাই। সেই থেকে মনে একটা সুপ্ত বাসনা ছিল রাতারগুল যাবার । বিভিন্ন জায়গায় খবর নিয়ে জানতে পারলাম রাতারগুল যাবার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল । তাই এই বছর আগে থেকেই একটা পরিকল্পনা ছিল সময় করে একবর যাবই যাব । এর মধ্যে কথা হয় ট্রেকারস অফ বাংলাদেশের প্রধান তারিক ওবাইদা ভাইয়ের সাথে । সে জানায় সেও বর্ষায় রাতারগুল যাবার পরিকল্পনা করছে। তাকে আমার মনের কথা জানাই, সে সাগ্রহে রাজি হয় । শুরু হয়ে যায় রাতারগুল সম্পর্কে তথ্য জানার কাজ। তারিক ভাই অনেক কষ্ট করে রাতারগুল বনবিট কর্মকর্তার ফোন নাম্বার জোগাড় করে বনবিট কর্মকর্তা হুমায়ন কবিরের সাথে যোগাযোগ করে । হুমায়ন কবির জানায় বর্ষায় যে কোনো দিন আমারা যেতে পারি রাতারগুল । সে আমাদের সকল প্রকার সাহায্য করবে । আমরা জুন মাসের ২৯ তারিখ যাবার পরিকল্পনা করি । তারিক ভাই জানায় তার কিছু বন্ধুও যাবে, সব মিলিয়ে ২৫ জন । আগে থেকে ট্রেনের টিকেট করা হয় যাতে এত গুলো সিট পাওয়া যায় । কিন্তু বিধাতার ইচ্ছা বুঝি অন্য কিছু । গতকিছু দিন সিলেটে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে যার ফলে বিভিন্ন জায়গায় বন্যা দেখা দেয় । গোয়াইন ঘাট উপজেলায়ও বন্যা দেখা দেয়। তারিক ভাই বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানতে পারে রাতারগুল এলাকা এখন সম্পূর্ণ বন্যা কবলিত । এমন কি ফরেস্ট অফিসের ভিতরও হাঁটু পানি, গ্রামের মাঝিদের ঘরে পানি, তাদের থাকার জায়গা নেই বলে তারা তাদের নৌকায় আশ্রয় নিয়ে আছে ।


তারিক ভাই আমাদের এই খবর জুনের ২৬ তারিখ জানায় এবং বলে এই অভিযান বাতিল হতে পারে । আমারা সবাই খুব মন খারাপ করি । ২৭ তারিখও বন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়, কোনো ভাল সংবাদ পাওয়া যায় না । আমারা আশাহত হই, তাহলে কি আমাদের রাতারগুল যাওয়া হচ্ছে না। বিধাতা বোধহয় আমাদের মনের কষ্ট বুঝতে পারেন । ২৮ তারিখ বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায় বন্যার পানি অনেক নেমে গেছে, আমরা চাইলে ২৯ তারিখ যেতে পারি । আনন্দে আমাদের সকলের মন নেচে ওঠে । আমাদের ট্রেন রাত ৯.৫০ এ উপবন এক্সপ্রেসে । আমারা একে একে ২২ জন কমলাপুর স্টেশন হাজির হই, একজন শ্রীমঙ্গল থেকে আমাদের সাথে যোগ দিবে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি বাকি দুই জনের জন্য। তারা আর আসে না, এদিকে ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে গেছে এবং যথারীতি বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন দেরীতে ছাড়ার যে বদনাম আছে তা ঘুচিয়ে সময়মতই ট্রেন ছেড়ে দেয় । বাকি দুই জনের আর আমাদের সাথে যাওয়া হয় না । এদিকে ট্রেনে আমরা যারা আছি তারা আড্ডায় গল্পে মেতে উঠি, রুহি ভাইয়ের বন্ধুরা মিলে হই হুল্লোড় শুরু করে দেয়, অন্য যাত্রীরা বেশ বিরক্ত হয়, অনেকেই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তাদের ঘুম শিকোয় ওঠে । কু ঝিক ঝিক করে ট্রেন এগিয়ে চলেছে সিলেটের পথে । এর মাঝে আপনাদের রাতারগুল সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে রাখি। রাতারগুল বনের আয়তন ৩৩২৬ একর। ১৯৭৩ সালে বনের ৫০৪ একর বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করা হয় । বন বিভাগ থেকে প্রাকৃতিক বনের পাশাপাশি হিজল, কদম, বেত, করচ, মুর্তাসহ আর জলপোযোগী গাছ লাগানো হয় ।

ভোর ৫টায় আমরা সিলেট এসে পৌছাই। আমাদের এখন গন্তব্য সিলেটের আম্বরখানা। ইতিমধ্যে বন কর্মকর্তার সাথে কথা হয়, সে আমাদের জন্য ৬টি নৌকা নিয়ে গোয়াইন ঘাটের শ্রীঙ্গী এলাকায় অপেক্ষা করছে। আমরা আম্বরখানায় সকালের নাস্তা করে নেই । তারপর সিএনজি অটোরিকসা ভাড়া করা হয় শ্রীঙ্গী যাবার জন্য। আমাদের যাত্রা শুরু হয়, শ্রীঙ্গী থেকেই আমাদের রাতারগুল যেতে হবে ।

Click here for newspaper link :
View this link


সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:১৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×