somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের দৃষ্টিতে স্বাধীনতা

২০ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাধীণতা শব্দটি আমাদের কাছে অতিপরিচিত একটি শব্দ। হরহামেশায় বিভিন্ন মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক নেতাদের মুখে আমরা এ শব্দটি শুনতে পাই। সবাই স্বাধীণতা নামক মহান ধ্বনি উচ্চারণ করে তাদের কার্যসিদ্ধি করতে চায়। আবার কেউ কেউ স্বাধীণতা বিপন্ন হওয়ার কথাও সতর্কবাণী হিসেবে উচ্চারণ করেন। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষেরা কি এখনও স্বাধীণতা শব্দটির অর্থ বুঝেছি। এতা গেল রাজনৈতিক নেতাদেও স্ট্যান্ডবাজির কথা। অন্যদিকে শ্রমিকেরা চায় স্বাধীণতা, নারীরা চায় স্বাধীণতা, শিল্পীরা চায় স্বাধীণতা, শিক্ষকেরা চায় স্বাধীনতা, শিক্ষার্থীরা চায় স্বাধীনতা। আমারতো মনে হয় প্রতিটি ক্ষেত্রের মানুষেরা আজ স্বাধীনতা দাবীতে অনড়। আসলে কি আমরা স্বাধীনতা চাই ? তার চেয়েও যে বেশী গুরুত্বপূর্ণ তা হলো আমরা কি জানি স্বাধীনতা মানে কি?

রাজনৈতিক নেতারা স্বাধীনতা মানে দেশের সার্বভৌমত্বকে বুঝান। সেই স্বাধীনতারও আবার বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও ধরণ রয়েছে। স্বাধীনতাও আবার অনেক ধরনের যেমন: বাক স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার জন্য আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে সনে হয় সবচেয়ে বেশী রক্তপাত হয়েছে। প্রত্যেকে তার নিজস্ব মতের প্রতিষ্টাকেই ভাবেন স্বাধীনতা। আফ্রিকা অঞ্চলের দিকে তাকালেই তথাকথিত স্বাধীনতার একটি নগ্নরুপ দেখতে পাই। কিন্তু স্বাধীনতার মানে কি এটাই?

Bruce Barton একজন বিখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী। তিনি বলেছেন, এটা একটি অদ্ভুত বিষয় যে, আপনি এমন অনেক মানুষ পাবেন যারা বিশ্বের স্বাধীনতার জন্য জীবনদান পর্যন্ত করতে পারে। কিন্তু তারা অতিসামান্য আত্মত্যাগ করতে পাওে না যাতে তারা নিজেরা নিজেদের যে সংকীর্ণ শৃঙ্খলে আবদ্ধ তা হতে মুক্ত হতে। আমারতো মনে হয় নিজেদেও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হয়ে আসতে পারাটাই এক ধরণের স্বাধীনতা।

Epictetus বলেন, “ No man is free who is not master of himself । তাই বোধ হয় মহান দার্শনিক সক্রেটিস ভবিষ্যৎ পৃথিবীর বাসিন্দাদের জন্য রেখে গেছেন তার মহান উক্তি “ Know thyself
(নিজেকে জান )”। তিনিও হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন এ আত্মভোলা মানুষেরা সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্বাধীনতা লাভের জন্য রক্তের হোলি খেলায় মত্ত হয় পড়বে। এ জাতীয় মানুষদেও জন্যই Lavaterবলেছেন, “ He who reforms himself has done more towards reform the public than a crowd of noisy important patriot। তাহলে একটি প্রশ্ন আবার আমাদের সামনে এসে দাড়ায় একটি প্রশ্ন, সত্যিকারের স্বাধীনতা কি?
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বাধীনতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, “ Coperative, Interdependant, serviceable run of life is called LibertyÓ
একে মনে হয়, আফ্রিকার যেসব মানুষ তথাকথিত শিখিয়ে দেয়া স্বাধীনতার লোভে নিজেকে ও নিজ স¤প্রদায়ের হত্যাকারী হিসেবে প্রবৃত্ত তারা উপলব্দি করতে পারবে। আরো একটি প্রশ্নের সমাধানও এ সংজ্ঞার মাধ্যমে শ্রীশ্রীঠাকুর করেছেন তা হলো, স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়কো।

তিনি অন্যভাবে বলেছেন, মানুষ সত্যিকারের স্বাধীনতা তখনই পায়, যখনই তার being (স্বত্তা) -টাকে পারিপার্শ্বিক তার প্রবৃত্তির ভিতর দিয়ে খিঁচড়ে ধরে, টুকরো-টুকরো কওে সাবাড় করতে না পারে Ñ বরং তার আদর্শপ্রাণ প্রবৃত্তিগুলি পারিপার্শ্বিকের সেবার ভিতর দিয়ে তাদের প্রত্যেককে সন্দীপ্ত কওে becoming (বেড়ে উঠা) -এর দিকে অবাধ করে তোলে Ñ তখনই সেই হয় তার পারিপার্শ্বিকের common interest আর তখনই সে স্বাধীন।
এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় তা হলো আমরা স্বাধীনতা বলতে যা শুনেছি বা বুঝেছি তা হলো individual বিষয় হিসেবে । কিন্তু এ ধরনের কূপমন্ডুকতা, স্বার্থান্ধতা ও সংকীণতার বিরুদ্ধে একটি ভালবাসার বাণীই মনে হলো এ commom interest কথাটার ব্যবহার।

কিন্তু একটি বিষয়ও আমাদেও সামনে এসে উপস্থিত হয়, সেটা হল এ ধরণের স্বাধীনতার অস্তিত্ব কি পৃথিবীতে আছে বা কখনো কি ছিল?

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এ ক্ষেত্রে সম্রাট অশোকের কথা উল্লেখ করেছেন। সম্রাট অশোক যাকে শ্রীশ্রীঠাকুর ‘ধর্মাশোক’ বলে অভিহিত করেছেন, তিনি মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আদর্শ এমনভাবে মূর্ত কওে তুলেছিলেন, যা তৎকালীন সময়ের মানুষের কাছে সত্তাস্বার্থী হয়ে উঠেছিল। শ্রীশ্রীঠাকুরের এ উদাহরণের সমর্থন আমরা বিভিন্ন পাশ্চাত্য দার্শনিক ও লেখকদেও দৃষ্টিভঙ্গিতেও দেখতে পায়।
সম্রাট অশোকে সম্পর্কে Encyclopaedia Britanica - তে আছে, “If a man’s fame can be measured by the number of hearts who revere his memory, but the number of lips who have mentioned and still mention him with honour, Ashoka is more famous than chalemange or caesar ” (১৯ তম এডিশন, ভলি-২, পৃ-৭৬৪)।
আমাদেরও প্রকৃত স্বাধীনতা কি তা উপলব্দি করার জন্য এমনতার ব্যক্তিত্যের প্রয়োজন তিনি শুধু নেতৃত্বই দেবেন না, অন্যদিকে গড়ে তুলবেন একটি সচেতন জনগোষ্ঠী যারা তার মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারবে। Outline of histry নামক গ্রন্থে লেখকH.G. Wells বলেছেন, “AmidstAmidst the tens of thousands of names of monarchs that crowd the column of history, their majestice and graciousness and serenties and royal highness and the line, the name of Ashoka shines is still honoured. China, Tibet and even in India through it has left his doctrine, preserve the tradition of his greatness . More living men cherish his memory today than have ever heard the names of Constantine or Charlemagne.

এছাড়াও শ্রীকৃষ্ণ, বুদ্ধ, যীশু, মহম্মদ ইত্যাদি প্রেরিত বা prophet বা অবতারগন সাধারণ মানুষের জন্য প্রকৃত স্বাধীনতার বীজ অকাতরে ছিটিয়ে গেছেন। আসলে আমরা যদি প্রচলিত ধ্যান-ধারণার দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব, স্বাধীনতা কথাটির অর্থ শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাকেই বুঝি। একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ড যার সর্বময় ক্ষমতা কিছু গুটি কয়েক মানুষের হাতে থাকবে। যদিও আমাদেও দেশের সর্বময় ক্ষমতা জনগনের হাতে বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছি। তাহলে কি শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাই মানুষের কাম্য?
আমার মতে, শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাই মানুষের কাম্য নয়। কারণ, রাজনৈতিক স্বাধীনতাই মানুষকে সত্যিকারের সর্ববিধ স্বাধীনতা দিতে পাওে না। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ, এ ভারত উপমহাদেশ। আমরা বৃটিশ থেকে মুক্ত হয়েছি প্রায় ৬৩ বছর এবং বাংলাদেশ পাকিস্থান থেকে মুক্ত হয়েছে প্রায় ৪০ বছর। কিন্তু আমরা কি প্রত্যাশিত স্বাধীনতা লাভ করতে পেরেছি। তাই বিশিস্ট সমাজ বিশ্লেষক Elbert Hubbart বলেছেন, “ I believe in freedom – social, economic, domestic, polytical, mental and spiritual.Ó এসব বিষয়ের সুসমন্বয় যখন হয় তখন আমরা সত্যিতারের স্বাধীনতা হয়তো উপভোগ করতে পারব। না হলে এ ভ্রান্তির স্বাধীনতা, অলীক স্বাধীনতার পিছনে আমরা অনন্তকাল ধওে ছুটতেই থাকব। রেল লাইনের সমান্তরাল লাইনের মত পরষ্পর মিলনের স্বপ্ন হয়ত সে দেখাবে কিন্তু বাস্তবে থাকে পাওয়া দুষ্পাপ্যই রয়ে যাবে। তাই হয়ত বিশিষ্ট লেখক জর্জ বার্নাড’শ বলেছেন, “যারা রাজনৈতিক মুক্তিকে, স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ঐক্যকে, সাম্যতা বলে ভ্রান্তিও পথে চলে, তারা প্রকৃতপক্ষে ৫ মিনিটও অন্যকিছু ভাবতে পাওে না।” তবে সবচেয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন জার্মান কবি Goethe। তিনি বলেছেন, “ তাদেও মত অসহায় দাস আর কেউ নেই। যারা মিথ্যার গন্ডিতে বাস করে বিশ্বাস করে, তারা স্বাধীন”। জার্মান মহাকবি গ্যাটে যদিও বর্তমান সময়ে এ স্বাধীনতা, স্বাধীনতা বলে যে মৃত্যুল্লাসে মেতেছে তা দেখেননি। কিন্তু তার এই উক্তি বর্তমান বিশ্বে প্রত্যেক স্বাধীনতাদম্ভী জাতি সম্বন্ধেই খাটে। রাজনৈতিকভাবে শক্তি অর্জন করলেই আর দেশের মানুষকে আনাহাওে, অর্ধাহাওে রেখে অলীক মিথ্যা দম্ভেও বশবর্তী হয়ে ঘামে ভেজা শ্রমিকের ট্যাক্সেও টাকায় শুধু মানুষ হত্যা করার জন্য অস্ত্র সম্ভাওে সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী গঠন করলেই এবং এ ধরণের জঘণ্যকাজের স্বাধীনতা থাকলে কোন দেশ সভ্য বা স্বাধীন হয় না। তাই আমরা বলতে পারি, মহাপুরুষ যারা যুগে যুগে এ মানব জাতিকে আলোড়িত করেছেন এবং নবী ও অবতারগন যে স্বাধীনতার মন্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা আরও দেখতে পায়, যারা এ মন্ত্র বাস্তবে যথার্থভাবে কাজে পরিণত করতে পেরেছে, তারাই সফলকাম হয়েছে।

চলবে...........

সম্পাদনায়: রিন্টু কুমার চৌধুরী
পরিচালক, শ্রেয় অন্বেষা
(শ্রীশ্রীঠাকুর’র আদর্শ ও কর্ম ভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্টান
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৩:৪৭
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কেন এমন হলাম না!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৪ ই মে, ২০২৪ সকাল ৯:৪১


জাপানের আইচি প্রদেশের নাগোইয়া শহর থেকে ফিরছি৷ গন্তব্য হোক্কাইদো প্রদেশের সাপ্পোরো৷ সাপ্পোরো থেকেই নাগোইয়া এসেছিলাম৷ দুইটা কারণে নাগোইয়া ভালো লেগেছিল৷ সাপ্পোরোতে তখন বিশ ফুটের বেশি পুরু বরফের ম্তুপ৷ পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিমানের দেয়াল

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৪ ই মে, ২০২৪ সকাল ১১:২৪




অভিমানের পাহাড় জমেছে তোমার বুকে, বলোনিতো আগে
হাসিমুখ দিয়ে যতনে লুকিয়ে রেখেছো সব বিষাদ, বুঝিনি তা
একবার যদি জানতাম তোমার অন্তরটাকে ভুল দূর হতো চোখের পলকে
দিলেনা সুযোগ, জ্বলে পুড়ে বুক, জড়িয়ে ধরেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি

লিখেছেন প্রামানিক, ১৪ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:৩১



২৬শে মার্চের পরে গাইবান্ধা কলেজ মাঠে মুক্তিযুদ্ধের উপর ট্রেনিং শুরু হয়। আমার বড় ভাই তখন ওই কলেজের বিএসসি সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র ছিলেন। কলেজে থাকা অবস্থায় তিনি রোভার স্কাউটে নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেল বেলা লাস ভেগাস – ছবি ব্লগ ১

লিখেছেন শোভন শামস, ১৪ ই মে, ২০২৪ দুপুর ২:৪৫


তিনটার সময় হোটেল সার্কাস সার্কাসের রিসিপশনে আসলাম, ১৬ তালায় আমাদের হোটেল রুম। বিকেলে গাড়িতে করে শহর দেখতে রওয়ানা হলাম, এম জি এম হোটেলের পার্কিং এ গাড়ি রেখে হেঁটে শহরটা ঘুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

One lost eye will open thousands of Muslims' blind eyes

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৫ ই মে, ২০২৪ রাত ২:২৭



শিরোনাম'টি একজনের কমেন্ট থেকে ধার করা। Mar Mari Emmanuel যিনি অস্ট্রেলীয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি চার্চের একজন যাজক; খুবই নিরীহ এবং গোবেচারা টাইপের বয়স্ক এই লোকটি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×