
দুপুরে খাবার পর চায়ের দোকানে দাড়িয়ে আছি। আমার সন্তানের বয়সী একটা শিশু এসে দুপুরের ভাত খাবার জন্য কিছু টাকা চাইলো।
আমি দুপুরে যত টাকার খাবার খেয়েছি তার এক তৃতীয়াংশ পরিমান টাকা শিশুটিকে দিলাম। ওই টাকায় মতিঝিলে ছেলেটার এক বেলার খাবার হবেনা। মনে মনে একটু সঙ্কোচ নিয়ে দাড়িয়ে ছিলাম।
শিশুটিকে পাশের দোকানের এর ওর কাছেও হাত বাড়াতে দেখে নিজের সঙ্কোচ আরও ঘনীভূত হলো।
শিশুটি এই লাইনে নতুন। হাত পাতার সঙ্কোচ-দ্বিধাবোধ তার এখনও পুরোপুরি কাটেনি। আমার কাছ থেকে টাকা নেবার পরও পাশের দোকানের চা প্রত্যাশীদের কাছে হাত বাড়াতে বাড়াতে প্রতিবারই একবার করে আড় চোখে আমাকে দেখে নিচ্ছে। আমিও দেখছি।
পাশের দোকানের কেউ কেউ কিছু দিলো। কেউ ধমক-ধামক দিয়ে ভাগিয়ে দিলো। এক রিকশাওয়ালা দেখলাম টাকাও দিলো না, আবার ধমকও দিলো না। বরং ওর মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিলো।
রিকশাওয়ালাকে শিশুটির মাথায় হাত বোলাতে দেখে কেন যেন মনটা আরও ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। শিশুটির এখন বাসায় বসে বসে মায়ের হাতে ভাত খেতে খেতে গল্প শোনার কথা ছিলো। গল্প করার কথা ছিলো আজ স্কুলে কোন বন্ধু কী করলো, স্কুলের টিচার কী বলেছে, বড় হয়ে সে পাইলট হবে, নাকি শিক্ষক হবে।
***
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকের মতন হোমড়াচোমরাদের হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের (+/-) ৪০তম বৃহত্তম অর্থনীতি।
সেন্টার ফর ইকোনমিক এন্ড বিজনেস রিসার্চ-এর ভবিষ্যদ্বাণী, ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি মালয়েশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর কে পেছনে ফেলে হবে বিশ্বের ৩০তম অর্থনীতি।
আর ২০৩৩ সালের মধ্যে হবে বিশ্বের ২৪ তম অর্থনীতি!
***
একজন মোটামুটি শিক্ষিত হিসেবে, একজন তথাকথিত সচেতন নাগরিক হিসেবে, আমার অর্থনীতি বোঝা উচিৎ। মালয়েশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর কে পেছনে ফেলার তাৎপর্য বোঝা উচিৎ।
কিন্তু আমি ৪০তম, ৩০তম বা ২৪তম অর্থনীতি বুঝতে চাইনা; আমি চাই একবেলা খাবারের সন্ধানে আমাদের সন্তানদের যেন কারও কাছে হাত না পাততে হয়। আমি চাই, আমাদের সন্তানেরা যেন থাকে, দুধে-ভাতে…
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



