somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞাপনের গুষ্টি উদ্ধার... (পর্ব ৮) - ক্রিয়েটিভিটি

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




এডভার্টাইজিং হলো ব্রান্ডিং এর একটা টুলস। ব্রান্ডিং ব্যাপারটা আমরা আসলে বাইরে থেকে যা বুঝি, তার চাইতেও অনেক ব্যাপক। ব্রান্ডিং কি জিনিস সেটা সম্পর্কে ধারনা পাওয়ার জন্য এই সিরিজের প্রথম পোস্ট থেকে কিছু লেখা কোট করি।

ব্রান্ডিং মানে হচ্ছে "কমোডিটি উইথ আইডেন্টিটি"।

এখানে কমোডিটি হচ্ছে পন্য, আর আইডেন্টিটি হচ্ছে পরিচিতি। কিতাবি ভাষায় না গিয়ে নিজের মত করে বুঝানোর চেষ্টা করি। মনে করেন- আপনাকে আমি একটা লাক্স, এরোমেটিক, ডাভ আর কসকো থেকে একটি সাবান বেছে নিতে বললাম। আপনি কোন টা বেছে নিবেন ?
আমি হলে লাক্স বেছে নিবো। কারন এটার দাম, গন্ধ, কালার, কোয়ালিটি আমার সাথে যায়। আমি এটা চিনি, আমার এটা ভালো লাগে। সেই সাথে এটা সহজলভ্য। তাহলে লাক্স হচ্ছে আমার ব্রান্ড। আবার আমার টাকা পয়সা একটু বেশি হলে আমি হয়তো ডাভ এর দিকে ঝুকতাম । তার মানে ক্ষেত্র বিশেষে আমার কমোডিটির চয়েস, ব্রান্ড চয়েজ চেঞ্জ হচ্ছে।
এই যে পন্যের একটা পরিচিতি আমার কাছে আছে, ইহাই ব্রান্ডিং। বলা জেতে পারে, আপনার পন্য কে আপনার কাছে পরিচিত করাই হচ্ছে ব্রান্ডিং এর মুল কথা।

একটা কথা মাথায় ঢুকিয়ে নিন। পৃথিবীতে সব কিছুই ব্রান্ড এবং সব কিছুর মাঝেই ব্রান্ডিং , এডভার্টাইজিং এর ব্যাপার আছে। এই যে হাসিনা, খালেদা নির্বাবচনের আগে এটা করবো, ওটা করবো, এরকম নানান কথা বলে, ইশতিহার দেয়, এইটাও কিন্ত ব্রান্ডিং। তাদের নিজ নিজ পার্টির ব্রান্ডিং।
বাংলাদেশ যখন খেলায় জিতে, বা এভারেস্ট জয় করে, তখন আমরা দেখি, দেশের পতাকা ব্যাবহার করা হয়। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ব্রান্ডিং।
আবার মসজিদের ইমাম, চার্চের ফাদার থেকে শুরু করে মন্দিরের পুরোহিত রা এত বয়ান দেয়, এটা করেন স্বর্গে যাবেন, ওটা করে, নরকে যাবেন। এইটাও ব্রান্ডিং। ধর্মকে ব্যাবহার করে গড কে সেল করা হচ্ছে।
আবার আপনি কাওকে ভালোবাসেন, আপনার ভালোবাসার এডভার্টাইজিং করতে হবে। না হলে প্রেম টিকবেনা। আপনাকে ফুল কিনে নিয়ে যেতে হবে, এনিভার্সারিতে গিফট দিতে হবে। ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কিন্ত এইগুলা ইম্মপর্টেন্ট না। তারপরো আপনাকে শো অফ করতে হচ্ছে। নিজের ভালোবাসার ব্রান্ডিং করতে হচ্ছে।
পাত্রি দেখার সময় কন্যার মা বলন, আমার মেয়েটা সোনার টুকরা, ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট হয়, ভালো রাধতে জানে, গান
গাইতে পারে। এই কথাগুলো কেন ? আসলে তিনি নিজের মেয়ের ব্রান্ডিং করছেন।

তারমানে দাড়ালো ব্রান্ডিং এবং এডভার্টাইজিং জিনিসটাকে হেলাফেলা করার কোন স্কোপ নাই । যখনি আপনার সামনে অপশন থাকবে কোন কিছুর, এড ও থাকবে যথারীতি।
কারন এডের কাজ ই তো হচ্ছে আপনাকে ইনফরমেশন দেয়া। আপনি যদি মনে করেন ব্রান্ডিং বা বিজ্ঞাপন মানে হচ্ছে খালি টিভিতে কিছু পরিচিত মুখ দেখিয়ে প্রোডাক্টের বর্ননা করে যাওয়া, তাহলে এইটা একটা ভুল ধারনা। আপনার ভুল ভাঙ্গিয়ে দেই। ট্রাস্ট মি, আপনি এডভার্টাইজ ছাড়া একটা পন্যও কিনতে পারবেন না। যে পন্য বা সার্ভিস ই আপনি কিনতে জান না কেন,
আপনাকে এড দেখেই কিনতে হবে।

তার আগে এডের সঙ্গাটা একটু বুঝে নেয়া দরকার।




এডভার্টাইজিং হচ্ছে এক ধরনের ম্যাস কমিউনিকেশন, যার মাধ্যমে আপানার টার্গেট পিপল কে আপনি কোন তথ্য জানাতে পারবেন, ম্যাসেজ দিতে পারবেন, তাকে মটিভেট , ডিমোটিভেট বা ম্যানুপুলেট করতে পারবেন এবং সেই অডিয়েন্স দের মধ্যে এরাউজাল ফিলিং আনতে পারবেন। আকৃষ্ট করতে পারবেন কোন কিছু কিনার জন্য, না কিনার জন্য
কিংবা কোন একশনে আসার জন্য।

আগেই বলে রাখি এড বলতে এখানে শুধুমাত্র টেলিভিশন এড (টিভিসি) বুঝানো হচ্ছেনা। এড হতে পারে নানান ধরনের, নানা মিডিয়া ইউস করে।। টিভিসি, রেডিও এড, বিলবোর্ড, প্রেস এড, ইভেন্টস, কনসার্ট, ফেসবুক, সিএসআর, লিফলেট, ব্রশিয়ার, স্টিকার, জামা কাপড় এমন কি এখন একটা বাসের উপরো দেখবেন নানান এড। আচ্ছা,এবার চিন্তা করুন, এড ছাড়া আপনি কোন পন্য কিনেছেন এই পর্যন্ত ?

মনে করেন, আপনানি মোবাইল কিনেছেন নোকিয়া। এড না দেখলে আপনি জানতেন কিভাবে নকিয়া নামে একটা সেট আছে ? না হয় নোকিয়ার টিভি এড দেখেন নি,বাট দোকানে গিয়ে
সেটের ফিচারগুলা তো পড়েছেন। আবার বলতে পারেন, আমিতো নকিয়া কিনেন নি। কিনেছি একজর্ড কোম্পানির মোবাইল। এইটার তো আর এড দেখায় না। তাহলে ??
এ জন্যেই আগেই বলে নিয়েছি, এড নানা ধরনের হয়। এই যে একজর্ড নামের একটা মোবাইল দোকানে ছিলো, তাদের কাছে তো একজর্ড কোম্পানি অবশ্যই এড দিয়েছে।
আবার দোকানিরা সেই মোবাইল টাকে ডিসপ্লের উপরে রেখেছে যেন আপনি দেখতে পান। যেহেতু নাম না জানা কোম্পানির মোবাইল কিনেছেন, তাহলে নিশ্চই দোকানদার আপনাকে
এই সেটের সুবিধা গুলা বলেছে। এই ডিসপ্লেতে সাজানো থেকে দোকানির আপনাকে তথ্য দেয়া পর্যন্ত সবকিছুই এড।

আরো সহজ করে দেই ব্যাপার টা।

মোবাই কিনার বেলায় আমরা সাধারনত অনেক পন্যের মাঝখান থেকে চোখ বরাবর জিনিস বেছে নেই। সাধারনত বসে পড়ে নিচের দিকের সেট দেখিনা। ডিস্প্লের উপরের দিকে কাঙ্খিত মোবাইল রাখা, যাতে করে ক্রেতা আই লেভেল বরাবর সেট টি দেখতে পান, এইটা একটা এড স্ট্রাটেজি। একে বলা হয় হটস্পট। আবার দোকানি যে আপনাকে মোবাই সম্পর্কে তথ্য দিলো, এইটাকে বলে বিলো দ্যা লাইন এড। তারমানে আপনি আসলে এড ব্যাতিত কোন মোবাইল কিনতে পারেন নি।

টিভি কিনবেন ? কি টিভি ? সনি, স্যামসং ? কেন কিনবেন ? আগের টিভিটা পুরান হয়ে গেছে বলে ? এখন আপনি কিন্ত আগের সেই মান্ধাতা আমলের টিভি আবার কিনবেন না।
অনেক আপডেট টিভি আসায় আপনার পুরান টিভি এখন আর আপনার ব্র্যান্ড নাই। আপনার ব্রান্ড হবে এখন যে টিভি টা কিনবেন সেটা। আপনি আপডেট জিনিস খুজার জন্য নিশ্চই তাদের ব্রশিয়ার চেক করবেন। কোন টিভিতে কি সুবিধা আছে সেইটা দেখবেন। দোকানদার বা অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিবেন। এই যে টিভি কিনার আগে আপনি দোকানীকে জিজ্ঞেস করছেন-
সে আপনাকে সাজেস্ট করছে অমুক টিভিটা কিনার জন্য, এডভার্টাইজিং এর ভাষায় একে বলে পয়েন্ট অফ পারচেস (পিওপি), আবার যখন ব্রশিয়ার চেক করছেন, সেইটা হলো প্রিন্ট এড। ফ্রেন্ড কে জিজ্ঞেস করছেন কোন টিভি ভালো, এইটা হচ্ছে পিয়ার গ্রুপ ফ্যাক্টর, এডের আরেকটা স্ট্রাটেজি।

মানে দাড়ালো, আপনি যেই পন্যই কিনতে জান না কেন, কোন না কোন এডের মাধ্য দিয়ে আপনাকে যেতেই হবে। কাজেই কোন কিছু কিনতে বা বেচতে গেলে এডের কোন বিকল্প নাই।
আপানারা দেখবেন, বেশিরভাগ সময়ে একটা কোম্পানির প্রডাক্টের ম্যানুফেকচার কস্ট এর চেয়ে মার্কেটিং এ বাজেট থাকে বেশি। এরকম একটা পন্য হলো কোকাকোলা। যার প্রডাকশনের কস্টের চেয়ে দশ গুন বেশি দামে বিক্রি করা হয়। কারন সেই দশগুন টাকা খরচ হয় মার্কেটিং এ। যতই সময় যাক, কোকাকোলা যেহেতু তাদের প্রডাক্ট চেঞ্জ করতে পারছেনা, তাই তাদের কঞ্জিউমার ধরে রাখার এক্মাত্র উপায় হলো বোতলের আউটলুক চেঞ্জ করা, বোতলের শেপ চেঞ্জ করা, বিশেষ অফার দেয়া, নামিদামী তারকাদের দিয়ে এড বানানো ইত্যাদি। মানে পন্য চেঞ্জ করতে না পারলে, এড চেঞ্জ করুন- প্রোডাক্ট বিক্রি থেমে থাকবে না।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ট্রানজিশন হচ্ছে এডভার্টাইজিং ইন্ডাস্ট্রিতে। বিশ্বাস হয় না ? একটা টেলিভিশন এড করতে গেলে মিনিমাম ২০-৩০ লাখ টাকা লাগে এখন। আপনার কি মনে হয় এমনি এমনি এইসব বাঘা বাঘা কোম্পানিরা বিনা দরকারে এত টাকা খরচ করে ? মোটেই না। এজন্যই বলছি, বিজনেসের ক্ষেত্রে এডভার্টাইজিং ফিল্ড টা অনেক ইম্পর্টেন্ট। এবং মজার ও। আপনি টাকাও কামাতে পারবেন অঢেল, আবার সৃষ্টিশ্লীলতার ও চর্চা করতে পারবেন। মানে আপনি বোরিং সময় কাটাবেন না। শুধু মাত্র নিজের ক্রিয়েটিভিটি ব্যাবহার করে আইডিয়া দেবেন, আর বেতন নিবেন। এর চেয়ে মজার জব আর হয় ?







যাই হোক, আগের কথায় ফিরে যাই। ব্রান্ড এবং এড সম্পর্কে নিশ্চই একটা ধারনা পেয়েছেন। এখন মাথায় রাখেন, এড ফিল্ডে কাজ করতে গেলে আপনাকে ক্রিয়েটিভ, ইনোভেটিভ হতেই হবে। তাই এডভার্টাইজিং এর সাথে ক্রিয়েটিভিটির একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে।

এখন কথা হচ্ছে, ক্রিয়েটিভিটি কেন ? কোথায় পাবেন , কিভাবে ব্যাবহার করবেন । এডভার্টাইজিং এর থেকে একটু সরে গিয়ে একটু ব্যাপক আলোচনায় আসি।

"এন আইডিয়া ক্যান চেঞ্জ দ্যা ওয়ার্ল্ড"

এই কথাটা যে কতটা শক্তিশালি এই জিনিস টা এখনো আমরা উপলদ্ধি করি নাই। ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট সিমন প্যারেস বলেছিলেন, "হাজার হাজার সোলজার যা করতে পারেনা,
একটা ক্রিয়েটিভ আইডিয়াই তা করে দেখাতে পারে।"

আমরা এমন একটা পৃথিবীতে বসবাস করছি, এমেরিকান রা যাকে বলে 'দ্যা ভুকা ওয়ার্ল্ড',





এই ওয়ার্ল্ড খুবি ফাস্ট মুভিং। আমরা বর্তমানের ফিনানশিয়াল কিংবা সোশ্যাল অবস্থা বিবেচনা করলে দেখতে পাই, কোন কিছুই এই ওয়ার্ল্ডে টিকে না। ইট'স কমপ্লিকেটেড, ভার্সেটাইল এবং ভোলাটাইল। এবং আগামী বিশ বছরে এর কোন পরিবর্তন হবেনা। বরং কমপ্লিকেসি আরো বাড়বে। প্রতিযোগিতা বাড়বে,সামাজিক অবক্ষয় বাড়বে, সামাজিক মূল্যবোধ কমবে। প্রচলিত যা কিছু আমরা ব্যাবহার করি, সব বেকার হয়ে যাবে।
ধর্ম-ডেড, ম্যানেজমেন্ট-ডেড, লজিস্টিক-ডাজেন্ট ম্যাটার, এমন কি সবকিছুর ডিজিটালাইজেশনের ফলে আমাদের সম্পর্ক, আন্তরিকতা, অনুভুতি- ডেড।

সাচি এন্ড সাচি পৃথিবী বিখ্যাত একটি এডভার্টাইজিং কোম্পানি। এর সিইও হচ্ছেন কেভিন রবার্টস। তার মতে, ক্রিয়েটিভ পার্সন দের জন্য এই পৃথিবীটাই হচ্ছে সবচাইতে উপযোগী। তিনি বলেছেন, এইটা 'সুপার ওয়ার্ল্ড' আমাদের জন্য।
সি, উই আর ইন এডভার্টাইজিং। এড মিডিয়াতে সব কিছুই সুপার। সুপার ফ্যান্টাসি, সুপার মডেল, সুপার গার্লজ, সুপার বিজনেস, সুপার মিডিয়া পারসোনা- এভ্রিথিং ইজ সুপার। আর কেনই বা হবেনা ? এড ফিল্ডে যারা কাজ করেন, সকলেই যে ক্রিয়েটিভ।

আমরা বাস করছি ক্রিয়েটিভিটির একেবারে প্রান্তে। এই সময়ে, যখন সব কিছুই মৃতপ্রায়, একমাত্র দামী জিনিস হচ্ছে ক্রিয়েটিভ আইডিয়া। সারা পৃথিবীর মানুষ যখন অসঙ্খ্য কমোডিটির অপশনে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন একটা আইডিয়াই পারে তাদের কে স্বপ্ন দেখাতে। পৃথিবীকে একটা আশা দেখাতে। নতুন কিছু স্বাদ দিতে। ট্রাস্ট মি, এমন অনেক মানুষ জন আছে, যারা একটা আইডিয়ার জন্য বসে আছে। তাদের টাকার কোন অভাব নাই, বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। আমাদের যা দরকার, তা হচ্ছে, জাস্ট একটা অসাধারন আইডিয়া বের করা। এবং তা সবার সাথে শেয়ার করা। আমাদের কাছে আছে আইডিয়া, আমাদের কাছে আছে নেট। আমাদের শুধু এই পিভিলেজটুকু কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য আপনার অনেক টাকার প্রয়োজন নাই। আপনার দরকার খালি একটা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট । সাথে অবশ্যই চরম কোন আইডিয়া। আপনি পুরা পৃথিবীটার চেহারা চেঞ্জ করে দিতে পারবেন, উইথিন টুয়েল্ভ আওয়ার্স। সাইয়ের 'গ্যাংন্যাম স্টাইল' এর কথা চিন্তা করেন। সারা পৃথিবী এখন গ্যাংনাম জরে আক্রান্ত। বাট দিস ইজ নট এ ক্লাসিক। এটা জাস্ট একটা মিউজিক, একটা ড্যান্স মুভ। নাথিং এলস। কিন্ত তারপরেও ইউটিউবে এই ভিডিও ১০০ কোটি বারের বেশি দেখা হয়েছে।

তার মানে মানুষ এখন আসলে কোয়ালিটির বা পিছনে ছুটে খুব কম। ইনসট্যান্টলি তার যা ভালো লাগবে, সেটাই সে গ্রহন করতে প্রস্তুত। তাহলে আপনার কাজ হচ্ছে, গ্রহন যোগ্য কিছু বের করে তা শুধু শেয়ার করা। বাকিটা আমরা নিজেরাই সবাই মিলে করে নিবো। আমরাই হচ্ছি এখন ফর্মে।

জর্জ বার্নাড শ বলেছিলেন, 'প্রগ্রেস উইল ক্যাম বাই দি আনরিজনেবল এন্ড ক্রেইজি ম্যান এন্ড উইম্যান' , এখন সময়টা যাচ্ছে ক্রাইসিসের, আগেই বলেছি। কাজেই আমরা যারা
এডভার্টাইজিং এ আছি, আমরা রিচ, আমরা সাহসী, আমরা ক্রেইজি, আমাদের ভয় পাওয়ার কোন কারন ই নাই। মোর ওভার আমাদের কাছে আছে আসল জিনিস, ক্রিয়েটিভ আইডিয়া। যে ক্ষেত্রেই কাজ করেন না কেন, আপনার ক্রিয়েটিভিটি এপ্লাই করতে পারলে আপ্নিও ভালো করবেন।

এডভার্টাইজিং এর গভীরে যেতে হলে আসলে আপনাকে ক্রিয়েটিভিটি এবং কমিউনিকেশন বুঝে তারপর যেতে হবে।
আজকে দু একটা পয়েন্ট নিয়ে বলি।


"নিউ" নয় "নাও"



এই "দ্যা ভুখা ওয়ার্ল্ডে" টিকে থাকতে হলে আপনাকে 'নিউ'র উপর থেকে নজর সরাতে হবে। এই ওয়ার্লেড সবকিছুই নিউ। এতই নতুন নতুন জিনিস আসছে,সো নিউ ইজ নো লঙ্গার নিউ। ইট'স অলরেডি ওল্ড। যখন আমরা নতুন কিছু একটা শুনি বা জানি, এর আধা ঘন্টার মধ্যেই চলে আসে ফেসবুকে, ব্লগে, ইউটিউবে। সময়ের সাথে সাথে এত এত নতুন জিনিস তৈরি হচ্ছে, বাট আমরা অপশনের চক্করে পড়ে গেছি। এটা না ওটা, সবি তো নিউ। এই করতে করতেই চলে আসে আরেক টা নিউ জিনিস। তারমানে নিউ, নিউ, নিউ ইজ অলরেডি ওল্ড, ওল্ড, ওল্ড।

সো নিউ ইজ নট ইম্পর্ট্যান্ট ফর দ্যা পিপল, হোয়াট ইম্পর্টেন্ট ইজ 'নাও' অর্থাৎ এখুনি । আগের পোস্টেও কিন্ত 'নাও' কথাটার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলাম। যাই হোক, আমাদের হ্যাপিনেসের প্রায় পুরাটাই আসে 'নাও' থেকে। মোটামুটি ভাবে বলা যায় ১৫% আসে, আপনার পাস্ট এচিভমেন্ট বা সুখ মুহুর্তগুলো
থেকে, ১৫% আসে ফিউচার থেকে, লাইক ড্রিমস, হোপ, প্রার্থনা ইত্যাদি। তবে বাকি ৭০% হ্যাপিনেস ই কিন্ত নাও। কাজেই আপনি যখন বিজনেস, এডভার্টাইজিং বা ক্রিয়েটিভে আছেন,
আপনাকে শিওর করতে হবে, আপনি যা করছেন তা যেন কঞ্জিউমার কে নাও (এখনি) হ্যাপিনেস দেয়, নট ইন ফিউচার, নট ইন পাস্ট।

ইমোশন ইন এডভার্টাইজিং




এডভার্টাইজিং এর ক্ষেত্রে ইমোশন একটা খুব গুরুত্বপুর্ন জিনিস।
এডে র‍্যাশনাল এবং ইমোশনাল থিংকিং এর মধ্যে পার্থক্য কিন্ত অনেক ব্যাপক। র‍্যাশনাল বা যৌক্তিক চিন্তা আপনাকে দিবে একটা কনক্লুশন, এবং আরো কনক্লুশন, এবং ইমেইল, মিটিং, কাউন্সেলিং, রিসার্চ, এগেই কঙ্কলুশন...এভাবে চলতেই থাকবে।
কাজেই যুক্তি নির্ভর এড মানেই হচ্ছে সেটাকে একটা সায়েন্টিফিক প্রসেসে নিয়ে আসা।

অন্যদিকে ইমোশনাল থিংকিং লিডস টু একশন। আমরা আসলে এডের মাধ্যমে আপনাকে মুভমেন্টে দেখতে চাই আমাদের সাথে (আগের প্যারায় বর্নিত মুভমেন্ট) , এবং মনে রাখবেন, অলোয়েজ ইমোশন আপনার কঞ্জিউমারকে দিয়ে একশন এ চলে যাবে ডাইরেক্ট। টেলিটকের বিজ্ঞাপন টা কেন এত হিট হলো বলুন ? কারন আমরা ইমশোনাল। টেলিকম কোম্পানিগুলার এডগুলা পুরা গল্পের মত লাগতো এক সময়। ধরেন বাংলা লিঙ্ক এর প্রথম দিকে দিন বদলের চেষ্টায় এডগুলার কথা। এই এড গুলাতে একটা স্টোরি ছিলো। এক একটা এডে এক একজন মানুষের স্ট্রাগল দেখানো হতো। সেই ইমোশন ছড়িয়ে পড়তো ভিউয়ারস দের মনেও। কাজেই ইমোশন ইন এড, ইজি ভেরি ইম্মপরট্যান্ট। আর সোশ্যাল এড হলে তো কথাই নাই।

ইমোশনের আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, আপনি কখনো ইমোশন নিয়ে রিসার্চ করতে পারবেন না। আপনি ইমোশনের প্রিটেস্ট করতে পারবেন না। কাজেই আপনাকে নির্ভর করতে হবে আপনার টার্গেট পিপলদের মনস্তত্ব এবং ইন্সটিঙ্কট এর উপর। আপনাকে সব ধরনের মানুষের সাথে মিশতে হবে, তাদের সাইকোলজি শিখতে হবে। তাহলেই একটা স্বার্থিক এড বানাতে পারবেন।

"বিগ আইডিয়া" বলে কোন ব্যাপার নেই




আসলে কথাটা ব্যাখ্যা করা দরকার। অসঙ্খ্য ছোট ছোট আইডিয়া মিলেই একটা বিগ আইডিয়া হয়। আইডিয়া কখনো একা একা জন্ম নেয় না। আমরা প্রকৃতি থেকে শুরু করে আমাদের চারিপাশের অসঙ্খ্য জিনিস অবজার্ভ করলে আইডিয়ার অভাব হবেনা। শুধু প্রতিনিয়ত ঘটনার সাথে লিঙ্ক খুজে বের করাটাই হলো ব্যাপার। যে বইটা পড়ছি, যে মুভিটা দেখছি, তার প্রতিটা লাইন ই হতে পারে একটি পটেনশিয়াল আইডিয়া। কাজেই চারপাশ দেখুন, ভাবুন, আইডিয়া চলে এসবে। আর একটা ব্যাপার, আইডিয়া কখনো তৈরি হয় না। এটা ডেভেলপ হয়। আইডিয়া ডেভেলপিং এর জন্য সবচাইতে ভালো উপায় হলো মানুষের সাথে ইন্টারেকশন, বই পড়া, মুভি দেখা, অন্যদের সাথে ব্রেইনস্টর্মিং করা। আইডিয়া আপনার চারপাশেই আছে, আপনাকে শুধু দেখতে হবে, খুজে বের করতে হবে।

তবে সে জন্য আপনাকে মন আর চিন্তার প্রসার ঘটাতে হবে।

একটা মৃতপ্রায় গাছ কে দেখে কাঠুরিয়া ভাববে সেটাকে কেটে লাকড়ি বানানোর কথা, আবার একজন আর্টিস্ট দেখবে মৃত্যুর প্রতিকী হিসেবে। তালগাছ দেখে সবাই ভাববে তাল খাওয়ার কথা। আর রবীন্দ্রনাথ ভাববেন,
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
উকি দেয় আকাশে

কাজেই এজ এ ক্রিয়েটিভ পারসন আপনাকে সবার চেয়ে ভিন্ন কোন এঙ্গেলে দেখতে হবে। যে জেনিস টা সবাই দেখেছে, কিন্ত কেউ আপনার মত করে ভাবেনি, সেটাই ক্রিয়েটিভ।

আজ এ পর্যন্তই, পরের দিন অন্য কিছু নিয়ে লেখবো। ইউটিউব অনেকেরি না থাকায় ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক দরকারি লিঙ্ক দিতে পারছি না।


যাই হোক, ধন্যবাদ সবাইকে।



আগের পর্বঃ পর্ব ৭, কমিউনিকেশনের ম্যাজিক
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৯
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দীর্ঘতম বিষধর সাপ শঙ্খচূড় ।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই জুলাই, ২০২২ দুপুর ১:০০


পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম বিষধর সাপ শঙ্খচূড় বা রাজ গোখরা। এর ইংরেজি নাম King Cobra এবং বৈজ্ঞানিক নাম Ophiophagus hannah যা Elapidae পরিবারভুক্ত একটি সাপ। এই সাপটি দীর্ঘতা ও ক্ষিপ্রতায় সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোলস

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৬ ই জুলাই, ২০২২ বিকাল ৩:৪৬

নিজের এলাকা ছেড়েছিল সে অনেক অনেক আগে। অত কুকীর্তির পর নিজের এলাকায় টিকে থাকা বা বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। সম্পূর্ণ নতুন, অপরিচিত জায়গায় এসে দীর্ঘদিন লো-প্রোফাইলে থেকে মোটামুটি নির্জীব জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাগী বউ !! একটি রম্য কথন

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৬ ই জুলাই, ২০২২ বিকাল ৫:৩৮


(photo credit google)
রাগী বউ !!

ঢাকার সবুজবাগ থানার ল্যান্ড ফোন ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে উঠলো। এক অপরিচিত লোক ফোন করেছেন। ডিউটি অফিসার ফোন রিসিভ করে ফোন করার কারন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারকেলের তৈরি দুটো থাই মিষ্টি খাবার

লিখেছেন জুন, ০৬ ই জুলাই, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২২


থাইল্যান্ডের স্থানীয় একটি মিষ্টি খাবার নাম তাঁর খাও নিয়াও মা মুয়াং
থাই ভাষায় খাও নিয়াও অর্থ স্টিকি রাইস আর আমকে বলে মা মুয়াং।অসাধারন স্বাদের এই খাবারটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার চোখে আজকের সেরা ৩ টি মন্তব্য। ব্লগে সভ্যরা লিখে বেয়াদবরা নয়।

লিখেছেন ভার্চুয়াল তাসনিম, ০৬ ই জুলাই, ২০২২ রাত ৯:০০

আসলে একজন ব্লগারের মাণ নির্ধারিত হয় তার মন্তব্য এবং লেখার মাধ্যমে। হিট বা মন্তব্য কিছু সংখ্যা মাত্র। গতকাল অফিসে বসে ব্লগিং করা নিয়ে সৃষ্ট ক্যাচালের জের ধরে ব্লগার স্বপ্নবাজ অভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×