
ভাবি আনমনে, রাষ্ট্রধর্ম বিষয়টি কি খুবই গুরুত্বপূর্ণ?
হয়তো!
তবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটা সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর কাছে যতোটা, ঠিক ততোটা নয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কাছে সম্ভবত!
ভারত ভাগের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রটির চালিকাশক্তির অধিপতি প্রবণতা ছিলো ধর্ম। ধর্ম মানে স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্ম। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবন কেমন ছিলো তখন? ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্তের উপরিতলিক বিশ্লেষণেই দেখা যায় রাজদণ্ড মোটেই মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেনি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি। এবং করার কথাও নয় অবশ্য।
১৯৭১। অখণ্ড পাকিস্তান পর্বের অবসান! নতুন দেশ হলো। ১৯৭২ সালে প্রণীত হলো সংবিধান। ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি যোজিত হলো নতুন সংবিধানে। কিন্তু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনাচারে কী ধরনের পরিবর্তন সাধিত হলো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে? সংখ্যালঘুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পরিসংখ্যান তো তেমন কোন ইতিবাচকতার দিকে ইঙ্গিত করে না!
১৯৮৮। সংবিধানে রদবদলের প্রয়োজন হলো। ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিস্থাপিত হলো। ধর্ম অন্তর্ভূক্ত হলো রাষ্ট্রকাঠামোয় প্রজাসাধারণের কল্যাণের জন্য। এবং সেই কল্যাণ স্বাভাবিকভাবেই অদৃশ্যমান রইলো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কাছে। থাকার কথাও তাই অবশ্য।
১৯৮৮ থেকে ২০১৫। রাষ্ট্রধর্ম সমুন্নত থাকা সাংবিধানিক চর্চায় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমতে কমতে এসে দাঁড়ালো মোটামুটি শঙ্কাজনক অবস্থায়। শতাংশ হিসেবে মোট জনসংখ্যার পাদপ্রান্তে দুই অংকের একটি ক্ষীণকায় সংখ্যা থেকে তাদের ক্রমাবনতি হলো এক অংকের একটি অতিক্ষীণ সংখ্যায়। জীবনমানে আরও বেশি লঘুত্বকে বরণ করলো সংখ্যালঘুরা। তেমনটিই হবার কথা অবশ্য।
২০১৬। রাষ্ট্রধর্ম আবার অবতীর্ণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে।
গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই, তবে বরাবরের মতোই সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর কাছে যতোটা, ঠিক ততোটা নয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কাছে সম্ভবত!
সংবিধানে ধর্ম যোজন, ধর্ম বিয়োজন কিংবা ধর্মের নিরপেক্ষ আচরণ বিশেষ কোন বদলই তো আনে না সংখ্যালঘুদের জীবনে! আনে জীবনমানে ক্ষতি! আনে অবলুপ্তির পরিসংখ্যানে ক্রমান্বয়ে সাংখ্যশূন্যে অবনমনের দুর্গতি!
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


