নঞ-প্রস্তাবনা
সন্তগণ শাস্ত্রের আশ্রয় লইলেন। নিশ্চিত হইলেন, ইহা বৃত্তি উল্লেখে সুপ্রাচীন। সৃষ্টির প্রায় আদি হইতে উক্ত বৃত্তির চর্চা বিদ্যমান। এবং ইহাতে সর্বকালে জাতিধর্মমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মনুষ্য জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে বিজড়িত। চৌর্যবৃত্তি সমাজের উপরিতলিক বিবেচনায় রীতিবিরুদ্ধ ও অহিতকর বলিয়া আখ্যায়িত হইলেও বিত্তবান, প্রতিপত্তিশালী দুর্বৃত্তের চৌর্যবৃত্তি বৈধ বহুলাংশে। এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে নির্বিঘ্নে সমাধা করিতে পারিলে চৌর্যবৃত্তিতে সমাজের মৃদু ভৎসনা থাকিলেও তেমন আপত্তি নাই বলিয়া প্রতীয়মান হয়। যে কাহারো ক্ষেত্রে কার্য সমাপন্তে প্রথমত পলায়ন করিতে পারা আবশ্যক। অর্থাৎ ধরা পড়া যাইবে না।

যেহেতু বিত্তহীন যুবকটি ধরা পড়িয়াছে, সেহেতু সন্তগণ কর্মব্যস্ত হইলেন। চাঞ্চল্য তাড়িত হইলেন। এবং দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্তকে পরম কর্তব্যজ্ঞান করিলেন। যদিও যুবকের ওপর আরোপিত চৌর্য-অভিযোগ প্রমাণিত নয়, তদ্বসত্ত্বেও তাহার হস্তদ্বয় বাঁধা পড়িল সুদৃঢ় রজ্জুতে। সন্তগণের সুবিবেচক সিদ্ধান্ত মোতাবেক একখানা পুরু কাগজে ‘আমি চোর’ শব্দযুগল স্পষ্টাক্ষরে লিখিয়া যুবকের কণ্ঠে ঝুলাইয়া নগরীর এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত প্রদক্ষিণ করিতে বাধ্য করা হইল। যুবকের গণ্ডদ্বয় অশ্রুসিক্ত হইল এবং সেই বেদনাদ্র অশ্রু কোন মনুষ্যমনের দয়ার দুয়ারের কড়া নাড়িতে অক্ষম হইলেও সদয় হইল প্রকৃতি। সেইসূত্রে বৃষ্টি আসিল। অবারিত বৃষ্টিধারা যুবকের অশ্রুধারা ঢাকিয়া রাখিল সন্তর্পণে। সন্তচক্ষুর অগোচরে। নিঃশব্দে।
নঞ-পাদটীকা
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৬ রাত ১১:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



