
আজকের এই দিনে, ১৯৮৭ সালে, এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে, গরীবের ছেলে নুর হোসেন, খালি গায়ে মিছিল করতে গিয়ে, পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান!
গরীবের অশিক্ষিত ছেলে, নুর হোসেন গুলিতে নিহত হতে পারে, এই পরিকল্পনা নিয়েই ততকালীন অসৎ রাজনৈতিক কর্মীরা উনাকে "খালি গায়ে, শ্লোগানসহ" মিছিলের সামনে রেখে মিছিল করে। রাজনৈতিক কর্মীরা মিছিলে পুলিশ-বিরোধী উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিলো; পুলিশ গুলি করার সময়, প্রথমেই নুর হোসেনকে "সহজ টার্গেট" হিসেবে সামনে পায়; মিছিলের সামনে খালি গায়ে একজন মানুষ সহজেই পুলিশের চোখে পড়ে। এরশাদ বিরোধী মিছিলের দরকার ছিলো; কিন্তু ততকালীন অসৎ রাজনৈতিক কর্মীরা লাশের রাজনীতি করেছে, তারা প্ল্যান করেই, রাজনীতির বাহির থেকে গরীব ও অশিক্ষিত নুর হোসেনকে এনে "বলি" দিয়েছে।
আজকে নুর হোসেন নেই, বেগম রওশন বিরোধীদলের নেত্রী, জেনারেল এরশাদ বিশেষ দুত, তাদের দলের অনেকই মন্ত্রী, বাকীরা বিরোধী দলে, যাদের সবার নেত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা।
বিনা রক্তপাতে, ১৯৮২ সালে এরশাদ বাংলাদেশের সরকারকে হটিয়ে দেশের ক্ষমতা দখল করে, মিলিটারীদের তত্বাবধানে জাতীয় পার্টি গঠন করে, সেই পার্টির 'সিভিলিয়ান উইং" গঠন করা হয়; উহাতে যোগ দেয় মুলত: বিএনপি'র লোকজন ও জাসদ মাসদের মারাঠারা।
কেন্টনমেন্টের দল, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়, আরেক জেনারেলকে কেন ক্ষমতায় আসতে হয়েছিলো? জেনারেল জিয়ার মৃত্যুর পর, বাংলাদেশের মিলিটারী অফিসারদের মাঝে বিভক্তি দেখা দেয়, অনেকই জানতেন যে, জেনারেল জিয়া হত্যায় জেনারেল এরশাদের সায় ছিলো, ও ঘটনা ঘটতে দিয়েছে; এবং সেটাই সঠিক ছিলো। তখন জেনারেল এরশাদ দেখেছে যে, সে যদি দেশের ক্ষমতা দখল না করে, সে চাকুরী হারাবে; তার দল ভারী ছিলো; সে প্রেসিডেন্ট সাত্তার থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয় ১৯৮২ সালে।
জেনারেল জিয়ার পক্ষের অফিসারেরা বেগম জিয়ার পক্ষ নেন; এরশাদ বেগম নিয়ার বিপক্ষে ছিলেন না; তিনি জানতেন, নির্বোধ, গোবেচারা বেগম জিয়া কোন কিছুর ভেতরে নেই। এরশাদ বিরোধিরা বেগম জিয়াকে জানায় যে, জেনারেল জিয়ার হত্যায় এরশাদের সায় ছিলো; বেগম জিয়া অবশ্য জেনারেল জিয়ার মৃত্যুতে ভেংগে পড়েননি; এর কারণ ইত্যাদি জেনারেল এরশাদও বুঝতেন; তিনি বেগম জিয়াকে খুশী করতে সরকারী ২টি বাড়ী, ১০ লাখ টাকার ডিপোজিট, গাড়ী, চাকর-চাকরাণী, ছেলেদের সব রকমের খরচ দেন; বেগম জিয়া খুশী!
জিয়া পন্হী অফিসাররা বেগম জিয়াকে বিএনপি'র সভাপতির পদে আসীন করে দেন ও ভরসা দেন যে, এরশাদের পতনের পর, হয়তো দেশে আবারো মিলিটারী সরকার গঠন কঠিন হবে, তখন বেগম জিয়া মিলিটারীর সাপোর্টে দেশ চালানোর সুযোগ পাবেন। রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমেই এরশাদ বিরোধী হয়ে উঠে, মানুষও মিলিটারী শাসনের বিপক্ষে অবস্হান নেয়।
এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে সঠিক ছিলো, কিন্তু ততকালীন রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে অনেকই অপরাধের রাজনীতি করতো, লাশের রাজনীতি করতো, নুর হোসেন তাদের টার্গেটে পরিণত হয়ে প্রাণ হারায়েছেন; জেনারেল এরশাদ, রওশন ও সেইসব রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকেই আজকে ক্ষমতায় আছে; এরা এই দেশের রাজনীতির অপশক্তি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



