
এই বছর ফেব্রুয়ারী মাসে, বেগম জিয়ার 'এতিমখানা মামলার' রায় বের হওয়ার আগে, বিএনপি'র নেতারা সরকারকে হুশিয়ারী দিয়েছিলো, যদি বেগম জিয়ার জেল হয়, তা'হলে, বিএনপির ফখরুল সাহেব, রিজভী সাহেব, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, গয়েশ্বের রায়, ড: মোশারফ, মওদুদসহ সব সিনিয়র নেতারা 'স্বেচ্ছায় জেল বরণ করবেন'।
আমাদের ব্লগার শাহীন-৯৯ সাহেবও বোধ হয়, ঐ রকম কিছু একটা করার কথা ভাবছিলেন; দেখেছেন, বেগম জিয়ার সাথে স্বেচ্ছায় কে জেল বরণ করেছেন? যিনি স্বেচ্ছায় জেল বরণ করেছেন, তিনি হলেন এই জাতির হত-দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, পরিবার ও স্বামীহীন নারী, ফাতেমা। মনে হয়, সমগ্র বিএনপি'র লোকদের চেয়ে, এই ফাতেমাই বেগম জিয়াকে বেশী ভালোবাসেন; বেগম জিয়া উনার জন্মদিনের কেক কাটার বন্ধুদের চিনতে পেরেছেন নিশ্চয়!
গতকাল, পার্টির মনোয়নের জন্য, বেগম জিয়ার নামে ৩টি আবদনপত্র কেনা হয়েছে; কিনেছেন মির্জা ফখরুল! মির্জা ফখরুল সাহেব ভালোভাবে জানেন যে, ১৭ বছর জেল হওয়ার পর, বেগম জিয়া ভোটে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারায়েছেন! তা'হলে, কেন তিনি বেগম জিয়ার নামে পার্টির মনোয়ন পত্র কিনছেন? এটা কি কোর্টের প্রতি অসন্মান দেখানো, ও বেগম জিয়া-বিরোধীদের আরো উসকিয়ে দেয়া? এই উসকানী কি বেগম জিয়ার পক্ষে যাচ্ছে, নাকি বেগম জিয়ার বিপক্ষে যাচ্ছে?
ধরলাম, বেগম জিয়া পার্টি থেকে ৩ সাংসদীয় এলাকায় ভোটে অংশ গ্রহনের জন্য মনোনীত হলেন; এরপর, বেগম জিয়া যখন ইলেকশান কমিশনে নিজের প্রার্থীতার দরখাস্ত পুরণ করবেন, ইলেকশান কমিশন কি এতে খুশী হবে? ইলেকশান কমিশন আশা করবে যে, ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী নিজকে নির্বোধ হিসেবে উপস্হাপন করবেন না। এই ধরণের পরিস্হিতি কি ৩ বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে যাবে?
বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ স্বেচ্ছায় জেল বরণের ঘোষণা দিয়ে, সেটা না করাতে আসলে, প্রামাণিত হয়েছে যে, তারা বেগম জিয়ার উপস্হিতিতে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে বেগম জিয়াকে; বেগম জিয়া যা বুঝার তা বুঝেছেন, হয়তো; এবং দেশের মানুষ বিএনপি'র এসব নেতাদের কোনদিন সিরিয়াস নেতা হিসেবে নিবে ?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


