
১৯৭৩ সালে রাজা জহির শাহ (১৯১৪-২০০৭) চোখের চিকিৎসা করাতে যান ইতালীত; এই সুযোগে উনার আত্মীয় ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, মো: দাউদ খান দেশে সামরিক ক্যু' করে, দেশের ক্ষমতা দখল করে নেন; আফগানিস্তানকে কক্ষচ্যুত করলেন মো: দাউদ খান; সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় এনে জাতিকে নিয়ে অনিশ্চিত পথে রওয়ানা হলেন তিনি; জাতিকে চমকিত করার জন্য দেশকে "রিপাবলিক" ঘোষণা করলেন, রাজতন্ত্রের অবসান হলো!
রিপাবলিক হলো জহির শাহের রাজ্য, কিন্তু ক্ষমতায় সেনাবাহিনী। জহির শাহ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত, প্রায় সব রাজারা প্রাণ হারায়েছিলো অন্যদের হাতে; জহির শাহের বাবা নাদির শাহকেও হত্যা করেছিল শত্রুরা; জহির শাহ ৪০ বছর ক্ষমতায় থেকে, হত্যার রাজনীতি বন্ধ করেছিলেন; কিন্তু দাউদ খান নতুন করে সেই পথেই পা বাড়ালেন নিজের অজান্তই।
১৯৭৮ সালে, সেনাবাহিনীর একাংশ ক্যু করে দাউদ খানকে স্বপরিবারে হত্যা করে; দু:খী কাবুলীওয়ালাদের দেশ, আফগানিস্তান রক্তের পথে যাত্রা শুরু করলো পুনরায়। রক্তের পথ মাড়ায়ে ক্ষমতায় এলো নুর মোহাম্মদ তারাকি; উনার পদ হলো প্রেসিডেন্ট, কিন্তু মিলিটারীর হাতেই ক্ষমতা রয়ে গেলো, এবং মিলিটারী ২ ভাগে বিভক্ত: আমেরিকান পন্হী ও সোভিয়েত পন্হী। দেশের কিছু অন্চলে, প্রথমবারের মতো, সাধারণ মানুষ সরকারের বিপক্ষে অস্ত্র হাতে নিচ্ছিল। তারাকি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে চুক্তি করে, কিছু সোভিয়েত সৈন্য নিয়ে এলো দেশ; এটা ছিলো ভয়ানক পদক্ষেপ, আফগানরা নিজদেশে অন্যদের প্রভাব মানার লোক ছিলো না।
১৯৭৯ সালে, প্রাইম মিনিষ্টার, হাফিজুল্লাহ আমিনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট তারাকিকে হত্যা করে। সেনা বাহিনীতে তারাকি পক্ষের লোকেরা ও দেশের ভেতরে থাকা সোভিয়েত সেনাবাহিনী আমিনের বিপক্ষে অবস্হান নেয়; তারা তাকে সিআইএ'এর এজেন্ট মনে করতো। তারাকি পক্ষের লোকদের অনুরোধে, ও কাবুলে অবস্হিত সোভিয়েত বাহিনীকে রক্ষা করার জন্য, সোভোয়েত ইউনিয়ন বিশাল সেনাবাহিনী পাঠায়; এই বাহিনী দেশ দখল করে নেয়।
১৯৮০ সালে সোভিয়েত সমর্থকদের থেকে বাবরাক কামালকে প্রেসিডেন্ট পদে নিযুক্তি দেয়া হয়; দেশে কিছুটা শান্তি ফিরে আসে; কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় স্বয়ং সোভিয়েত ইউনিয়নে; সেক্রেটারী ব্রেঝনেভের বয়স অনেক, দেশ চালনার ব্যাপারে সোভিয়েত কম্যুনিষ্ট পার্টির পলিটব্যুরোর মাঝে বিভক্তি দেখা দিয়েছে; ফলে, আফগানিস্তান নিয়ে তারা তেমন কোন পরিস্কার নীতি অনুসরণ করেনি।
এদিকে হাফিজুল্লাহ আমিনের লোকেরা সিআইএ'এর সাহায্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সোভিয়েত সৈন্যদের ধর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে। যদিও আফগানিদের নিজস্ব ইসলাম ছিলো (সুদ ব্যবসা, আফিম চাষ, আফিম খাওয়া জায়েজ), তারা ধর্মহীন সোভিয়েত বাহিনীর অবস্হানকে চ্যালেন্জ হিসেবে নেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




