
ইরানের এটমবোমা প্রোগ্রামের জনক, মোহসেন ফখরিযাদেহ'কে হত্যা করা হয়েছে; এর আগেও একজনক পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে বিদেশী গোয়েন্দারা; কারা ইরানের এসব জ্ঞানী মানুষকে হত্যা করছে, আপনার কোন ধারণা? এই রকম জ্ঞানী মানুষ কি বিশ্বের জন্য খুবই সহজলভ্য, চাইলেই মেরে ফেলতে পার, চাইলেই তৈরি করে নিতে পারে?
ইরানের সুপ্রীমনেতা এই জ্ঞানী মানুষটাকে বিজ্ঞানীর চেয়েই বড় টাইটেল দিয়েছেন, "শহীদ"; এবং ঘোষনা দিয়েছেন, প্রতিশোধ নেয়া হবে; ইরান কি প্রতিশোধ নেয়ার মতো অবস্হানে আছে? যদি প্রতিশোধ নেয়ার অবস্হানে থেকে থাকে, কোন দেশকে কি করতে পারবে ইরান? যদি ইরান প্রতিশোধ নেয়, সেটা হবে শেষ, নাকি তারপর আরো ভয়ংকর কিছু ঘটবে?
ইরান এটমবোমা বানানোর প্রজেক্ট হাত নেয়ার পর, ইরাকী এক অস্ত্র কারখানাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলো ইসরায়েল; তারপর, ইরান নিজের ফেসিলিটিকে মাটির নীচে নিয়ে গেছে; ফলে, এখনো উহাকে মাটিতে মিশাতে পারছে না; যাক, একদিক রক্ষা হচ্ছে; কিন্তু ইহার জন্য মুল্যটা কে দিচ্ছে, কত দিচ্ছে?
ইরান এটমবোমা বানানোর প্রোগ্রাম শুরু করার পর, ইসরায়েল, সৌদী আরব, আমেরিকা ও ইউরোপ ইহার বিরোধীতা করে আসছিলো; কিন্তু ইরানের সমর্থকও ছিলো; সেই প্রোগ্রাম নিয়ে বিশ্ব ব্যাপি মিশ্র-প্রতিক্রিয়া ছিলো; ইউরোপের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করতো যে, ইরান আসলে বোমা বানাতে পারবে না; কিংবা সময়ের সাথে ইরানকে তার প্রোগ্রাম থেকে সরানো সম্ভব হবে। প্রেসিডেন্ট আহমেদি নেজাদ (২০০৫-২০০১৩) ২০০৬ সালে, একদিন ইরানের বোমার ১ম ক্রিষ্টাল দেখে, পুরো জাতিকে নিয়ে দিনটি উদযাপন করেছিলো; সেদিন পুরো বিশ্ব জানতে পারে যে, ইরান আসলেই বোমা বানাতে যাচ্ছে।
ওবামা ইরানের সাথে চুক্তি করে ২০১৬ সালে, ইরান বোমা বানানোর থেকে সরে যায়; ওবামা সকল ধরণের সেংশান তুলে নেয়, আমেরিকায় আটকে পড়া ইরানের সম্পদ, প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়ার ব্যবস্হা নেয়; এবং ২০৩০ সালে ইরানকে ২টি বোমা বানানোর জন্য অনুমতি দেয়া হয়।
ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ইরানের সাথে করা চুক্তিকে বাতিলের ভয় দেখাতে থাকে, কিন্তু বাতিল করেনি। ইরান ট্রাম্পের বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোকে নিজেদের জন্য বর হিসেবে মনে করে, তারা ওবামা চুক্তিকে স্হগিত করে রাখে; এখানেই ইরান ভুল করেছে; তাদের উচিত ছিলো, ট্রাম্পের ভুল কর্মকান্ডকে পুঁজি না করে, জাতি সংঘ ও ইউরোপের সাথে চুক্তির বাস্তবায়ন চালিয়ে যাওয়ার দরকার ছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

