
শেখ হাসিনার জন্য আজকের বড় সমস্যা কোনটা, টিকা ক্রয় করা, নাকি হেফাজতকে কন্ট্রোলে আনা, নাকি দু'টোই? শেখ হাসিনার একটা দুর্বল দিক হচ্ছে, উনার বাবার প্রচার; উনার কর্মকান্ডে দেখে মনে হয় যে, শেখ সাহেবকে যদি উনি মেয়েদের কসমেটিকের মতো প্রচারের ভেতর না রাখেন, শেখ সাহেব নামটি জাতি ভুলে যাবে! ইহা উনার বড় ভুলগুলোর মাঝে অন্যতম একটি ভুল ধারণা; এবং উনার এই ভুলের জন্য জাতির কাছে শেখ সাহেবের গুরুত্ব কমেছে ক্রমাগতভাবে।
উনার মনের ভেতর উনার বাবার অবস্হান ও প্রভাব কতটুকু আমরা কখনো জানতে পারবো না; তবে, উনার কর্মকান্ড থেকে আমরা মোটামুটি অনুমান করতে পারছি বেশ কিছুটা; উনার উপর উনার বাবার রাজনৈতিক প্রভাব মোটামুটি নেই বললেই চলে, কিন্তু বাবার রাজনৈতিক অবস্হানের গুরুত্ব আছে।
উনার বাবার হত্যাকান্ডকে উনি সিরিয়াসলী নিয়েছিলেন; সামান্য গৃহবধু হয়েও বাংলাদেশের জেনারেলদের হাত থেকে দেশকে কেড়ে নিতে সমর্থ হয়েছিলেন, যেখানে বার্মা, পাকিস্তান, মিশরের মানুষজন সেসব দেশের জেনারেলদের দখলে আছে। কিন্তু উনি জেনারেলদর থেকে দেশ কেড়ে নেয়ার পর, জাতির সাধারণ মানুষের খুব একটা লাভ হয়নি; যোগ-বিয়োগ করলে দেখা যাচ্ছে যে, মানুষ যেই উদ্দেশ্য নিয়ে উনার পক্ষ নিয়েছিলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কিন্তু কার্যকরী হয়নি।
জেনারেলরা বাংলাদেশে উনার পিতার অবদানকে মুছে দিতে চেষ্টা করেছিলো; কিন্তু সেটা ঘটেনি। এখন, উনার বাবার নিয়মিত প্রচারের একটা পদক্ষেপে হেফাজত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রতি। আজকে, হেফাজত যখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সময়টাও বিশ্বের জন্য ও আমাদের জাতির জন্য ক্রিটিক্যাল, করোনার সময়; অর্থনৈতিকভাবে ও স্বাস্হ্যের দিক থেকে জাতি লন্ডভন্ড অবস্হায়; জাতি জানেনা সরকার করোনার টিকা কিনার জন্য ব্যস্ত, নাকি হেফাজত ঠেকাতে ব্যস্ত!
হেফাজতের যেই মনোভাব, ইহা কোন জাতির জন্য ভালো কিছু নয়; কিন্তু এরা আমাদের দেশের নাগরিক, এদের কর্মকান্ড, ভালোমন্দ জাতির স্বাস্হ্যের অংশ। এরা যে জাতির দুর্বল ভাবনার মানুষ, এতে কারো সন্দেহ নেই, এবং জাতির দুর্বল ভাবনার মানুষের সংখ্যা যদি পরিমাণে বেড়ে যায়, উহা জাতির জন্য ভালো সংবাদ নয়। এদের নিয়ে কি করতে হবে? এদের কি পিটিয়ে থামাতে হবে, নাকি এদের জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে? কোনটা করতে পারবেন শেখ হাসিনা?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

