
বিএনপি-জামাত-হেফাজত-বিরোধী বাংগালীরা আশা করে বসে আছেন যে, শেখ হাসিনা গতবার হেফাজতকে সামলায়েছে, এবারও সামলাবে। কিন্ত রাষ্ট্রে আমাদের যেই অবস্হান, শেখ হাসিনার সাথে আমাদের যেই সম্পর্ক, আমরা কি আসলে জানি যে, শেখ হাসিনা এবার যা পারবেন, আগামীতেও তা পারবেন? শেখ হাসিনার বয়স বাড়ছে, বিএনপি-জামাত-হেফাজত মনোভাবে লোকের সংখ্যাও বাড়ছে, এবং বাড়ার কারণ আছে। যারা বিশ্বাস করেন যে, শেখ হাসিনা কিছু একটা করবেন, তারা কি এত বড় আওয়ামী লীগের আরো কারো নাম বলতে পারবেন যে, শেখ হাসিনা না করতে পারলে অন্য কেহ তা করতে পারবেন? শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগের কারো উপর স্বয়ং আওয়ামী লীগেরও ভরসা নেই; শেখ হাসিনা যখন অসফল হবেন, তখন কি হবে?
অবস্হা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনা এবারও থামাতে পারবেন, কারণ হেফাজত ভুল দাবী নিয়ে ভুল পথে এগুচ্ছে; কিন্তু হেফাজত একদিন কিছুটা ঠিক দাবী নিয়ে ঠিকই আসবে, একদিন বলবে, তাদের কেন কোন পেশা নেই, তারা কেন বেকার, তাদর জীবনযাত্রার মান কেন নীচু, সরকার কেন এতিম থাকতে তাদের সাহায্য করেনি; সেদিন শেখ হাসিনা সামলাতে পারবে না। হেফাজত মনোভাবে লোকেরা জয়ী হলে কি হেফাজত সমস্যার সমাধান হবে? বেকারত্ব, অরাজকতা, দারিদ্রতা, কমবে? আফগানিস্তানে তালেবানরা জয়ী হওয়ার পর, আফগানিস্তানের সমস্যা কি কমে ছিলো, নাকি বেড়েছিলো? হেফাজত মনোভাবের লোকেরাই ইয়েমেনে ও সিরিয়ায় শক্তিশালী, কিন্তু দেশকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।
গতবার যখন হেফাজত ঢাকা দখল করতে নেমেছিলো, উহা শেখ হাসিনার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিলো, বেশ অপ্রত্যাশিত ছিলো; কিন্তু হেফাজত ধরণের মনোভাবের লোকজন যে দেশে বাড়ছে, এবং বাড়ার কারণ যে তিনি নিজে ও তার সরকার সে এজন্য দায়ী, সেটা কি তিনি বুঝেছিলেন, নাকি আজকে বুঝতেছেন?
শিক্ষা, চাকুরী সৃষ্টি, মানুষের নাগরিক অধিকার ইত্যাদির দিক থেকে শেখ হাসিনার সরকার আসলে হেফাজত ধরণের মনোভাবের মানুষ সৃষ্টির করার কারখানা হিসেবে কাজ করছে; উনার ভুলের জন্য দেশে এই শ্রেণীর মানুষ বাড়ছে; উনাকে সেই মেকানিজম বুঝতে হবে; উনি বারবার থামাতে পারলেও, আওয়ামী লীগের কেহ ইহাকে থামাতে পারবে না; এবং হেফাজত মনোভাবের লোকজন জয়ী হলে দেশের রক্ষা হবে না, সমস্যার সমাধান হবে না, যেভাবে তালেবানদের বিজয় আফগানিস্তানকে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের মাঝে টেনে নিয়েছে, সেই রকম কিছু ঘটবে। শেখ হাসিনাকে নিজ সরকারের হেফাজত তৈরির কারখানা বন্ধ করতে হবে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

