
সংবাদে দেখলাম, দেশের ৬৩টি জেলায় ও ৩৮০টি উপজেলায় 'মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে' নির্মাণ করা করা হয়েছে বা হচ্ছে; এসব কমপ্লেক্সের সামনে শেখ সাহেবের ম্যুরাল/ভাস্কর্য স্থাপন করা হচ্ছে! মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সেগুলো কিভাবে ও কি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে আমি এখনো জানি না; আপনারা কেহ জানলে জানাবেন; এগুলো যদি সঠিক আকারের বিল্ডিং হয়, এগুলোকে অনেক কাজেই ব্যবহার করা যাবে। যদি শুধু বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চা খাওয়ার যায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তা'হলে পুরো বিনিয়োগটা মাটি হবে; কারণ, ১০ বছর পর ওখানে আসার মতো যথেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা জীবিতও থাকবেন না, এমনি ভুয়ারাও তখন বেশী বয়স্ক হয়ে যাবে।
২০১২ ও ২০১৬ সালে আমি থানা ও ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিসে গিয়েছিলাম কিছুক্ষণ সময় কাটাতে, পরিচিত হতে; আমি বেশীরভাগ সময় প্রবাসে কাজ করাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আমার মেলামেশা ছিলো না; আধা ঘন্টা করে বসেছিলাম, ময়লা পরিবেশে লোকজন অকারণ আড্ডা দিচ্ছিলেন; প্রায়ই সবাই বয়স্ক, অনেকেই মোটামুটি বেকার ছিলেন সারা জীবন; অপ্রয়োজনীয় আলাপ আলোচনা চলে। ইউনিয়ন কমান্ডার ছিলো (২০১২ সালে) ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, সে আমার ক্লাশমেট ছিলো স্কুলে; মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক, কিন্তু যুদ্ধের সময় প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে ছিলো। আমাকে দেখে সে মহাবিপদে পড়ে যায়, আমি কিছু বুঝতে দেইনি, চা খেয়ে চলে এসেছি।
এসব কমপ্লেক্সের সামনে যদি শেখ সাহেবর ম্যুরাল/ভাস্কর্য স্হাপন করা হয়, এগুলোকে অবশ্যই ইলেকট্রোনিক্যালী কিংবা শারীরিকভাবে উপস্হিত থেকে পাহারা দিতে হবে; কারণটা আশাকরি আপনাদের কাছে পরিস্কার, দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ এসবের জন্য উপযুক্ত বলে আমার মনে হচ্ছে না। যদি এগুলোকে পাহারা দিতে হয়, নতুন কিছু চাকুরীর সৃষ্টি হবে; আর পয়সা খরচ না করে যদি এগুলোকে পাহারা দিতে হয়, সেটার দায়িত্ব দিতে হবে হেফাজত, জামাত ও শিবিরকে।
শেখ সাহবেকে আগরতলা মামলা থেকে মুক্ত করে আনেন জনতা; সেই সময় থেকে শুরু করে, ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসে, পাকী জেল থেকে ফিরে আসা অবধি উনার জনপ্রিয়তা বাড়ছিলো, বাড়ছিলো। উনি প্রাইম মিনিষ্টার হওয়ার পর, উনার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের পর উনার জনপ্রিয়তা একবারেই কমে যায়; তবে, মানুষ উনার বিপক্ষে কথা বলেনি, তখনো মানুষের আশা ছিলো, তিনি কিছু একটা করবেন, জাতি পথ খুঁজে পাবে। তিনি জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভেবেচিন্তে অবশেষে একটা প্লাটফরম গঠন করেন, নাম দিলেন "বাকশাল"; প্লাটফরমটা ছিলো, সর্বদলীয় সরকার। কিন্তু সেই সময়ে 'আমরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে কোল্ড-ওয়ার' চলছিলো; আমেরিকা মনে করেছিলো যে, শেখ সাহেব দেশে সমাজতন্ত্র কায়েম করছেন ও সোভিয়েত ব্লকে চলে যাচ্ছেন; সেই ভুল ধারণা থেকে, সিআইএ বাংলাদেশের মিলিটারীকে ব্যবহার করে, উহাকে হত্যা করে।
হত্যা করার পর থেকে ক্রমেই শেখ সাহবের জনপ্রিয়তা আবার বাড়ে, শিক্ষিতরা উনার ভুমিকা বুঝতে পারেন। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কর্মকান্ড, শেখ সাহেবের নামে এদের অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোকে মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না; আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভুল আচরণে শেখ সাহেবের সুনামের ক্ষতি হচ্ছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক অবস্হা ও সামাজিক পরিবেশে দেশের সর্বত্র গড়ে উনার মুরাল/ভাস্কর্য স্হাপনের পরিবেশ কি বিদ্যমান?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

