
দেওয়ানবাগী সম্পর্কে আগেও অনেক পোষ্ট এসেছিলো ব্লগে, উনার সম্পর্কে ব্লগের ধর্মীয় লেখকেরা সব সময় খারাপ মন্তব্য করতেন; এবার উনার মৃত্যুর পর যেই কয়টা পোষ্ট এসেছে, সবগুলোতে উনাকে খারাপ লোক হিসেবে দেখানো হয়েছে, খারাপ মন্তব্য করা হয়েছে; এক লেখক বলেছেন যে, দেওয়ানবাগী শাস্তি শুরু হয়েছে দুনিয়ায়; এগুলো হচ্ছে, পেশাগত বৈরিতা।
ধর্মে এসব সুযোগ ছিলো ধর্মের শুরু থেকেই; আমরা যে বড় বড় পীরদের নাম শুনি, উনারা কি করতেন? ব্লগের বাহিরে, পুরান ঢাকায় উনার মুরীদদের কাছে উনার গল্প শুনুন, ওরা উনার সম্পর্কে হাজার হাজার মিরাকেলের গল্প করতে পারবেন। এগুলোর কোন ভিত্তি আছে? আসলে কিছুই নেই, এটাই হাজার বছর থেকে চলে আসছে। চট্টগ্রামকে ১২ আওলিয়ার দেশ বলা হয়; এইসব আওলিয়ারা কারা, এরা কি করেছেন? এরা কোন না কোনভাবে দেওয়ানবাগীর মতো প্রফেশানেল ছিলেন, মানুষের মনসতত্ব বুঝে তাদেরকে খুশী করার মতো কথা বলতেন, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ রাখতেন, তাদের দেয়া টাকা পয়সায় নিজে ধনী হয়েছেন, অনেকে সেই টাকা থেকে অনেক লোকজনকে খাওয়ায়েছেন, এটাই আসল ইতিহাস।
আমি দেওয়ানবাগীর নামটাও জানি না; আমি উনার কিছু কার্যকলাপের গল্প শুনি আমাদের এলাকার এমপি থেকে; ২০১৪ সালে, আমাদের এলাকা থেকে যিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তিনি নির্বাচনের ১ সপ্তাহ পরে, দেওয়ানবাগী থেকে ফোন পান; দেওয়ানবাগী উনাকে ফোনে বলেন যে, এমপি'র ভবিষ্যত উনি দেখতে পাচ্ছেন, এবং উনি ইচ্ছা করলে এমপি'কে মন্ত্রী বানিয়ে দিতে পারবেন। এমপি দেওয়ানবাগীর আস্তানায় যাননি; দেওয়ানবাগী ৩য় কলের সময় উনাকে 'বোকা' বলে সম্বোধন করলে, এমপি রেগেমেগে দেওয়ানবাগীকে বলেন যে, ভুললে চলবেনা যে, উনি আওয়ামী লীগের এমপি; তখন দেওয়ানবাগী উনাকে ভয় দেখান যে, আগামীবার তুমি নমিনেশন পাবে না। আমাদের এলাকার এমপি ব্যবসায়ী লোক, তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভালোভাবে বুঝতেন।
ব্লগে যারা ধর্ম প্রচার করেন, তারা দেওয়ানবাগীকে পছন্দ না করার কারণ হলো, ২ জন ধর্মীয় ভাবনার লোকের ভাবনায় গরমিল থাকবে, বৈরিতা থাকবে; কারণ, ধর্মের কোন লজিক্যাল ডাইমেনশন নেই, ইহাকে যেজন যেভাবে নিবে, সেটাই উহার ডাইমেনশন, ইহা কোন লজিক্যাল তত্ব নয়, ইহা আদি ট্রেডিশনের সমষ্টি মাত্র।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

