somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দুস্তানের পথে পথে ০১

১০ ই জুন, ২০১৮ রাত ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বড় ইমামবাড়া, লক্ষনৌ।
কাবাব ও নবাবদের শহর লক্ষনৌর অন্যতম আকর্ষণ।

সাধারণত ইমামবাড়া বলতে আমরা বুঝি শিয়া অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান বিশেষকরে 'মাতম'র মিলনায়তনকে। সাধারণত এ উদ্দেশ্যেই বাড়িগুলো তৈরি করা হলেও লক্ষনৌর ইতিহাসটা একটু ভিন্ন।

১৮ শতকের শেষদিকে অযোধ্যা যখন দারুণ বেকারত্ব আর দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল তখন জনগণের অন্তত মাথা গোঁজার ঠাই সুনিশ্চিত করতে ১৭৮৫ সালে নির্মিত হয় বড় ইমামবাড়াটি।
অযোধ্যার চতুর্থ নবাব আসাফুদ্দৌলা/আসিফুদ্দৌলা নির্মিত বাড়িটি কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই অর্জন করে আছে লক্ষনৌর গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হওয়ার খেতাব।

দুর্ভিক্ষ পরবর্তী সময়ে নবাবরা লুকোচুরি খেলতে এর অভ্যন্তরে তৈরি করেন গোলকধাঁধার এক জটিল রাজ্য। ভুলভুলাইয়া। অনেকে আবার ইমামবাড়ার পার্শ্ববর্তী সিসি ক্যামেরা খ্যাত 'শাহী বাওলি'কেও ভুলভুলাইয়া নামে অভিহিত করে থাকেন। সিসি ক্যামেরা খ্যাত বলার কারণ এখানে বসে বহিরাগতদের পর্যবেক্ষণ, শত্রু মোকাবেলা নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত ভবণটির মূল আকর্ষণ; মধ্যবর্তী স্থানের আয়না সদৃশ স্বচ্ছ পানির কুয়া। যেখানে ফটকের প্রতিটি অবয়বই উদ্ভাসিত হয় সুস্পষ্টভাবে।

ও হ্যাঁ, একটা কথা বলতে ভুলে গেছি। ১৭৭৫ সালে নবাব আসাফুদ্দৌলা অযোধ্যার দরবার ফয়জাবাদ থেকে লক্ষনৌতে স্থানান্তর করলেও ভুলভুলাইয়ার গলিতে এমন একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করেন যেটার একদিক গোমতী নদীর তীর আর অন্যদিক ফয়জাবাদ, ইলাহাবাদ, আগ্রা হয়ে দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

এতকিছু বলার মূল কারণ, কিছুদিন আগে পরীক্ষার ছুটিতে লক্ষনৌ ভ্রমণ। পরীক্ষার আর ঈদের ছুটি ছাড়া সাধারণত ছুটি মেলে না বললেই চলে। সেই সুযোগে কেনাকাটা থেকে শুরু করে পূরণ করতে হয় সকল প্রয়োজন। ভ্রমণসঙ্গী আর পর্যাপ্ত টাকা হলে হয়ে যায় ছোটখাটো ট্যুরও।

ভারতের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম ট্রেন। এর বাইরে লম্বা ভ্রমণ কল্পনাতীত। এবারের ভ্রমণের সিংহভাগজুড়েই ছিল বাসের উপস্থিতি। মাঝে দুইদিনের বিশ্রাম সহ টানা ৮ দিনের ভ্রমণ। আজমগড় থেকে শুরু করে সাহারানপুর, দেওবন্দ, শামেলি, কিরানা, পানিপথ, দিল্লি, বান্ধা, কানপুর, লক্ষনৌ হয়ে আজমগড়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন...

ছবি তোলার স্থানঃ ভুলভুলাইয়া তৃতীয়তলা।
ভ্রমণকালঃ ৬ ডিসেম্বর ১১:৩০(ভারত)

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৮ রাত ৩:১৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক সংকট: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫২

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর। এই স্তরেই শিশুর ভাষা, গণিত, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও জীবনদক্ষতার ভিত নির্মিত হয়। যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা যত শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতি, সামাজিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×