somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“আর ৫ মিনিট”

১২ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“আচ্ছা ভাই নভো-থিয়েটারটা যেন কোন-দিকে?”
“চিনি না।”
পাশের থেকে একজন বলে উঠল- “হেইডা আবার কি?”
“ঐ যে ছবি-তবি দেখায় যে; বড় একটা গুম্বুজের মত আছে...”।
রিক্সাচালকগণ মুখ ঘুরিয়ে আগের মত পরম তৃপ্তিতে বিড়িতে সুখটান দিতে লাগলেন। তখন মাত্র সকাল ১০.০৫। কোনো সাইনবোর্ড আছে কিনা দেখলাম। নেই -আমাদের দেশে প্রয়োজনে সাইনবোর্ড আর ডাস্টবিন খুঁজে পাওয়া যে দূরহ তা আমি আগেই টের পেয়েছি। আশে-পাশে ঐ পেশার লোকজন ছাড়া আর কেউ নেই। ১১টা নাগাদ গন্তব্যে পৌছালেই হবে তাই তেমন কোনো তাড়া নেই। ভেবেচিন্তে বললাম- “আশেপাশে কোনো যাদুঘর চেনেন?”। এবার তাদের একজনকে কিছুটা আগ্রহী মনে হল-“ও হেইডা...আহেন”। আমি আর মেহেদি রিক্সায় চড়ে বসলাম। বসন্তের ফুরফুরে হাওয়া বইছে তাই রোদের প্রকোপ তেমন কড়া মনে হচ্ছে না। রিক্সা এগিয়ে যাচ্ছে আমি আর মেহেদি গল্প করেই যাচ্ছি। এর মধ্যে শুভকে কল করলাম- “কিরে এখনো তুই মতিঝিল? আমরা তো নভো-থিয়েটারের একেবারে দোরগোড়াঁয়”। লাইন কেটে আমি আর মেহেদি হাসিতে লুটোপুটি- শুভকে একটু টেনশানে রাখলাম এই যা। একটু পরেই প্লাবনের ফোন- “কিরে তোরা কই? লোক ছাড়া তো টিকিট বিক্রি করবে না...তাড়াতাড়ি আয়”। “ও.কে, এইতো আর ৫ মিনিট”।


রিক্সা থামল - যেখানে নামলাম তা মোটেই নভো-থিয়েটার টাইপের কিছু নয়। সামনে মস্ত ডাইনোসরের প্রতিকৃতি; আমরা তখন বিজ্ঞ্যান আর প্রযুক্তি যাদুঘরের সামনে। আমার যতদূর মনে আছে নভো-থিয়েটারের পাশেই সামরিক যাদুঘর ছিল।
যাদুঘরের কথা বলায় রিক্সাচালক আমাদের বিজ্ঞ্যান আর প্রযুক্তি যাদুঘরের সামনে নিয়ে এসেছে, তাতে রিক্সাচালকের খুব বেশি দোষ দেখছি না। এদিকে যে আরেকটি যাদুঘর আছে তা আমার একেবারেই খেয়াল ছিল না। নিজের নির্বুদ্ধিতার জন্য নিজেকে মনে মনে গালাগাল দিলাম। এবার পুরোপুরি নিজকে ভাঁড় মনে হতে লাগল। আশেপাশের কয়েকজন পথচারিকে জিজ্ঞেস করতে তারা এমনভাবে তাকায় দেখলে মনে হয় তারা ভাবছে- “এরা কোন গ্রহের লোক”। কিন্তু আমি অবাক না হয়ে পারলাম না, সেখানকার কেউই নভো-থিয়েটার চেনে না? এটা কেমন করে হয়? আমরা নিশ্চয়ই অনেক দূরে চলে এসেছি। এবার একটু টেনশানে পড়ে গেলাম কারণ সময় তখন ১০.৩৫ এর মত। ভাগ্য এবার সুপ্রসন্ন মনে হল যখন একজন লোক আমাদের ভাঁড় প্রমাণ করে দিয়ে হাসতে হাসতে বললেন-“নভো-থিয়েটার তো বিজয়স্মরণীতে, এখানে কী খুঁজেন?” এই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে আবারো প্লাবনের ফোন -“কিরে তুই কই?”। “আর ৫ মিনিট”- মুখ দিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বের হল না।


রিক্সাচালককে অনুরোধ করতে সে আমাদের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে নামিয়ে দিল। মনে মনে স্মৃতিশক্তির সাথে লড়াই করছি। এইতো মাত্র বছর দেড়েক আগে ঘুরে গেছি নভো-থিয়েটার থেকে- এরই মধ্যে ভুলে গেলাম। বুঝতে বাকি থাকল না যে আমার স্মৃতিশক্তি শুধু পরীক্ষার খাতাতেই ফেল মারে না, অন্য জায়গাতেও মারে। এবার একটা বুদ্ধি আসল মাথায়, যা আরো অনেক আগেই আসার উচিৎ ছিল- শিমনকে কল করলাম। একঝাঁক কথার ভিড়ে সে আমাকে লোকেশনটা বলে দিল। চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বিজয় স্মরণী হাঁটার পথ খুব একটা বেশি না হলেও সময় যখন ঘাড়ে চেপে বসে আছে তখন এই সল্প দৈর্ঘ্যের পথ চলাও নিতান্ত সহজ নয়। কতটুকু হেঁটেছি জানি না- মাথায় তখন সময়ের তাড়া। কিছুদূর হাঁটার পর একটা রিক্সা নিলাম। রিক্সায় উঠতে না উঠতেই রিক্সাচালক তার দন্ত বিকশিত হাসিতে জানালেন আমরা পৌঁছে গেছি বিজয়স্মরণীতে এবং রিক্সা আর যাবে না। আবারো ভুল- বেশিরভাগ পথ আমরা হেঁটেই পার করে ফেলেছি রিক্সার প্রয়োজন ছিল না। কথা বাড়াবার সময় নেই- ঘড়িতে তখন ১০.৫৫। হাতে সময় আর মাত্র ৫ মিনিট। আমরা ১০.০৫-এ এখানে ছিলাম ১০.৫৫-তেও একই জায়গায়। ফিজিক্সের ভাষায় আমরা আসলে কোনো কাজ করি নি। ব্যাপারটা কি বাস্তবেও তা-ই?


আবারো হন্টন। শিমন কল করল-“আমি তোদের জন্য টিকিট কিনে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি...তোরা আয়...আর কতক্ষণ?”। আমার সেই একই জবাব -”আর ৫ মিনিট”।
৫ মিনিট অবশ্য লাগল না। ৩ মিনিটেই পৌছে গেলাম। ঘড়িতে তখন ১০.৫৮ শিমন রোদের মধ্যে দাড়িঁয়ে আছে- হাতে দুটো টিকিট। প্রথমেই সে যা বলল তার সাথে আমি একমত না হয়ে পারলাম না- “তুই একটা আস্ত গাঁধা”। এই যাত্রায় বেঁচে গেলাম। ১১.০০ টায় নভো-থিয়েটারের শো শুরু হবার কথা থাকলেও একটু দেরীতে শুরু হল। পেছনের জায়গা সব দখল, সামনের দিকেই বসতে হবে। অন্ধকারে আমার পাশে কে ছিল খেয়াল করি নি। পাশ থেকে বলল- “তুই এখন নভো-থিয়েটারের একেবারে দোরগোড়াঁয়”। কন্ঠসর শুনে বুঝতে পারলাম আমার পাশে শুভ।
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×