রাস্তায় বের হলেই খানাখন্দ ১০ মিনিটের রাস্তা ১০০ মিনিট এ আর এমন কি শুণ্যই না হয় একটা বেশী,তাতে কি এসে যায়। সব কিছুই আমাদের গা সওয়া; দেশ যাচ্ছে গোল্লাই যাক, তাতে আমার কি এসে যায়।
রাস্তায় বের হয়ে যখন কমড় ব্যথা তখন হালকা গালিগালাজ করি সরকারের, রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাড়িয়ে এককাপ চা খেয়ে ভুলে যাওয়ার যাত্রার ক্লান্তি। তা ছাড়া আর উপায় কি বল। আমরা পারিই বা কি করতে!!!!
পাশের বাসার নন্দ কানাই মানুষ বটে, সেই রকম চালু মাল, কদিনেই কোটিপতি, নন্দ কানাই মাঝে মধ্যে দাওয়াত করে আত্মীয় স্বজনদের; প্রতিবেশী হিসেবে আমরাও যায় আপ্যায় করে খারাপ না। দানেও তার হাত বেশ যেখানে সেখানে দু'চার পাচশত টাকা ঢেলে বসে। রাজনীতিক বটে। ক্ষমতায় তার উপর কে আছে কথা বলার এলাকায় তারা কথায় সব উঠে বসে, গণ্য মান্যব্যাক্তিরা সালাম করে দিতে দশবার।
ওপারার সন্টু মিয়ার ছেলে সরকারী চাকুরি জীবি, বেতন বেশ হাজার তিরিশেক, ২বছরে ৩তলা বাড়ী। ইস যদি তাদের সাথে আত্মীয়ের কোন সম্পর্ক করা যেত, কতই না ভালো হত।
যাক এত কথার দরকার নেই মূল কথা বলি।
গত বৃহষ্পতিবার পেনসিল দিয়ে লিখছিলাম, হালাকা চাপেই মাথাটি ভেঙে যাচ্ছিল, লেখাও থ্যাবড়ানো। পেনসিল চুকনি বা সার্পনার দিয়ে চুক্কানোর সময় দুই বার ভেঙে গেল, মনে মনে বেশ বিরক্ত হলাম। স্টোরকে ফোন দিয়ে বললাম, একটা ভালো পেনসিল দেয়া যাবে কি?? উত্তর আসল স্যার আমাদের এটা সবথেকে ভালো পেনসিল, অন্যান্য অফিস থেকে সেরা। বললাম তা হলে অনেক দিন পেনসিলে লেখার অভ্যাস নাই তাই হয়তো এ দুরাবস্থা বার বার ভেঙে যাচেছ। কৌশলে বললাম, আমার একডজন কেনা দরকার, বাচ্চার লেখার জন্য, বলল স্যার দেখে বলি সিস্টেম থেকে। প্রতিবক্স ৮৫টাকা করে। বাহ দারুন। আমি আমার বাচ্চার জন্য ৬৫টাকা বক্স পেনসিল কিনি যেটি এ পেনসিল থেকে শতগুন ভালো।
চুপচাপ পেনসিল কামড়ে বসে ভাবছি এটা যদি হয় বেসরকারী অফিসের চিত্র; ৩টাকার পেনসিল ৮.৫টাকায় কেনা যেখানে ধরা পড়লে চাকরী হারানোর ভয় আছে, সেখানে ঘুষ দিয়ে চাকরী জুটানো সরকারী দপ্তারের অফিসগুলির কেন ১৫শ টাকার ফ্যান ২.৫লাখ টাকা হবে না। কেনই বা রাস্তা ভাঙা চোড়া থাকবে না!!! এটা তো আমাদের অধিকার।
সবার আগে বুকে হাত দিয়ে আমরা কখনও ভাবি না আমি কতটা ভালো। যে জাতি লিফটে লাইনে দাড়াতে নারাজ সে জাতি আমরা কতটা সভ্য সেটিই আসলে বিবেচ্য।
সরকারী দপ্তরগুলিতে চাকুরী করে আমাদেরই দেশের জনগন, কারো আত্মীয় স্বজন, কারো প্রতিবেশী। রাজনীতিবিদও তাই। আমরা কখনও তাদের প্রতিবাদ করতে জানি না। প্রতিবাদ মানে শুধু মখে বলতে হবে বাধা দিতে হবে এমনটা নয়। সামাজিক ভাবেও করা যায়।
একজন ব্যাংকার যখন পুলিশ বিভাগে গিয়ে হয়রানি হয় তখন সে বিভাগের গালিগালাজ করে, পুলিশ যখন কাস্টমস এ যায় কাস্টমস এর গালিগালাজ করে, এভাবে আন্যকে গালিগালাজই করি শুধু। নিজে কখনও সুধরাই না। মনে রাখা উচিত আপনি আজ যাকে যয়রানি করলেন আগামীকাল তার কাছে হয়রানির স্বীকার হবেন। আজ আপনি অবৈধ পথে টাকা ইনকাম করে যাচ্ছেন আগামী দিনে আপনার সন্তান কি পারবে আপনার সম্পদ ধরে রাখতে??? আপনার সন্তানও হয়তো আগামীতে আপনার মত কারো কাছে হয়রানির স্বীকার হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


