somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার হারিয়ে যাওয়া জলচৌকির গল্প - আর 'যেমন খুশি সাজো'র মেলা

১২ ই আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের কত যে শব্দ তৈরী হয় মনের ভেতরে -তার কিছু বলি আর কিছু গোপন করে যাই ... ভদ্রতা আর অনাকাঙ্খিত বাস্তবতার মুখোমুখি হবার ভয়ে ... কতবার মনে হয়েছে একটি জায়গাও যদি থাকতো অন্তত বাছবিচারহীন প্রকাশ করতে পারতাম ইচ্ছেমতো আমাদের ইচ্ছের কথাকে ...আমার মনে হয় বেচে থাকার অজস্র্য পরাধীনতার মধ্যে এতটুকু স্বাধীনতা থাকলেও তবু বেচে যেতাম - এতটুকু স্বাধীনতা একজন মানুষ পেতেই পারে ... নূন্যতম শব্দের নিঃসংকোচ প্রকাশের। এটিকে নাহয় নিছক শব্দ হিসেবেই শুধু নেয়া হোক ...অন্য অর্থে নয়... এমনকি সে সেটা করবে এ অর্থেও নয়... আমরা কয়েকবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে সপ্তাহে দুই তিন দিন বই, গান আর কি কি সব বিষয় নিয়ে একসাথে কিছুটা সময় কাটাতাম ... আমরা সেই ঘরের কোনে একটা ছোট জলচৌকি পেতে সবাই মিলে ঠিক করলাম এই জলচৌকির উপর দাড়িয়ে যে যা খুশী মনে হয় তাই বলতে পারবে ... আইন হলো 'বলার জন্য সে দায়ী নয়'- আমরা খুব উৎসাহ নিয়ে শুরু করলাম ঠিক কিন্তু প্রথমবারই সেই চৌকির উপর দাড়িয়ে বলতে গিয়ে দেখি ... বলতে পারি না ... নিজেই নিজের বলাকে থামিয়ে দিয়েছে - ভয় - প্রকাশের ভয় - লজ্জ্বার ভয় ...এই জলচৌকির বাইরে, এই চৌহদ্দিকে আরো দুর সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারি এই ভয়ে ... এইটুকু সময়কে আর অন্য সময়েও বয়ে নিয়ে বেড়াতে পারি এই ভয়ে... , কোথাও গিয়ে চুক্তির সীমানা লঙ্ঘন করে হটাৎ অতর্কীত মনে পড়ে যেতে পারে সেই শব্দগুলো ... আমরা ভয় পেয়ে যাই আমরা আমাদের মনে রাখবো এই ভয়ে। সেদিন এর পর থেকে আমরা আর দ্বিতীয়বার এই জলচৌকিতে দাড়িয়ে শব্দখেলার প্রসঙ্গ মুখেও আনে নি... জলচৌকি অবহেলায় পড়ে ছিলো মাস দেড়েক... কেউ ওর দখল করে রাখা কোনাটির দিকেই যায় নি পাছে শব্দ বলার কথা মনে পড়ে.. ধূলো ময়লা মেখে জলচৌকি পড়ে ছিলো মাস দেড়েক ... এরপর তার ঠিকানা হয় আস্তাকুড়ে ...আপনাদের এখানে লেখার সব ব্যাপার স্যাপার দেখে মনে হলো এ বুঝি সেই আমাদের হারিয়ে যাওয়া জলচৌকিটা - এতদিনে আবার ফিরে এসেছে ... আরো গোটা বছর কয়েক পরের আরেকটি স্মৃতি বুকে ধরে ... আমি তখন বেশ ঘুরে টুরে বেড়াই... আজ নদীর চরে , কাল অজানা অচেনা কোন মফস্বল শহরে, ঘুটঘুট্টি অন্ধকার রাতের নিশুতি গ্রামে এখন তো পরমূহুর্তে বাসে, ঘুম ভাঙে পাহাড়ে তো রাত নামে জেলে নৌকায় ... এমন সব উৎরোল দিনের বিশেষ কয়েকটি দিন কেটেছিলো নিজের সঙ্গে নিজের আজব এক খেলায়... এর শুরুটা হয়েছিলো শরীয়তপুরের এক চরে - আমি যখন সেখানে নামি তখন বেলা দুপুর- একজন আমার নাম জানতে চাইলে হটাৎ কি যে মনে হলো - নিজের নাম পাল্টে বললাম আমি অরিন্দম - লোকটা আমাকে দিব্যি অরিন্দম নামে ডাকতে লাগলো ... আমিও তার সাথে চলতে লাগলাম অরিন্দম হয়ে - চলতে চলতে আমি সব আজব কথা বলতে লাগলাম নিজের সম্পর্কে... যা বাস্তবের অর্থে সত্যি ছিলো না- কিন্তু নিজেই এর একধরনের অস্তিত্ব টের পাচ্ছিলাম নিজের মধ্যে- আরেকটি মজার ভাবনার জন্ম হয়েছিলো ঐ মূহুর্তে - এখানে আমি সম্পূর্ন নতুন ইমেজে গড়তে পারি নিজেকে - দেবতার মতো - দানবের মতো - যা খুশী তাই ... কেউ এসে তুলনা করবে না আমার প্রতিষ্ঠিত নামের অতীতের মূর্তির সাথে- আমি কখনও রাগী কখনও গালিবাজ বখাটে ছোকরা- কখনো আর কখনো ধর্মহীন নাস্তিক যুবক আবার কখনো শরীয়তের রাস্তায় সপে দেয়া বিশ্বাসী তরুন- (তখন বয়সটা ছিলো এমনি যে মুখের ভাবের আর চলার ভঙ্গীর খানিকটা হেরেফের ঘটালেই ছোকরার তারল্যে ডুব দেয়া যায় আবার যুবকের গাম্ভীয়র্্য মুখে এটে চলা যায়) .. নাম কখনো শরীফ কখনো বাবু , কখনও অ্যালবাট, নিজাম, মিজহান, মাসুদ, গৌতম, পিনাকী... যেমন খুশী সাজার অন্তহীন তিনদিনের যাত্রায় একদম অচেনা ভুবনে ঘুরে বেড়ানোর পর হুট করে সামনে এস পড়লো কুমিল্লা যেখানে আমার অনেক বন্ধু আছেন.. যারা আমাকে চেনেন তিল তিল করে গড়ে তোলা নির্দিষ্ট আয়নায় ... আমি আর পারি না নিজেকে নতুন নতুন রূপে সাজাতে... ঐ বন্ধুদের চেনা মুখের ভয়ে - আমি হারিয়ে ফেলি নিজেকে আবিস্কারের উম্মাতাল অভিযান এরপর ... এখানে এই ব্লগে অনেকের লেখাগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়েছে এই বুঝি সেই যেমন খুশি সাজোর মেলা ... আহা বেশতো ... আমরা শব্দে শব্দে নাহয় খেলি আমাদের গোপন পৃথিবী.... ঐ গালিবাজ লোকটা রক্ত মাংসের দুনিয়ায় হয়তো শ্রেষ্ঠ ভদ্রলোক, আক্রোশে ফেটে পড়া লোকটা হয়তো মুখ ফুটে কথা বলতেই পারেন না সবার সামনে, হুমকিতে নিষ্ঠুর লোকটার মতো নরম লোকটি আর কোথাও দেখেছেন আপনি?... আর আপনাকে ধুয়ে দেয়া লোকটি হয়তো আপনার বিপদে সবার আগে ঝাপিয়ে পড়া বন্ধুটি... আপনি হয়তো আমাকে বধ করার শব্দ ছুরিতে শান দিচ্ছেন আমার কথা শুনে - আমি আপনার কথাকে স্তব্ধ করে দিতে চাই আপনার কথা বলার অধিকারকে বুকে ধরে ....
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রক্তের গ্রুপ বৃত্তান্ত; জীবন রক্ষার স্বার্থেই জেনে রাখা দরকার রক্তের গ্রুপ

লিখেছেন নতুন নকিব, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৪

রক্তের গ্রুপ বৃত্তান্ত; জীবন রক্ষার স্বার্থেই জেনে রাখা দরকার রক্তের গ্রুপ

ছবি সংগৃহীত।

বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। দুই পরিবার আনন্দে ব্যস্ত। বর ও কনে দুজনেই সুস্থ, শিক্ষিত, স্বাভাবিক জীবনযাপনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাল হাদিস ধরার একটি এপ্লিকেশনের আইডিয়া নিয়ে কাজ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩২

জাল হাদিস ধরার একটি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এপ্লিকেশন বানানোর ছক আঁকার পরে এখন ইনভেস্টর খুঁজছি। দিন কয়েক আগের ঘটনা। সামুতে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম, অসুস্থ্য থাকায় আল্লাহর নির্দেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

ছবি সংগৃহিত।

অংশ ১: ভূমিকা এবং রোজার মূল উদ্দেশ্য

ইসলাম কোনো আংশিক বা বিচ্ছিন্ন জীবনদর্শন নয়। বরং এটি মানবজীবনের প্রতিটি স্তরের জন্য একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় খুব দরকার ...

লিখেছেন অপলক , ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



বিগত সরকারগুলো যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টা বছর যোগ্য এবং শিক্ষিত শ্রেনীর হাতে সরকার ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী। গোমূর্খ চাঁদাবাজ আর নারী লিপ্সুদের ভীড়ে জামায়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×