'কিভাবে আমি গ্রহ তারকার রহস্য নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারি যখন চোখের সামনে সমাজে অন্যায় বিচার দাসত্ব ও শৃঙ্খল বিদ্যমান' -
পিথাগোরাসের প্রতি অ্যানক্সিমিনিস
অ্যানাক্সিমিনিসের জুৎসই প্রশ্নের সামনে পিথাগোরাস কি উত্তর দিয়েছিলেন তা অবশ্য আমার জানা নেই কিন্তু-
এ তক্ক সজ্জন সমাজদরদী আর মনস্ক জ্ঞানতাপসদের মধ্যে দিনরাত্তির চক্রাবর্তের মতো ঘুরপাক খাচ্ছে - শুধু দিবানিশি
দিবানিশি নিশিদিবা পাকঘুর ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু সমাধান আত্ম দুর অস্ত।
একসময় হলে বলতাম- 'দিলি্ল দুরঅস্ত '-
এযুগে মানুষ চাদে জমি বিকিকিনি করে এখন যদি বলি দিল্লী দুরঅস্ত -
তবে সবাই মিলে গর্তবাসী ছুচো ইন্দুর বানিয়ে ফেলতে পিছপা হবেন না।
এমনকি চাদ সূর্য্যের গন্ডি পেরিয়ে আরো পুলস্ত্য অগস্ত্য আরো সব জটিল কুটিল নক্ষত্রের নাম নিবো তাতেও কলজে কাপে -
পাছে আধূনিক এবং আধূনিকা জ্ঞানে বলীয়ান বিদূষী ব্লগারগন হা রে রে রে রে রে করে তড়পে আসেন -
হা মূখূ্য - এ আর এমন কি দুর হলো - দূর হলো তকৃুাি্হুিঅৃগড়ু'ি;দুিদুা -
গোলেমেলেমেলেবৃত্ত টাইপের এমন এক শব্দ উচ্চারন করলেন যার নৈকট্যবতর্ী কোনকিছুও- আমি কষ্মিতকালেও শুনিনি -
হাল জমানার বিজ্ঞানের তথ্যের উপর আমার আস্থা বড়ই চিকন -
ওটা নারীর হৃদয়ের মতিগতির বিচিত্র রেখা থেকেও অগোম্য - আজ এই বলেন তো কাল বলেন আরেক, এখন আর দিনের হিসাব নেই - এখন সময় মাপা হয় ক্ষনের হিসাবে।
একটা প্ল্যনিং শিট দেখেছিলাম সেদিন মার্কেটে - প্রতি মিনিটের হিসাব ছিলো তাতে - এখনকার কলমগুলোও নিশ্চয় সুপারসনিক গোত্রের - নতুবা প্রতি মিনিটের কার্যকলাপ টুকতে টুকতেইতো সময় পার হয়ে যাবার কথা -
তা আমিও সুপারসনিক হওয়ার চেষ্টা করছিলাম তো এমনসময় আলট্রাসোনিক বেগে সোয়া তিন বছরের ভাগ্নে এসে জিজ্ঝাসা করলো প্যারাডক্সমানে কি? আরে প্যারাডক্স মানে বুঝলি না -
মুশকিল হলো আমার কাছে জীবনটাকেই একটা মস্ত প্যারাডকসো মনে হয়। আমি বেমালুম বলে দিলাম
- প্যারাডক্সমানে বেচে থাকা - দ্য লাইফ।
ভাগ্নেতো দৌড়োলো কিন্তু আমি নিজে তো আর দৌড়ে পালাতে পারি না- দৌড়ের ঝটিতি প্রেসারে ভলেই গিয়েছিলাম ভাগ্নেটার উপর বেশ একটা দশাশই আধূনিক বাণী বর্ষন করিবো - ক্ষনের কাজ ক্ষনেই করিবে- দেয়া হলো না -
নিজের অচল কলকব্জাগুলোর উপর বেজার থাকার উপায় কি? ইদানিংকার এক লারেলপ্পা চেকনাই গোছের মার্কেটিয়ার এসে হাজির
- এটা হলো ব্রিটানিকার লেটেস্ট এনসাইক্লোপেডিয়া - আমি আতকে উঠি না না না না ও আমার আছে
সে কি আর শোনে - পেল্লায় হাসি মুখে তুলে বললো
- থাকবে কি করে এতো এইমাত্র বের হলো - আপনার জন্য
বলে কি ছোকরা। ব্রিটানিকা কেবল আমার জন্য এই পেল্লাই সাইজের এনসাইক্লোপেডিয়া বের করেছে - আমি নিজেকে মহাত্মন মনে না করে পারি না - মাত্র 1000 টাকা বাইরে কিনতে গেলে দুই এর কমে পাবেন না।
টাকার কথায় আমি দমে যাই। পৃথিবীতে দুটো আনন্দদায়ক কষ্ট আছে - এক টাকা কামানো আর দুই বউ বিহার কিন্তু এ দুটোর থেকে শ্রেফ চৌদ্দ হাত দুরে থাকি... কেনা জানে পৃথিবীতে সব যুদ্ধর পেছনে আছে এক টাকা নয়তো নারী।
কিন্তু আমিতো মাত্র গতমাসেই কিনলাম - মিউ মিউ স্বরে আমি ছোকরাকে কাটানোর চেষ্টা করি -
কিন্তু সেও কড়া মার্কেটিয়ার -
কেলো হাসি হেসে আমার দিকে একতাল অবজ্ঞা ছুড়ে দিয়ে বললো - গতমাস -এরপর চার চারটে অ্য্যডিশন বেরিয়ে গেছে।
- আগেরটুকুই তো পড়া শেষ হয় নি- ওগুলোই আগে শেষ করে নেই
- আরে কি বলেন - আপনার সময়ঠাই লস ইজ্জৎটাও লুট
এানে? আমি ওর কথা বুঝতে পারি না_
ওই ব্যাকডেটেড বই পড়ে যত ভূলভাল জানবেন আর সেটা বলতে গিয়ে সবার কাছে হাস্যস্পদ হয়ে যাবেন - আপনি কি এটা চান?
আমার মাথা বন বন করে ঘুরছে- এরোপ্লেনের ( আমি রকেটের যুগে বাস করছি বঠে মনটা আবার এরাপ্লেনের চেয়ে উপরে উঠতে পারে না) প্রোপেলারের মতো
- তাহলে আমাকে প্রতি সপ্তায় একটা করে ব্রিটানিকা নতুন করে কিনতে হবে ( পড়ার ভয়ের আগে পকেটের কথাই মাথায় এলো আগে) - আমি যে জ্ঞানের রাস্তায় ভিখিরি হয়ে যাবো-
কে জানি বলেছিলো দুটো পয়সা থাকলে এক পয়সা দিয়ে রুটি আর আর এক পয়সা দিয়ে বই -
সেই এক পয়সার কাল চলে গেছে এখন মিলিওনারের যুগ, কিন্তু কোথায় যেন গোলমাল ঠেকছে...
লাইনটায় বই এর বদলে ফুল হবে বোধহয়..না এটা না আর একটা লাইন ছিলো - আজকাল আর কিছুতেই মানুষের নাম মনে থাকে না - এখন সিরিয়াল নম্বরের যুগ -
সব লেখকদেরও একটা সিরিয়াল নম্বর থাকলে ভালো হতো - বুঝতে সুবিধা হতো - তবু .. হ্যা মনে পড়েছে (সেকেলে বলে বোধহয়) উমর সাহেব মানে উমর খৈয়াম স্বর্গের কল্পনা করছেন ... সেখানে তার সাথে মদ, প্রিয়া আর বই-
আমি একটু নরম হই - আর যাই হোক স্বর্গের একমাত্র বৈধ এলিমেন্ট (আমাদের দেশে প্রিয়ে ব্যাপারটায় বেশ ঝক্কি আর বন্ধুরা বলে বিয়ে করলে নাকি প্রিয়ে আর প্রিয়ে থাকে না যেহেতু খৈয়াম সাহেবও স্বর্গে বউ এর কথা বলেন নি আর মদ্য.. যে সত্যিই আত্ম দুরঅস্ত) -
ও হ্যা মনে পড়েছে আমিতো আত্ম দুরঅস্ত নিয়েই বলতে শুরু করেছিলাম -
ইন্টারন্যানেটের যুগে এই এক বাতিক - কোথা থেকে কোথা, বিষয়ের কোন সড়ক টড়ক নেই সবই গলি ঘুপচি -
কিছুুক্ষন একপথে চলা বড় দুষ্কর- তা যা বলছিলাম ,
গোস্তাগী করলে আমার উপর নয় যুগের উপর করুন, টাইম আর ক্লাইমেটটাই এমন কেমন বিগড়ে দেয় সবকিছু -
বিগড়ানো মাথা ঠান্ডা করতেই দেখি তক্কো বিলকুল জমে উঠেছে -
সেখানে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিদিনকার (সর্যি,প্রতিক্ষনের) মারাত্মক মারাত্মক সব তত্ত্বঅস্ত্র প্যাচে একে একে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন আর উঠছেন সব পান্ডব আর কৌরব বীরেরা ..
সভয়ে নিজেকে একটু পেল্লায় আড়ালে রাখি কিছুক্ষন - নিজেকে নিয়ে - এইসময়টুকুই ওকে এই কলিক্ষনে দেয়ার উপায় নেই - তাইতো বলি আত্মদুরঅস্ত - নিজেই নিজের সবচেয়ে দুরে।
কিন্তু সমস্যা হলো আমি যে কথাটা বলে শুরু করেছিলাম তার খেইটা বেমালুম গিলে খেয়েছি -
যদি কখনো মনে পড়ে ( সম্ভাবনা কোথায় যে নতুনের চাপে পুরোন মাথা চাগাড় দেবে!) বলবো আরেকদিন।
তবে এটুকু সাদা চোখে চেখে দেখা যায় পিথাগোরাসের তত্ত্ব সমাজের বেমালুম কাজে লাগাচ্ছি। জয়তু পিথাগোরাস। তার অন্য অনেককিছু আপনাদের পছন্দ না হলেও, ঠিক যেমন বালজাক - থাক সেই গল্প আরেকক্ষন ...
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




